এই দৌঁড় শেষ হবার নয়

খুব সম্ভবত ২০০৭ এর কথা। আমি তখন কলেজে পড়ি। সেই আমলে মিরপুর স্টেডিয়ামের এখনকার এই আভিজাত্য ছিল না। কোন গ্যালারিতেই স্থায়ী ছাউনি ছিল না। ছিল না ফিক্সড চেয়ার সিস্টেম।

তবে একটা ব্যাপারে এখনকার সাথে বেশ মিল ছিল। সেটা হচ্ছে দর্শকদের বাঁশ দেয়া! তবে, সেই আমলে আক্ষরিক অর্থেই দর্শকদের জন্য বাঁশের ব্যবস্থা করা হতো! বাঁশের মাধ্যমে সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে দর্শকদের জন্য ছাউনির ব্যবস্থা করা হতো। পাতলা সেই সাদা কাপড় ভেদ করে রোদ ঠিকই মাথার তালু পর্যন্ত পৌঁছে যেতো!

মিরপুর স্টেডিয়ামের মতই খুব একটা আভিজাত্য ছিল না বাংলাদেশ দলেরও! তখনো আমরা দিন আনি দিন খাই এর মত, ম্যাচ আনি ম্যাচ হারি যুগেই ছিলাম!

তো এমনি একদিন কোন একটা সিরিজের খেলা দেখতে মিরপুরে হাজির হলাম। বিপরীত দিকের একটা গ্যালারিতে একটা কাপড় চোখে পড়লো, ‘দৌঁড়া বাঘ আইলো’ লেখা! অনেকগুলো মানুষকে দেখলাম একই রকম গেঞ্জি পরা। তারা ঐ ‘দৌড়া বাঘ আইলো’ লেখা কাপড়টার মালিকপক্ষ! একসাথে পুরো গ্যালারি মাতিয়ে রেখেছেন!

আমি দূর থেকে দেখি আর মুগ্ধ হই!

সেই আমলে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা কোন ‘ক্রেজ’ ছিল না! স্টেডিয়ামে গিয়ে ‘চেক ইন’ দেয়া কিংবা ‘সেলফি’ তোলা কোন ‘ট্রেন্ড’ ছিল না। অবিস্মরণীয় কোন জয় এর সাক্ষী হয়ে ইতিহাসের অংশ হবার লোভও ছিল না! ছিল শুধু বুক ভরা নিখাদ ভালবাসা! দেশের প্রতি, ক্রিকেটের প্রতি, টাইগারদের প্রতি!

আমার মত অনেকেই শুধু মনে মনে স্বপ্ন দেখতো, ‘একদিন আমরাও!’ সেই আমলে ছোট ছোট সুখ খুঁজে নিয়ে বড় বড় স্বপ্নের জাল বুনতাম! মাশরাফির একটা ইয়র্কার কিংবা আশরাফুল-আফতাবদের একটা পুল শটে আমরা ছোট-খাটো দুই একটা বিশ্বকাপ জিতে ফেলতাম!

ঐ অপরিচিত মানুষদের জটলাটাকে তাই দূর থেকে দেখেও বড্ড আপন লেগেছিল!

এরপর আস্তে আস্তে অনেক সময় পার হয়েছে! ফেসবুক এসেছে। সেলফি এসেছে। চেকইন এসেছে। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ আসর এসেছে। স্টেডিয়ামে যাওয়া ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অনলাইনে অনেক অনেক সমর্থকগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে! কিন্তু, সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত অফলাইনে সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে সাড়া জাগানো সমর্থক গোষ্ঠী হিসেবে ‘দৌড়া বাঘ আইলো’ কেই চিনেছি!

খেলার টিকেট কিনতে গিয়েই পরিচয় হয়েছে গ্রুপের অ্যাডমিন সাদমান সাজিদ এর সাথে। তার মাধ্যেম আরো দুই একজনের সাথে। টিকেট জোগাড় করতে পারিনি শুনে নিজে থেকে আমার অফিসের নিচে এসে টিকেট দিয়ে গেছেন এই গ্রুপেরই অচেনা আপনজনেরা! যেখানে অনায়াসে সেই টিকেট ব্ল্যাকে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা যেতো!

‘দৌড়া বাঘ আইলো’ সমর্থক গোষ্ঠীর আজ ১১তম জন্মদিন! অনেক অনেক শুভকামনা থাকলো! এই দৌঁড় শেষ হবার নয়।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।