এখন আমি অভিজ্ঞ: সুজন

নতুন বছরে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, মঞ্চ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশিয় সিরিজ। সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে হাজির দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন।

নতুন বছর, নতুন সিরিজ। পরিকল্পনা কি?

নতুন একটা বছর, নতুন একটা সিরিজ আমাদের জন্য। আর আমরা তো ভালো করার জন্যই কদিন অনুশীলন করলাম।   আমরা মনে করি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত। এই টুর্নামেন্টে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।

প্রস্তুতি কেমন দলের?

আমরা স্পেসিফিক কিছু কাজের প্রতি  নজর দিয়েছিলাম। আমরা বেশ ভালো প্রস্তুত। যে সব বিষয় নিয়ে কনসার্ন ছিল আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পেরেছি। ছেলেরাও সব কিছুতে সমর্থণ করেছে, সবাই একাগ্র। আমরা যা করতে চেয়েছি, সেটা পেরেছি। যদিও প্রথম সপ্তাহটা আমাদের স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনের উপরে ছিল। তারপর পেস বোলার নিয়ে ওই সময় কাজ করেছি। যেটা আমাদের কনসার্ন ছিল নতুন বলের বোলিংটা। উইকেট নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যেকোন ফরম্যাটে। বোলারদের সঙ্গে কাজ করে চেষ্টা করেছি যত টাইট আমরা রাখতে পারি লাইন এন্ড লেন্থ।

পেসারদের কাছ থেকে বাড়তি কোনো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?

স্পিন আমাদের শক্তির জায়গা। সেইসাথে পেস বোলাররা আমাদের জন্য চালিকা শক্তি। আমরা ত পাঁচজন স্পিনার নিয়ে খেলতে পারব না নিশ্চয়ই। তো পেস বোলিংটা অনেক গুরুত্বপূর্ন। পেস বোলিংয়ে আমাদের বৈচিত্র্য আছে। অভিজ্ঞ মাশরাফি লিড দিবে। যারা আছে সবাই ভিন্নরকমের বোলার। পেস বোলারদের থেকে আমাদের চাওয়ার আছে আসলে। হয়তবা ছোট ছোট জায়গায় ভাল করেছি। কিন্তু ধারাবাহিকতার জায়গায় যদি বলেন ফাস্ট বোলাররা ভাল করেনি।’

রুবেল কি ফিট?

ইমরুল ছাড়া কালকের ম্যাচের জন্য সবাই এভেইলেবল।

স্পেসিফিক কি কি বিষয় ছিল?

মোর টেকনিক্যাল বিষয় ছিল। ভেরিয়েশনের ব্যাপার ছিল, স্লোয়ার, বাউন্সার সব কিছু নিয়েই কাজ করেছি। দুএকজন বোলারের স্যুয়িং নিয়ে কাজ করেছি। হয়তবা কাজটা আরও আগে থেকে করতে পারলে আরও ভাল হত। স্কিল তো সবার আছে, কিন্তু পরিস্থিতিতে কে কতটা কাজ করতে পারে ওটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কন্ডিশন যেহেতু একটু ডিফিকাল্ট। কুয়াশা পড়ছে, রাতের বল একটি কঠিন হয়। ওই সময়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক যে লেন্থে বল করি সকালে একরকম, সন্ধ্যায় আরেকরকম করতে হবে।

তিনে কে খেলবে?

এটা আমাদের একটা কনসার্ন ছিল। আমাদের একটা ফিট তিন নম্বর কেউ হচ্ছিল না, আমরা চাই যে ওখানে কেউ একজন নিয়মিয় খেলুক। আমরা অনেক চিন্তা করে দেখেছি যে অভিজ্ঞ কাউকেই এখানে খেলা উচিৎ। আমরা সাকিবকে পছন্দ করেছি এখানে ব্যাট করার জন্য। আমি মনে করি সাকিব খুব আক্রমণাত্মক, সেই সাথে এমন পজিশনে চাই যে যার কিনা কন্ডিশনে নিজেকে চেঞ্জ করার সামর্থ্য আছে। আমরা ঠিক করেছি যে সাকিবকে পর্যাপ্ত সময় দিব তিন নম্বরে।

বিজয়, রাজুর কাছে প্রত্যাশা?

তারা দুজনেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল করেছে। রাজুর একটা কনসার্ন ছিল ফিটনেস নিয়ে। কিন্তু সে খুব ফিট এখন। তার ফিটনেস নিয়ে আমি খুশি। আর বিজয় তো দুই আড়াই বছর থেকে দারুণ খেলছে। সব ফরম্যাটেই ভাল করছে। ওদের পারফরম্যান্সই ওদের দলে নিয়ে এসেছে। আশা করি যে দুজনেই ভালোভাবে ফিরতে আসতে চাইবে।

সাকিব যদি তিনে হয় পাঁচে কে?

পুরো টিমটাই তাহলে এভাবে বলে দেই! অবশ্যই নম্বর পাঁচে আমরা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে চিন্তা করছি।

নতুন দায়িত্ব, নতুন চাপও কি?

প্রেশারের কিছু নাই। এর চেয়ে বেশি প্রেশার আমি নিয়েছি। আমার কাছে তাই এটাকে প্রেশার মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয় একটা সুযোগ আমার জন্য। যাদের সঙ্গে আমি কাজ করছি, এরা আমার চেনা। তারা সবাই খুবই সহায়তাপরায়ণ। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও আমি সাড়ে তিন বছর কাটিয়েছি। প্লেয়ারদের মধ্যে… মাশরাফি তো বলতে গেলে আমার টিমমেটই। সুতরাং আমার জন্য এদের সঙ্গে করা সহজই।

হিথ স্ট্রিক কোচ হয়ে এসেছেন প্রতিপক্ষের। কতটা চ্যালেঞ্জিং?

সে রকম নয়। ক্রিকেট এখন আরো বেশি আধুনিক হচ্ছে। সব দলেরই স্কিল আছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো তা মাঠে প্রয়োগ করা। মাশরাফির যেমন একটা স্ট্রং জোন আছে, মুস্তাফিজ যেমন কাটারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, বিশেষ করে এই ফরম্যাটে। প্রত্যেকটা ছেলেরই এ রকম স্কিল আছে। আর হিথ স্ট্রিক যতোই জানুক; আর তারা আসলে গত দুই বছরে কতোটা উন্নতি করেছে; তা তো দেখেনি। আমি যেটা মনি করি যে, ধারাবাহিকতা ধরে রাখার যে কাজ, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করেছি। এই পর্যায়ের ক্রিকেটে আপনাকে নিখুঁত হতে হবে। একই সাথে মাইন্ডসেট এবং প্রতিটি বলে মনোযোগ রাখা। সুতরাং কখন কী বল হবে বা কেমন প্রয়োগ হবে, আমি মনে করি সেটাই সবচেয়ে বড় জিনিস।

কোচ হিসেবে আপনি তো পিপলস’ চয়েজ নন…

আমি জানি না আসলে। আমার জন্য আসলে এটা একটা সুযোগ। ২০০৩ সালে আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, ওই সময়টা খুব কঠিন ছিলো। তখন দলটাকে এক করার একটা কাজ ছিলো আমার। দায়িত্বটা অনেক বেশি ছিলো আমার। সে তুলনায় এখন কাজটা অনেক সহজ। কারণ এখন আমি অভিজ্ঞ। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমার অভিজ্ঞতা কম। কিন্তু গত তিন চারটা বিপিএলে কাজ করে, চাপ নেয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি মনে করি জাতীয় দলের চেয়ে বিপিএলে চাপ বেশি থাকে। জাতীয় দলে পরীক্ষিত ক্রিকেটার আছে। যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দাপটের সাথে খেলেছে। তারা এগিয়ে যাচ্ছে— সত্যি কথা বলতে গেলে। আজকে তামিম যেভাবে ব্যাটিং করে, এটা তো আমরা বলতেই পারি যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেরা কয়েকজন ব্যাটসম্যানের কথা বলতে হলে তামিমের কথা বলতেই হবে। ক্রিকেটার যারা আছে, তারা ছোট থাকতেই তাদের সঙ্গে কাজ করেছি। সুতরাং এই কাজটা আমার জন্য সহজ। আমি জানি না, আসলে কতোটা কী করতে পেরেছি। বেশি কিছু অবশ্য করারও ছিলো না। সিনিয়রদের সাথে বেশি কাজ করিনি। কারণ তারা তাদের কাজটা খুব ভালো জানে। কিন্তু তরুণ যারা আছে, তারা যদি পারফর্ম করা শুরু করে, আমি মনে করি আমাদের দলটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনাও হচ্ছে…

আমি বোর্ড রুমে ঢুকি, তখন আমি বোর্ড ডিরেক্টর থাকি। আমাকে অন্য যে দায়িত্ব দেয়া হয়, আমি তা চেষ্টা করি ভালোভাবে করতে। পারি বা না পারি, সফল হই বা না হই, সেটা অন্য ব্যাপার। আমি কোনো বিতর্কে যেতে চাই না। আমি মনে করি কোচিং আমার পেশা। আমি এটা উপভোগ করি। ২০০৬ সালে খেলা ছাড়ার চার মাস পর থেকেই আমি কোচিং শুরু করি। অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায় থেকে সব পর্যায়েই আমি কোচিং করিয়েছি। সুতরাং আমার কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই, ব্যাপারটা তা নয়। কিন্তু আমি ভালো কোচ নাকি খারাপ, তা মানুষ বলবে। কিন্তু আমি কোচিং করানোটাই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমি টিম ম্যানেজার ছিলাম, তখন এটাকেই লাভবান মনে করা হয়েছিলো। আমি জানি না, সেটা কতোটা হয়েছিলো। আমার যেহেতু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও আছে, যেহেতু আমি বাংলাদেশ দলে খেলেছি। অধিনায়কও ছিলাম এক সময়। সুতরাং কিছু অভিজ্ঞতা ছিলোই। কিন্তু আমি যখন ৮৩ বা ৮৪-এর দিকে ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন থেকে একটা দিনের জন্যও আমি ক্রিকেটের বাইরে থাকিনি। ক্রিকেটই আমার সব কিছু। ক্রিকেটই আমার জীবিকা। ক্রিকেট ছাড়া আসলে নিঃশ্বাস নেয়াই কঠিন।

নতুন দায়িত্ব নিয়ে একাদশটা কি এখনই বলে দেয়া যায় কি?

একটা সুবিধা হইছে যে, আমাদের ১৬ জন থেকে ১১ জন করতে হচ্ছে না, বরং ১৫ জন থেকে করতে হবে। কারণ ইমরুল ইনজুরড। আমি সব সময় বিশ্বাস করি যে, আগে দল বলে দেয়াটাই ভালো। তবে অনেক কিছুর কারণেই আগে বলতে পারি না। এতে পরিকল্পনাগত কিছু ব্যাপার থাকে। তবে খেলোয়াড়রা একদিন আগে জানলে, তাদের প্রস্তুতির জন্য সুবিধা হয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।