একজন ‘পারফেক্ট ফেলুদা’র খোঁজে

ফেলুদার রহস্য খুব জটিল। পারফেক্ট ফেলুদা আসলে কেমন সেই রহস্য আরো জটিল। সত্যজিৎ রায় ফেলুদাকে নিয়ে যে দু’টো সিনেমা (সোনার কেল্লা ও জয় বাবা ফেলুনাথ) বানিয়েছেন দু’টোতেই নায়ক ছিলেন সৌমিত্র চট্টপাধ্যায়।

খুব কম লোকই এটা জানেন যে ফেলুদার জন্য বিবেচিত হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চনও। সত্যজিৎ রায় নিজেই তাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে, ব্যাটে বলে হয়নি। লম্বা সময় কাজ করতে অপারগ ছিলেন অমিতাভ। তাই, ফেলুদা হিসেবে বিগ ‘বি’ কতটা জমজমাট হতেন? – এই প্রশ্নেরও জবাব পাওয়া যায়নি। ১৯৯২ সালে জীবন নদীর ওপারে চলে যান সত্য বাবু।

বলিউড তারকাদের মধ্যেও অবশ্য একজন ‘ফেলুদা’ হয়েছিলেন – শশী কাপুর। মূলত অমিতাভ বচ্চনের ‘বদলী’ হিসেবেই তিনি এসেছিলেন। যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে অবলম্বনে ছোট পর্দার জন্য সত্য বাবুর জীবদ্দশাতেই তার ছেলে সন্দীপ রায় বানিয়েছিলেন কিস্সা কাটমান্ডুকা। সেটা ১৯৮৬ সালের কথা। মূলত ১৯৭৭ সালে সতরঞ্জ কা খিলাড়িতে এই অভিনেতার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েই তাকে নেওয়া হয়েছিল। ভারতের ডিডি ন্যাশনাল সেটা প্রচারিত হয়।

তবে, সন্দীপ রায় জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল সবচেয়ে জনপ্রিয় একজন ফেলুদা খুঁজে পাওয়া। তিনি হলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। শক্তিমান এই অভিনেতা বড় পর্দায় ২০০৩ সাল থেকে মোট ছয়টা ফেলুদার চরিত্রে আবির্ভূত হন। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ৫৮-৫৯ বছর বয়সে গিয়ে তিনি করেন ডাবল ফেলুদা।

যদি, যৌবনে যে কয়টা ফেলুদা করেছেন তার প্রতিটাতেই করেছেন বাজিমাৎ। তথাকথিত ‘চকলেট বয়’ না হলেও প্রখর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে প্রতিবারই প্রশংসিত হয়েছেন। বলা যায়, সব্যসাচীর সৌজন্যে প্রতিবারই ঢাকা পড়েছে সন্দীপ রায়ের দুর্বলতা।

সব্যসাচী, সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় ফেলুদার বেশ কিছু টেলিভিশন সিরিজেও অভিনয় করেছেন। ডাবল ফেলুদায় অবশ্য কাজ করেছিলেন বাধ্য হয়ে। কারণ, আবির চট্টোপাধ্যায়ের সাথে চুক্তি বিষয়ক জটিলতা হয়েছিল সন্দীপ রায়ের।

খুব সম্ভাবনাময় ফেলুদা ছিলেন আবির। বাদশাহী আংটিতে তিনি রীতিমত মুগ্ধই করেন। ব্যোমকেশ বকশীর পর ফেলুদাতেও তার অসামান্য পারফরম্যান্স তাকে গোয়েন্দা চলচ্চিত্র একচেঁটিয়েই করে ফেলছিল। তবে, ২০১৪ সালে এক সিনেমাতেই থেমে যায় তার ফেলুদা ক্যারিয়ার।

ফেলুদার চরিত্রে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছেন সাবেক তপশে – পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। বোম্বাইয়ের বোম্বেটে, কৈলাসে কেলেঙ্কারি, টিনটোরেটোর যীশু – এই তিনটি সিনেমায় তিনি তপেশরঞ্জন মিত্রের চরিত্রে কাজ করেছেন। এবার ফেলুদা টেলিভিশন সিরিজে আছেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে।

সেটাও আবার প্রচারিত হবে বাংলাদেশি একটা টেলিভিশন চ্যানেলে। সন্দীপ রায়ের কাছ থেকে ফেলুদা সিরিজের সব কটি গল্পের টিভিস্বত্ব কিনে নিয়েছে একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। শেয়াল দেবতার রহস্য ও ঘুরঘুটিয়ার ঘটনার ঘটনা – নব্বই মিনিটের দু’টি টেলিভিশন সিরিজের কাজ চলছে ঢাকাতেই। আসছে এই ঈদুল আজহায়।

পরমব্রত কি ‘পারফেক্ট ফেলুদা’ হয়ে উঠতে পারবেন? উত্তরের জন্য সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।