উৎসব জমিয়ে দেওয়া সিনেমা

দিওয়ালির মৌসুমে পূর্ণিমার আলোর মত জ্বলজ্বল করে বলিউডের বক্স অফিস। বিশেষ করে, নব্বইয়ের দশক থেকে দিওয়ালি মানেই বিশেষ ছবি। সারা বছর ধরে দর্শক থেকে প্রেক্ষাগৃহ মালিক সবাই অধীর অপেক্ষা করে এইদিনে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর জন্য। এই উৎসবে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো স্থান করে নিয়েছে বলিউডের সেরা ছবিগুলোর তালিকায়।

তেমনি অন্যতম সেরা দশটি ছবি এই বিশেষ আয়োজন।

বাজিগর(১২ নভেম্বর, ১৯৯৩)

জনপ্রিয় পরিচালক জুটি আব্বাস-মাস্তানের জনপ্রিয় সিনেমা ‘বাজিগর’। দুই নায়িকা কাজল ও শিল্পা শেঠিকে নিয়ে দারুণ রসায়ন জমিয়েছিলেন ভিলেন রুপী শাহরুখ খান। দিওয়ালিতে শাহরুখ খানের এটাই প্রথম ছবি, বক্স অফিসও দারুণ সন্তুষ্ট করেছিল প্রযোজককে। ফিল্মফেয়ারেও বেশ কয়েকটি পুরস্কার জিতে নেয় ছবিটি, শাহরুখ খান অর্জন করেন প্রথমবারের মত সেরা অভিনেতার পুরস্কার।

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে (২০ অক্টোবর, ১৯৯৫)

শাহরুখ খান কে বলিউডে শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছিল বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সাড়া জাগানো ছবি যশরাজ ফিল্মের ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’। পরিচালক আদিত্য চোপড়া তাঁর প্রথম ছবি দিয়েই বাজিমাৎ করেন। এই ছবিতে অভিনয় করেই নায়িকা কাজল জানান দিয়েছিলেন,তিনি ভবিষ্যতে বলিউড শক্ত আসন পেতে যাচ্ছেন। তারুণ্যের প্রেম, দারুণ সব গান, নান্দনিক জুটি, প্রযোজক সংস্থার প্রচারনা সব মিলিয়ে বক্স অফিস থেকে ফিল্মফেয়ার সহ আরো পুরস্কারে ছবিটি রাজত্ব করে। এই ছবিটি আজো সমান জনপ্রিয়। ছবিটি বর্নিল ২২ বছর পূর্তি হচ্ছে এ বছর।

রাজা হিন্দুস্তানি (১৫ নভেম্বর, ১৯৯৬)

দিওয়ালিতে আমির খান সিনেমার পর্দায় তেমন আসেননা। এখন পর্যন্ত একবারই এসেছেন এই উৎসবে। ধর্মেশ দর্শনের সুপারহিট ছবি ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ তে কারিশমা কাপুরকে সঙ্গে নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছিলেন। পুরনো একটি ছবি থেকে অনুপ্রানিত এই গল্পের গানগুলো বেশ জনপ্রিয়। সেই বছরের সবচেয়ে ব্যবসাসফল এই ছবিটি ফিল্মফেয়ারে সেরা ছবিসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার জয় করে। আমির খান ও কারিশমা কাপুর দুইজনেই এই ছবি দিয়ে প্রথমবারের মত ফিল্মফেয়ার পান। বহু বছর পর আমির খান আসছেন আবার দিওয়ালিতে, তবে তিনি আছেন বিশেষ চরিত্রে। ছবির নাম ‘সিক্রেট সুপারস্টার’।

দিল তো পাগল হ্যায় (৩১ অক্টোবর, ১৯৯৭)

রোমান্টিক গুরু যশ চোপড়ার নির্দেশনা, সঙ্গে দুই মহাতারকা শাহরুখ খান ও মাধুরী দীক্ষিত। আর এই ছবিটি যদি দিওয়ালিতে মুক্তি পায়,তাহলে একেবারে মনিকাঞ্চন যোগ। হয়েছিল ও তাই, বক্স অফিসে বছরের সেরা ব্যবসাসফল ছবি হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল। ছবিতে দারুণ গানের পাশাপাশি সারপ্রাইজ প্যাকেজ ছিলেন কারিশমা কাপুর। সেই বছর জাতীয় পুরস্কার থেকে সব পুরস্কারে কারিশমা কাপুর জিতে নেন সেরা সহ অভিনেত্রীর পুরস্কার। যশ চোপড়া পান সেরা পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার। ফিল্মফেয়ারেও রাজত্ব করে ছবিটি।

কুচ কুচ হোতা হ্যায় (১৬ অক্টোবর, ১৯৯৮)

করণ জোহর, বর্তমান বলিউড জগতে এক আলোচিত নাম। তিনি বলিউডে পরিচালক হিসেবে আত্বপ্রকাশ করেন ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ ছবি দিয়ে। শাহরুখ খান, কাজল, রানী মূখার্জী আর বিশেষ চরিত্রে সালমান খান, সঙ্গে যদি গানগুলো দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করেই নেয়। তাহলে তো কথাই নেই, আর ছবিটি দিওয়ালিতে মুক্তি পায় তাহলে বক্স অফিস তো সাড়া দিবেই, বছরের সেরা ব্যবসাসফল ছবি তো বটেই, নব্বই দশকের অন্যতম সেরা ব্যবসাসফল ছবি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিল এই ছবিটি। দ ‘টি জাতীয় পুরস্কার পাবার পাশাপাশি ফিল্মফেয়ারেও রাজত্ব করেছিল।

হাম সাথ সাথ হ্যায় (৫ নভেম্বর,১৯৯৯)

সালমান খান দিওয়ালির উৎসবে তেমন আসেননি।আসলেও তেমন সফলতা পাননি। তবে যখনই সুরুজ বারজাতিয়ার সঙ্গে এসেছেন, তখন সফলতা ধরা দিয়েছে। তেমনি একটা ছবি ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’। পারিবারিক ছবি হিসেবে অনন্য এই সিনেমায় সালমান খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন কারিশমা কাপুর, টাবু, সাইফ আলী খান, সোনালী বেন্দ্রে, শক্তি কাপুর, রিমা লাগুর মত অভিনয় শিল্পীরা। ছবিটি বছরের সেরা ব্যবসাসফল ছবির তকমা পেয়েছিল।

মোহাব্বতে (২৭ অক্টোবর, ২০০০)

দিওয়ালির ছবি মানেই শাহরুখ খানের ছবি, সঙ্গে সেই যশরাজ ফিল্মস। শাহরুখ খান ও অমিতাভ বচ্চন প্রথমবার একপর্দায়, আলোচিত হবার জন্য এইটুকুই যথেষ্ট, সঙ্গে সুন্দরী ঐশ্বরিয়া। গল্প নিয়ে দর্শকদের কিছু অভিযোগ থাকলেও দারুণ সব গান, দুই অভিনেতার পর্দা যুদ্ধ, আদিত্য চোপড়ার পরিচালনা, যথারীতি ব্যাপক সাড়া। যশরাজ ফিল্মসের ছবি ‘মোহাব্বতে’ জায়গা করে নেয় বছরের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্যিক সফল ছবি হিসেবে।

বীর-জারা (১২ নভেম্বর, ২০০৪)

সীমান্ত পেরোনো দুই ভিন্নধর্মের হৃদয় ছোঁয়া ভালোবাসার গল্প।চার বছর পর,শাহরুখ খান এলেন আবার দিওয়ালির উৎসবে দর্শকদের বিমোহিত করতে,সঙ্গে প্রীতি জিনতা ও রানী মূখ্যার্জি। পরিচালক হিসেবে যখন যশ চোপড়া,তখন ছবির রসায়ন তো জমবেই। এই ছবির গান গুলো বেশ সমাদৃত হয়,বক্স অফিসে সাড়া জাগিয়ে জায়গা করে সেরা বাণিজ্যিক ছবির সম্মান।যশ চোপড়া পান,সেরা পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার।সেরা ছবি সহ একাধিক শাখায় ফিল্মফেয়ার ও জিতে নেয়।

ওম শান্তি ওম (৭ নভেম্বর, ২০০৭)

নায়ক শাহরুখ খানকে দিওয়ালি উজাড় করে দিয়েছিল, পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও তাকে হতাশ করেনি। ফারাহ খানের পরিচালনায় জন্মান্তরবাদের প্রতিশোধের ছবি ‘ওম শান্তি ওম’। এই ছবি দিয়েই নায়িকা হিসেবে আবির্ভূত হন বর্তমান বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন। বক্স অফিসে দারুণ সাড়া জাগিয়ে ছবিটি বছরের সেরা বাণিজ্যিক সফল ছবি হিসেবে জায়গা করে নেয়।

গোলমাল ৩ (৫ নভেম্বর, ২০১০)

পরিচালক রোহিত শেঠি মানেই বিনোদনধর্মী বাণিজ্যিক ছবি, সঙ্গে অজয় দেবগন থাকলে নিশ্চিত বক্স অফিস সাফল্য। দিওয়ালিতে তিনি নিয়ে আসেন ওনার সফল সিরিজ ‘গোলমাল’ নিয়ে। সেইরকমই একটা ছবি ‘গোলমাল ৩’। অজয় দেবগণ, আরশাদ ওয়ার্সি, তুষার কাপুর, কারিনা কাপুর, মিঠুন চক্রবর্তী, শ্রেয়াস অভিনীত এই ছবিটি বক্স অফিসে সাড়া জাগিয়ে শত কোটির ক্লাবে নাম লেখায়। এই বছর ও দিওয়ালিতে তিনি আসছেন তাঁর গোলমাল সিরিজ নিয়ে।

এছাড়া দিওয়ালিতে মুক্তি পাওয়া অন্যান্য ছবির মধ্যে মিশন কাশ্মীর, পিঞ্জর, এইতরাজ, গরম মাসালা, ডন, গোলমাল রিটার্নস, ফ্যাশন, অল দ্য বেস্ট, রা ওয়ান, যাব তক হ্যায় জান, হ্যাপি নিউ ইয়ার, প্রেম রতন ধন পায়ো, এ দিল হ্যায় মুশকিল অন্যতম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।