এখনো না দেখলে দেখে ফেলুন

বৃহস্পতিবার যাদের সাথে কথা হল, তাদের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ শুক্রবার ঢাকা অ্যাটাক দেখেছে। বলাই বাহুল্য, সদ্য মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

এই বছরের অন্যতম বহুল অপেক্ষমান ছবি ঢাকা অ্যাটাক। বাংলাদেশ পুলিশ পরিবার নিবেদিত এই থ্রিলার ধর্মী ছবিটি শুরু থেকেই দর্শকদের আগ্রহে। সানী সানোয়ারের মূল ভাবনায় সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন নাট্য নির্মাতা দীপংকর দীপন।

বাংলা চলচ্চিত্রে পুলিশ মানেই শেষ দৃশ্যে এসে ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না’।এর বাইরে যদি বিস্তৃত থাকে সেটা নায়ক পুলিশ-ভিলেন পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এর বাইরে উপরি হিসেবে থাকে হাবিলদারদের কমেডি। এই ধারার থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ রুপে পুলিশ প্রশাসন নিয়ে পুরো বিস্তৃত কাজ সত্যিই প্রশংসাযোগ্য।

এক সিরিয়াল কিলার ঢাকায় একই সাথে অনেক মার্ডার আর ব্লাস্ট ঘটায়, মার্ডারের সাথে দিয়ে যায় ক্লু। তা নিয়েই পিছু নেন বোম্ব স্কোয়াডের চৌকশ এক অফিসার, সাথে সোয়াট বাহিনীর অভিযান। গল্প সাদামাটা, অতটা গভীরে যেতে পারেনি, তবে উপস্থাপনটা বেশ উপভোগ্য।

আরেফিন শুভ ভালো করার জন্য নিজের মত যথাসাধ্য চেষ্টা করে গেছেন, সফল হয়েছেন বলা যায়।তবে চুল নিয়ে যেই অসামঞ্জস্যতা ছিল, সেটার জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তবে ভালো ভাবে চিৎকার দেয়াটা এখনো রপ্ত করতে পারেননি।

এই ছবিতে সবচেয়ে দুর্দান্ত ছিলেন এবিএম সুমন। চরিত্রের মাঝে এতটাই মিশে গিয়েছিলেন যে মনেই হয়েছে তিনি সোয়াট বাহিনীর সদস্য,স্ত্রী প্রতি ভালোবাসার অভিব্যক্তিগুলো দারুন করেছেন, তাঁর মুখের একাধিক সংলাপ ইতিমধ্যেই দর্শকদের দাগ কেটেছে। শতাব্দী ওয়াদুদ নিজের চরিত্রে একেবারেই যথাযথ, নওশাবা ও খুব ভালো করেছেন।

তবে তুরুপের ত্রাস ছিলেন নীল চোখা তাসকিন আহমেদ। পর্দায় বেশিক্ষণ ছিলেন না, তবে যতটুকু ছিলেন সব আলো কেড়েনিয়েছেন। নায়িকা চরিত্রে মাহির এন্ট্রি দুর্দান্ত হলেও, পুরো ছবিতে সবচেয়ে হতাশ করেছেন। অবশ্য তাঁর চরিত্রটাই সঠিকভাবে সাজানো হয়নি। তিন কিংবদন্তি অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম, আলমগীর, আফজাল হোসেন – ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাদের হয়তো আরেকটু ব্যবহার করার অবকাশ ছিল। শিপন ভালো করেছেন বলবো না,তবে আগের চেয়ে অভিনয়ে উন্নতি করেছেন।

আবহ সংগীত প্রথম অংশের চেয়ে দ্বিতীয় অংশে বেশ মানানসই হয়েছে। ‘টুপ টাপ’ গানের দৃশ্যায়ন ভালো।অদিতের শেষের গানটিই সবচেয়ে ভালো। তবে পুরো ছবিটিকে জমিয়ে দিয়েছে আইটেম গানটি, উপস্থাপনাও ভালো। গানটি আগের জনপ্রিয় হওয়ায় হল ভর্তি দর্শক তালে তাল মিলিয়ে বেশ উপভোগ করেছে।

পুরো ছবিটিকে যিনি দর্শকদের কাছে এতসব আয়োজন যথাসাধ্য সামঞ্জস্য করে তুলে ধরে উপভোগ্য করেছেন সেই নির্মাতা দীপংকর দীপনকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। আশা রাখি সিনেমায় আপনি নিয়মিত হবেন। এই সিনেমার পরের সিরিজের অপেক্ষায় আছি।

ছবির গল্পের প্রথম দিকে শিশুদের বাসটি যে ব্লাস্ট করানো হয়, ওটা কেন জানি মনে দাগ কাটেনি।ভিলেনের শিশুবেলার চরিত্রের শিশুশিল্পীর চোখ নিয়ে তো অভিযোগ রয়েছেই। শেষের পতাকার দৃশ্যটি ভালো লেগেছে, তবে সময় কম ছিল।

সবমিলিয়েই ছবিটা উপভোগ্য, পয়সা উসুল হবে এটা নিশ্চিত। ছবিটার দারুণ ব্যবসাফলতা কামনা করি। আমি নিজেই কিছুটা দেরিতে দেখেছি, তবে এখনো যারা দেখেননি যত দ্রুত পারেন দেখে নেয়ার চেষ্টা করবেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।