একটি ‘ভুয়া’ প্রেম ও ঔপনিবেশিক ভুত

এমনকি প্রথম-আলো পত্রিকার হাল দেখেও অবাক হতে হচ্ছে!

আমাদের ঔপনিবেশিক মন-মানসিকতা আর যেতেই চায় না। আমাদের কাছে বিদেশি মানেই বিশাল কিছু। আর সাদা চামড়ার হলে তো কথাই নেই!

কিছুদিন আগে দেখলাম প্রথম আলো নিউজ করেছে- ব্রাজিল থেকে কোন এক তরুণী প্রেমের টানে ছুটে এসছে বাংলাদেশে! গতকাল না পরশু দেখলাম এই প্রথম-আলোই আবার নিউজ করেছে- এক মালয়েশিয়ান তরুণী প্রেমের টানে ছুটে এসছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে!

তো, এরপর আজ জানা গেলো ওই তরুণীর বয়েস নাকি ৩২ বছর এবং সে আগে থেকেই মালয়েশিয়ায় আরেক বাংলাদেশির সঙ্গে বিবাহিত! মালয়েশিয়ায় তার নাকি চার সন্তানও আছে! এই খবরও প্রথম-আলো’ই ছাপিয়েছে! ওই খবরের এক জায়গায় প্রথম আলো লিখেছে –

‘মনিরুলের(যার টানে মেয়েটি ছুটে এসছে) বাবা ইমান আলী বলেন-মেয়েটি আমাদের বলেছিল ওর বয়স ২২ বছর। এখন শুনি ৩২। চার সন্তানের মা। ঘটনা সত্য না মিথ্যা বুঝতে পারছি না। ওর মা দেশে এলেই আসল সত্য জানা যাবে।’

প্রথম-আলোর মতো পত্রিকা এই ধরণের রিপোর্ট কি করে করলো আমার মাথায় আসছে না! আচ্ছা, এই মেয়ে কি পাসপোর্ট ছাড়া বাংলাদেশে চলে এসছে? তো, এই মেয়ের পাসপোর্ট চেক করলেই তো বয়েস জানা যাওয়ার কথা। মালয়েশিয়ায় নিশ্চয় এরা বাংলাদেশের মতো বয়েস লুকাতে পারে না। অথচ প্রথম-আলো পত্রিকার রিপোর্টার ব্যাপারটা রহস্য’ই রেখে দিলো!

আর আমরাও এই সব খবর মজা নিয়েই পড়ি। বিদেশের যে কোন কিছুই আমাদের কাছে অতি মূল্যবান। বিদেশি জামা- জুতো, যে কোন কিছু বিদেশি হলেই অতি মাত্রায় ভালো!

আমি এমনকি আমার এখানকার বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়েও সেটা বুঝতে পারি। এরা সাদা চামড়ার যে কেউকে দেখলেই মনে করে, এরা মনে হয় বিশেষ কিছু! আশপাশের বাংলাদেশিরা তখন হয়ে যায় অতি নগণ্য! গ্রীসে গিয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে এই নিয়ে। পরে এক সময় লেখা যাবে।

মালয়েশিয়ান ওই মেয়ে তার প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসছে; তার বয়স ২০ নাকি ৪০; সে বিবাহিত নাকি অবিবাহিত কিংবা বাচ্চা আছে কি নেই; সেই নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই। তারা যদি একে অপরকে ভালোবাসা, সেটা তাদের ব্যাপার।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই খবর প্রথম-আলোর মতো পত্রিকায় কিভাবে স্থান পায়? আবার ফলো আপ নিউজ করে সেখানে রহস্যও রেখে দেয়া হয়! প্রথম-আলোর মতো পত্রিকারও খবরের অভাব লেগেছে?

প্রেম-ভালোবাসা, সেতো যে কেউ, যে কারো সঙ্গে হতে পারে। প্রেম-ভালোবাসার টানে যে কেউ, যে কারো কাছে ছুটেও যেতে পারে। প্রতি দিন, প্রতি রাত, এমনকি প্রতি ঘণ্টা কিংবা সেকেন্ডে কোন ছেলে কিংবা মেয়ে ভালোবাসার টানে প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার কাছে ছুটে যাচ্ছে। কই সে খবর গুলো তো পত্রিকায় আসছে না! তাহলে ব্রাজিল কিংবা মালয়েশিয়া থেকে ছুটে আসলেই কেন সেটা পত্রিকায় স্থান পেতে হবে!

ইংরেজরা অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে এই জনপদে, কিন্তু ঔপনিবেশিক ভুত এখনো ঘাড়ে চেপে আছে। সে আর যেতেই চায় না। সিন্দাবাদের ভুতও এই ঔপনিবেশিক (মন-মানসিকতার) ভুতের কাছে ফেল!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।