এটাই টেস্ট ক্রিকেট, এটাই আসল ক্রিকেট

টেস্ট ক্রিকেটটা হলো অন্ধকার একটা টানেলে সামনে কী আছে না জেনে হাতড়ে সামনে এগোনোর মতো। ওভারের পর ওভার, ঘন্টার পর ঘন্টা, সেশনের পর সেশনে রহস্য ধীরে ধীরে উবে যেতে থাকে, একপর্যায়ে আলোর দেখা মেলে সমুদ্রে লাইটহাউস দেখার মতো করে। আলেয়ায় বিভ্রান্ত হবার ভয়ও থেকে যায়।

একে মোকাবেলা করতে হয় চাতুর্য আর চারিত্রিক দৃঢ়তা দিয়ে। শুধু সুযোগের আশায় বসে থাকাই টেস্ট ক্রিকেট নয় বরং এটা জ্ঞান, ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং নৈপুণ্যের অপূর্ব মিশেল। আপনাকে এটা জানতে হবে কখন দৌড়াতে হবে আর কখন হামাগুড়ি দিতে হবে। পরিস্থিতির চাহিদাটাকে বুঝে খেলতে জানতে হবে।

ইটের উপর ইট বসিয়ে একটা বড় দালান বানিয়ে ফেলার মতো ব্যাপার এই টেস্ট ক্রিকেট, যাতে পরিশ্রম তো বটেই, এর পাশাপাশি পরম যত্ন এবং আন্তরিকতার দরকার পড়ে। যাত্রা যতো কঠিনই হোক আপনার নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণটাকে ধরে রাখতে হবে। এ ফরম্যাটটা আপনাকে ঘামিয়ে দেবে, রক্তাক্ত করবে, সাহসের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেবে অনিশ্চয়তা দিয়ে।

টেস্ট ক্রিকেট ভেতরের মানুষটাকে বাইরে টেনে আনে, এবং তার নিজের মতো করে খেলায়। একই সাথে, টেস্ট লোভ সংবরণের খেলা, উল্টোপাল্টা পদক্ষেপ না ফেলার খেলা। কাজ সহজ মনে হতে পারে, পথটা পিচ্ছিল না মনে হতে পারে কিন্তু লোভে পড়ে সে পথে এগোনো চলবে না।

এমন নিয়মানুবর্তিতাই আপনাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথটাকে মসৃণ করে দেয়, একই সাথে আপনাকেও ঋদ্ধ করে।

এটাই টেস্ট ক্রিকেট, এটাই আসল ক্রিকেট!

__________

লেখাটি কোচ ও বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিমের ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত। অনুবাদ করেছেন নেয়ামত উল্লাহ।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।