এই রেকর্ডগুলো কি আদৌ কখনো ভাঙবে!

ক্রিকেট মানেই একগাদা রেকর্ড। রেকর্ড মানেই ভাঙাগড়ার খেলা। তবে, এর মধ্যেও এমন গাদাখানেক রেকর্ড বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে রেকর্ডবুকে। যতই তাদের ওপর ধুলা জমুক না কেন, তারা ভাঙার নামই নিচ্ছে না। আদৌ কি কখনো কোনো অতিমানব এই রেকর্ডগুলো ভাঙতে পারবে?

টেস্টে ব্রায়ান লারার ৪০০ রানের ইনিংস

২০০৪ সালের এপ্রিল। সেবার সেন্ট জন্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসেই ৪০০ রান করেছিলেন ক্রিকেটের বরপুত্র। প্রায় ১৩ ঘণ্টার এই ইনিংসে ছিল ৪৩ টি চার ও চারটি ছক্কা।

ডি ভিলিয়ার্সের ৩১ বলে করা ওয়ানডে সেঞ্চুরি

শহীদ আফ্রিদির ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করার কীর্তি ওয়ানডে ক্রিকেটে টিকে ছিল ১৬ বছর। ২০১৪ সালে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেন নিউজিল্যান্ডের কোরি অ্যান্ডাসন। এর পরের বছরই জানুয়ারিতে জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩১ বলে সেঞ্চুরি করেন ভিলিয়ার্স। ৪৪ বলে তিনি ১৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

মুত্তিয়া মুরালিধরণের ১৩৪৭ টি আন্তর্জাতিক উইকেট

১৯-২০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে লঙ্কান এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার টেস্টে পেয়েছেন ৮০০ উইকেট। ওয়ানডেতে ৫৩৪ উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৩ টি – সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি পেয়েছেন ১৩৪৭ টি উইকেট। ভাবা যায়!

শচিন টেন্ডুলকারের ৩৪৩৫৭ আন্তর্জাতিক রান

২২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, ১০০ টি সেঞ্চুরি – শচিন টেন্ডুলকারের ব্যাপারে এটুকু বলে দিলেও চলে। তবে, এর সাথে যোগ করা উচিৎ যে তিনি ২০০ টেস্টে ১৫৯২১, ৪৬৩ ওয়ানডেতে ১৮৪২৬ ও এক টি-টোয়েন্টিতে ১০ রান করেন।

ক্রিস গেইলের টি-টোয়েন্টিতে ১৭৫ রানের ইনিংস

২০১৩ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ১৭৫ রানের দানবীয় এক ইনিংস খেলেছিলেন ক্রিস গেইল। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে সেদিন সেঞ্চুরি এসেছিল মোটে ৩০ বলে।

এক টেস্টে জিম লেকারের ১৯ উইকেট

ব্রিটিশ অফ স্পিনার ১৯৫৬ সালে এক টেস্টে নিয়েছিলে ১৯ উইকেট। রান দিয়েছিলেন মোটে ৯০ টি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যানচেস্টারের সেই টেস্টে বাকি উইকেটটা নিয়েছিলেন বাঁ-হাতি স্পিনার টনি লক।

ডন ব্র্যাডম্যানের ৯৯.৯৪ ব্যাটিং গড়

৯৯.৯৪ ব্যাটিং গড় – এ কালের ব্যাটসম্যানরা নি:সন্দেহে এই গড় নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করার কথা কল্পনাও করতে পারবেন না। ১৯৪৮ সালে যখন ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংস খেলতে নামেন তখন এরিক হোলিসের বলে কোনো রান না করেই বোল্ড হয়ে যান। সেদিন মাত্র চারটা রান করতে পারলেই তার গড় ১০০ হয়ে যেত।

ওয়ানডেতে চামিন্দা ভাসের ৮/১৯

২০০১ সালের ডিসেম্বরের সেই ম্যাচে মাত্র ৩৮ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। এই রানের অর্ধেকটা একাই হজম করেন বাঁ-হাতি পেসার চামিন্দা ভাস। অবশ্য, উইকেটও পান আটটি। বাকি দুইটা উইকেট পেয়েছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরণ। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে সেটাই সবচেয়ে কম রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার নজীর।

টি-টোয়েন্টিতে সুনিল নারাইনের মেইডেন সুপার ওভার

চার ছক্কার খেলা ক্রিকেটে মেইডেন ওভারই বিরল ঘটনা। সেখানে ক্যারিবিয়ান রহস্য স্পিনার সুনিল নারাইন মেইডেন ওভার দিয়েছিলেন সুপার ওভারে। ২০১৪ সালের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ত্রিনবাগো টোব্যাকো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ১১ রানের লক্ষ্য ডিফেন্ড করতে গিয়ে বল হাতে নিয়ে একটিও রান হজম করেননি গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিওর্সের নারাইন।

ওয়ানডেতে রোহিত শর্মার ২৬৪ রানের ইনিংস

মজার ব্যাপার হল রোহিত শর্মা যে ম্যাচে ২৬৪ রানের ইনিংস খেলেন সেদিন শ্রীলঙ্কা ২৫১ রানে অলআউট হয়। রোহিতের ৩৩ টি চার ও নয় ছক্কার এই ইনিংসের সুবাদে ভারত ৪০৪ রান করে ম্যাচ জিতে ১৫৩ রানের বড় ব্যবধানে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।