এই দলটাই কিন্তু টেস্ট জিতে আমাদের আনন্দ দিয়েছে: মাশরাফি

দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে গিয়ে প্রথম টেস্টেই ভরাডুবি। এই অবস্থায় সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ দিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। একটা প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি পচেফস্ট্রম টেস্টে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেন।

বাংলাদেশের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবেন কিভাবে?

আমার কাছে মনে হয় যে একটা বাজে দিন গেছে। আপনি গেলে বুঝবেন দক্ষিণ আফ্রিকায় ওই কন্ডিশনে আমাদের জন্য কতটা কঠিন হয়। উইকেট যেটা আমরা যা আশা করেছিলাম তার থেকে ভালো ছিল। এটা সত্যি কথা। তারপরও দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন ওরা বোলিং করে ওদের যে ক্ষমতা সেই অনুযায়ী আমাদের ব্যাটসম্যানদের কাজ এতোটা সহজ না। তারপরও আমাদের একটা পর্যায়ে প্রথম ইনিংসে বিশেষ করে আমাদের অনবেক ব্যাটসম্যান সেট হয়ে গিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই একটা দুইটা ইনিংস যদি বড় হতো তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো। আর দ্বিতীয় ইনিংসে কাল যেটা হয়েছে ক্রিকেটে মাঝে মাঝে এমন দিন আসে হুট করে এমন হয়ে যায়। এটা অবশ্যই হতাশাজনক। আমাদের দিক থেকে আরও বেশি হতাশাজনক এই দিক থেকে যারা খেলছে। কিন্তু আমি মনে করি এটা ভুলে গিয়ে সামনের ম্যাচে কিভাবে আরও ভালোভাবে খেলা যায় এবং আমরা যারা বাইরে আছি আমাদের তাদের অনুপ্রাণিত করাই উচিৎ। এর আগে চারবার প্রত্যেকবারই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছি। এবার একটু হলেও উন্নতি আছে। নাই যে তা না। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের চেয়ে অনেক ভালো ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে গিয়েও সংগ্রাম করে করে না তা না। ওদের প্রত্যেকেই প্রতিটা সংবাদ সম্মেলনে বলেছে এই টেস্ট ম্যাচ ড্র হবে তার মানে ড্রেসিং রুমেও এই ধরণের আলোচনা করেছে। যতটুকু আমি বুঝি কারণ আমি এখনও খেলছি। এই মানসিকতা নিয়ে খেললে দিনে দিনে আমাদের খেলাটার উন্নতি হবে।

বোলিংটা কি আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ?

টেস্ট ক্রিকেটের বোলিং সবসময়ই আমাদের জন্য দুশ্চিন্তা ছিলই। টেস্ট ক্রিকেটে লম্বা সময় বল করতে হবে পাশাপাশি ব্রেক থ্রু দিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় বলেন কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় বলেন সেখানে স্পিনাররাই নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাই টেস্ট ক্রিকেটের বোলিং আসলে রাতারাতি বদলে দেওয়া সম্ভব না। ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা বাইরে থাকবে তাদের মন দিয়ে খেলতে হবে। এবং সেটা অনেক লম্বা সময় ধরে। এমন না যে দুই তিন চারটা ম্যাচ ভালো খেলেই আমি টেস্ট ক্রিকেটে ভালো খেলবো। ওইখানে ভালো করছি বলে টেস্টেও ভালো করবো। এতো সহজ না টেস্ট ক্রিকেট। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং তেমনি ব্যাটসম্যানরাও আপনাকে চ্যালেঞ্জ দিবে। তাই এমন না যে রাতারাতি বদলে দেওয়া সম্ভব। তারপরও এরা একবারেই অনভিজ্ঞ, এরা যদি আরও বেশি খেলার সুযোগ পায় অভিজ্ঞ হলে আমার বিশ্বাস এরা ভালো করবে।

এই অবস্থায় করণীয় কী?

আমরা সরাসরি অ্যাকশনের দিকে তাকাই, চারটা দিন যে ছেলেরা লড়াই করেছে সেটা কিন্তু আমরা কেউ বলছি না। হ্যাঁ এটা ঠিক কিছুনা কিছু ভুল না করলে এ ইনিংস এমনভাবে ভেঙে পড়তো না। কিন্তু আমরা যদি ঘরে বসে এটুকু এনালাইসিস না করতে পারি দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন কি। অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে এসে তিন দিনে হেরে যাচ্ছে। এটাও যদি এনালাইসিস করি। শুধু যদি জয় আর হারটাই দেখি। ঘরে বসে যদি এনালাইসিসই না করতে পারি যে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন কি। তাদের কিসের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে এটা যদি না বুঝতে না পারি তাহলে আমার মনে হয় ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করা ঠিক না। আমরা যদি ওইভাবে চিন্তা করি ওদের জন্য কঠিন কন্ডিশন, আসলেই কঠিন হ্যাঁ এটা ঠিক চার নম্বর ইনিংসে যেটা হয়েছে আমি আপনি কেউই আশা করিনি এটা। এমনতা হওয়ার কথা না। কিন্তু হয়ে গেছে দুঃখজনকভাবে ক্রিকেটে এমন দিন হয়। এমন ইনিংস কিন্তু ১০ বছর পর হল। ২০০৭ সালে মনে হয় ১০০ এর নিচে আউট হয়েছে। ১০০ তো না আমাদের আশা ছিল ৭ উইকেট নিয়ে শেষ দিনতা পাড় করবো। যারা খেলেছে তাদের যদি আপনি প্রশ্ন করেন তারা আমাদের থেকে আপনাদের থেকে আরও বেশি হতাশ। হয়ে গেছে আর এখানেইতো শেষ না আসলে, সামনে ম্যাচ আছে। এই দলটাই কিন্তু টেস্ট ম্যাচ জিতে আমাদের আনন্দ দিয়েছে। আমরা তাদের অনুপ্রাণিত করি, এখান থেকে বসে আরও ভালো কথা কিভাবে বলা যায়, তাদের নিয়ে ইতিবাচক কিছু বলা যায় এটা ব্যক্তিগতভাবে আমি অনুভব করি। অনেকেই বলতে পারে আমি খেলোয়াড় বলে এটা বলছি আসলে তা না। তাদের দরকার ওইটাই। কারণ এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় কি হয়েছে টেস্ট ম্যাচে সেটা আমি আপনি সবাই জানি। সেখান থাকে তারা এখন ভালো খেলছে দুঃখজনকভাবে একটা দুইটা ঘটনা ঘটেছে যেটা অন্যদল বাংলাদেশে আসে বিশেষ করে উপমহাদেশের বাইরের দল আসে তাদের কিন্তু ঘটছে। আপনাকে ওই জিনিসটাও এনালাইসিস করতে হবে।

টেস্টে কি আমাদের মানিয়ে নিতে কী আমাদের সমস্যা হচ্ছে?

আসলে দুই রকম আছে, ওইখানে যারা আছে অধিকাংশই কিন্তু ওয়ানডে খেলবে। বড় কোন পরিবর্তন আসবে না। হয়তোবা আমি আর সাকিব যাবো এখান থেকে। এই দুইজন নিশ্চিত। পুরো দল দিলে হয়তো বুঝা যাবে। আমার কাছে মনে হয় ভালো খারাপের কিছু নাই। টেস্ট ম্যাচ যেটা খেলছে সেটা মনে হয় আরও বেশি জরুরী। টেস্ট ম্যাচ এমনিতেই আমরা বেশি খেলতে পারিনা। তারপরও টেস্ট ম্যাচ খেলছে। সবাই কিন্তু টেস্ট ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে আছে। দেখেন আপনি কিংবা আরেকজন ক্রিকেটভক্তরা সবাই কিন্তু টেস্ট ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে আছে। তাই টেস্ট ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি হয়তো ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। অন্যরকম চ্যালেঞ্জ। আসলে এখনই বলা ঠিক হবে না যে কোনটা সুবিধা। ওইখানে যদি টেস্ট ম্যাচ ভালো খেলতে পারি আমরা তাহলে দেখবেন ওইগুলাও সহজ হয়ে যাবে আস্তে আস্তে।

দক্ষিণ আফ্রিকা কী পারফরম করার জন্য চ্যালেঞ্জিং জায়গা?

চ্যালেঞ্জতো প্রত্যেকটা জায়গায়। চ্যালেঞ্জের কোন শেষ নেই। এখন যে দ্বিতীয় টেস্ট খেলবে সেটাও চ্যালেঞ্জিং। আমি ফাফ দু প্লেসিকে দেখলাম ও চাচ্ছে আরও বাউন্সি উইকেট। চ্যালেঞ্জতো আরও বাড়বে। এরপর ওয়ানডেতে কি উইকেট করবে সেটাও জানিনা। যেটা দক্ষিণ আফ্রিকায় সাধারণত হয় ৩৫০ কিংবা ৩৭০ রানের উইকেট করে। সেটা কিন্তু আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এমন না যে সহজ উইকেট করে দিলে ৩৭০ করতে পারবো। তাই ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ আছেই। আমার কাছে মনে হয় বাইরের মাটিতে যখন খেলবো প্রত্যেকটা ম্যাচই আসলে চ্যালেঞ্জিং। এ মুহূর্তে টেস্ট ম্যাচ যেটা আছে সেটা নিয়েই ভাবা উচিৎ যারা খেলছে।

ওয়ানডে নিয়ে পরিকল্পনা কী?

আর আমরা সম্ভবত ৮ কি ৯ তারিখ যাবো। আমরা গেলে তখন গিয়ে ভাববো ওয়ানডেতে কি করা যায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।