এক ঝাঁক ঐতিহাসিক কাকতাল

আমাদের জীবন মজাদার ঘটনায় পরিপূর্ণ। এর কয়েকটা যুক্তিসঙ্গতভাবে সহজেই বোঝানো সম্ভব নয়। তেমন কিছু ঘটনা নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। এই ঘটনাগুলো একজন সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তিকেও দ্বিধাগ্রস্ত করে। শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

মার্ক টোয়েন ও হ্যালির ধূমকেতু

মার্ক টোয়েন ১৮৩৫ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তখন, ধূমকেতু সূর্যের খুব নিকটে ছিল এবং কোনো অপটিক্স ছাড়াই ধূমকেতু দেখা যেত। তিনি নিজেই ভবিষৎদ্বাণী করেছিলেন যে তার মৃত্যুও ওই দিনই হবে যেদিন ধূমকেতুটা আকাশে আবার দেখা যাবে। ১৯১০ সালের যেদিন ধূমকেতু দেখা যায় ঠিক ওই দিনই মার্ক টোয়েন মৃতু্বরণ করেছিলেন।

মিস আনসিঙ্কেবল

ভায়লেট জেসপ ছিলেন নার্স। তার জীবন নিয়ে রীতিমত সিনেমা হতে পারে। তিনি তিনটি বড় জাহাজ দুর্ঘটনায় ছিলেন। তবে, তিনটি থেকেই তিনি জীবিত ফিরে আসেন। জাহাজ তিনটি হল – অলিম্পিক, টাইটানিক ও ব্রিটানিক।

আর্কডিউক ফ্রাঞ্জ ফারডিনেন্ডের গাড়ির লাইসেন্স প্লেট

১৯১৪ সালের কথা।ফ্রাঞ্জ ফারডিনেন্ডের গুপ্তহত্যাকেই মনে করা হত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ‘ফরমাল’ কারণ। তিনি সারভেজোর অস্ট্রিয়া এস্টেটের আর্ক-ডিউক ছিলেন। তাকে এবর তার স্ত্রীকে গুলি করা হয়েছিল একটি গাড়ীতে যার লাইসেন্স প্লেট ছিল – ‘A তারপর রোমান হরফে তিন তারপর 118’। কারো কারো যুক্তিমতে গাড়ির লাইসেন্স প্লেটে থাকা নম্বর দেখেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিন  অর্থাৎ ১১ই নভেম্বর, ১৯১৮-এর (১১.১১.১৯১৮) আভাস পাওয়া যায়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মারা যাওয়া প্রথম ও শেষ ব্রিটিশ সৈনিক

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সর্বপ্রথম মারা যাওয়া ব্রিটিশ সৈনিক জন পার। সর্বশেষ মৃত্যুবরণকৃত ব্রিটিশ সৈনিক জর্জ ইলিসন। সমাধিক্ষেত্রে তারা একে অপরের ঠিক বিপরীত দিকে রয়েছেন। এটা নি:সন্দেহে একটা কাকতালীয় ঘটনা।

ডেনিস নামের দু’টি ভয়ঙ্কর কৌতুক বই

১৯৫১ সালের ১৭  মার্চ। আমেরিকা ও ব্রিটেনের দুজন লেখক ‘ডেনিস’ নামের বই বাজারে ছাড়েন। অদ্ভুত ঘটনা হল যে দুজন লেখকই নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনভাবে বই দুইটি লিখেছেন। বুঝতে যাতে সমস্যা না হয় তাই ব্রিটিশ ভার্সন ‘ডেনিস এন্ড নাসার’ নামে বিক্রি শুরু হয়। বই দুটি এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে আসছে। বইটির আমেরিকান ভার্সন এতোই জনপ্রিয় হয়েছে এর অনুকরণে সিনেমাও নির্মিত হয়েছে।

জেমস ডিনের অভিশপ্ত পোর্শে গাড়ী

‘দি পোর্শে ৫৫০ স্পাইডার’ নামের গাড়ী চালোনো অবস্থায় জেমস ডিনের মৃত্যু ঘটেছিল। গাড়িটাকে হালকাভাবে নেয়া যায় না। ঘটনাটা ঘটার পর ডিজাইনার জর্জ বেরিস গাড়িটি কিনে নিয়েছিলেন। গাড়িটা যখন বোঝাই করা হয়েছিল তখন এটি একজন মেকানিকের পায়ের ওপর পড়েছিল গাড়ীর একটি অংশ। এর ফলে তার পা দুটি ভেঙ্গে যায়। তাছাড়া যে গ্যারেজে গাড়িটাকে পোড়ানোর জন্য রাখা হয়েছিল সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতিই গাড়িটাকে স্পর্শ করতে পারল না। পরবর্তীতে, যে জাদুঘরে সেটা প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছিল সেখানেও আবার একজন কিশোরের পা ভেঙে গিয়েছিল।

২৭ নম্বর ক্লাব

এক গাদা  বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতাদের পাওয়া যায় যারা সকলেই ২৭ বছর বয়সে মারা যান। কিন্তু এর কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জানা যায় নি। আলেকজান্ডার লেভিকে এই ক্লাবের সর্বপ্রথম সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।পরবর্তীতে জেভি হেনড্রিকস, জেনিস জপলিন এবং জিম মরিস এই ক্লাবে যোগ দেন। পরবর্তীতে যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদেরই একজন এনটন ইয়েলটিন ২০১৬ সালে মারা যান।

– ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।