একটি রাজকীয় বিয়ের বাদ্য

পোশাকী নাম প্রিন্স হ্যারি অব ওয়েলস – সবার কাছে তিনি পরিচিত প্রিন্স হ্যারি নামে। তিনি প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়ানার ছোট ছেলে। বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামসের বিয়েটা ছিল স্মরণকালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় রয়্যাল ওয়েডিং।

যতদূর বোঝা যাচ্ছে প্রিন্স হ্যারির ক্ষেত্রেও আয়োজনের কমতি থাকবে না। হ্যা, ব্রিটেনের সিংহাসনের পঞ্চম উত্তরাধিকারী আসছে বসন্তে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন। কনে হলেন মার্কিন অভিনেত্রী রেচাল মেগান মার্কেল।

চলতি মাসের শুরুতে তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। প্রিন্স অব ওয়েলস অ্যান্ড ডাচেস অব কর্নওয়ালের অফিসিয়াল বাসভবন ক্ল্যারেন্স হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিগগিরই বিয়ের দিনক্ষণ ও অন্যান্য বিষয়ে খোসা করা হবে। কারণ, পরিবারের আনন্দটা বরাবরই রাজপরিবার ছড়িয়ে দিয়ে এসেছে গোটা রাজ্যের মধ্যে।

চুপচাপ বসে নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম। বিয়েতে কি কি হতে যাচ্ছে, কে কে আসতে যাচ্ছেন, কত খরচ হবে, কি খাবার থাকবে, পাত্র-পাত্রী কি পোশাক পরবেন – সব কিছু আগাম জেনে ফেলতে মরিয়া তারা।

যতদূর বোঝা গেল বিয়ের অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পেয়েছে ‘এইমি ডুন’ নামের লন্ডনভিত্তিক খ্যাতনামা এক ওয়েডিং প্ল্যানিং প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবী, এই বিয়েতে খরচ হবে অন্তত সাত লাখ ডলার।

এই তথ্যটা শুনে আপনাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলে বলে রাখা ভাল, এই খরচের অংকটা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। করেণ। শুধু বিয়ের আংটিতেই খরচ হচ্ছে তিন লাখ ৩৫ হাজার ডলার। অ্যামান্ডা উন্টার নামের এক হীরার আংটি ব্যবসায়ী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজপরিবারের জন্য সুবিধা হল, সাধারণ মানুষের মত তাদের কোনো বিয়ের হল বা কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করার ঝক্কি নেই। এবার তারা বেছে নিচ্ছে উইন্ডসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জ শ্যাপেলকে।

এই জায়গাটির সাথে প্রিন্স হ্যারি তো বটেই গোটা রাজপরিবারেরই অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ১৯৮৪ সালে এখানে ক্ষুদে প্রিন্স হ্যারির খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ করার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তখন তিনি ছিলেন মা প্রিন্সেস ডায়ানার কোলে।

এর আগেও এখানে বেশ কয়েকটি র‌য়্যাল ওয়েডিং সম্পন্ন হয়েছে। ২০০৮ সালে হ্যারিরেই কাজিন প্রিন্স ফিলিপস অটাম কেলির সাথে এখানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।  এর আগে ১৯৯৯ সালে প্রিন্স এডওয়ার্ডস এখানে বিয়ে করেন সফি রিভসকে।

২০০৫ সালে প্রিন্স চার্লস ও ক্যামিলা এখানে সেলিব্রিটরি সার্ভিসে আসেন। এমনকি রানী এলিজাবেথের বাবা-মা ও বোন চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন এখানে। আকারে একটু ছোট হলেও এই চ্যাপেলে প্রায় ৮০০ মানুষ এক সাথে উপস্থিত থাকতে পারেন।

রাজপরিবারের প্রথা অনুযায়ী, বিয়ের খরচটা রাজপরিবারই বহন করে আসছে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবার কথা না। তবে, মেগানের পরিবারের পক্ষ থেকেও থাকছে কিছু আয়োজন।

সব করতে খরচ যে কয়েক মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আমন্ত্রিত অতিথিদের দেখভাল, নিরাপত্তা এমনকি সাধারণ-উৎসুক মানুষের নিরাপত্তার কথাও তো ভাবতে হবে।

তবে, একটা দু:সংবাদও আছে। শিগগিরই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেতে পাওয়া ৩৬ বছর বয়সী মেগান নিশ্চিত করেছেন যে অভিনয়ের দুনিয়া ছেড়ে দিতে যাচ্ছেন। আইন বিষয়ক আমেরিকান সিরিজ ‘সুটস’-এ কাজ করার অভিনেত্রীর ভক্তদের কাছে নি:সন্দেহে এটা বড় দু:সংবাদ।

যদিও, মেগানের এটা প্রথম বিয়ে নয়। আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন হলিউড প্রযোজক ট্রেভর অ্যাঙ্গেলসনকে। তবে সে বিয়ে টেকেনি। ২০১৩ সালের আগস্টে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

২০১৬ সালের মে মাসে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে তাকে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র বন্ধু মিশা নোহু। এরপর গোপনে ছয় মাস চুটিয়ে প্রেম করেন এই যুগল। পাপ্পরাজ্জিদের সুবাদে নানা জায়গায় তাদের ছবি আসতে থাকে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে।

এবার সেই সম্পর্কে পূর্ণতা আসতে যাচ্ছে। তো কিভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি। এক টেলিভিশন শো-এ এসে জানালেন, সেই রাতটা আর দশটা রাতের মতই ছিল। নিজ হাতে চিকেন রোস্ট রান্না করেন হ্যারি। রান্না ঘরে ডেকে নিয়ে নিজের রান্না দিয়েই মেগানকে বিয়ের প্রস্তাব করেন। ফুল নয়, আংটি নয়, স্রেফ চিকেন রোস্টে পটে গেলেন মেগান!

ডায়ানার ছেলে বলেই কি না, বিয়েতে ভুতুড়ে ভাবে মারা যাওয়া ডায়ানার স্মৃতি আসতে বাধ্য। এমনকি বাগদানের আংটিতে যে হীরা ব্যবহার করা হয়েছে সেটা নেওয়া হয়েছে ডায়ানার ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে।

এমনকি ডায়ানার মতই রাজ পরিবারের উদ্যোগে কিছু সামাজিক কাজে অংশ নেবেন মেগান। এইডস আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াবেন। মেগানের মা ৭২ বছর বয়সী রোসালিন তো বলেই দিলেন, ‘মেগান ও হ্যারি এখন খুব সুখী। মেগান ডায়ানার অভাব পূরণ করে তার জায়গা নিতে প্রস্তুত – বিশেষ করে চ্যারিটি কাজের ক্ষেত্রে। আশা করি, প্রিন্স হ্যারিকে ও সুখেই রাখবে।’

মেগান কি পারবেন ডায়ানার মত একজন কিংবদন্তি প্রিন্সেসের জায়গা নিতে?

– টেলিগ্রাফ, বিবিসি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও সিএনএন অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।