‘ইয়ে ছটু কৌন হ্যায়? খেলনে আয়া ইয়া ঘুমনে?’

সময়টা ২০০১ সালের আগস্ট মাস। এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই সিরিজে অভিষেক হয় এক বিশ্ময় বালকের। বালকটির নাম মোহাম্মদ আশরাফুল। মুলতান টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে আশরাফুল দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে দলে আছেন।

কিন্তু সেরা একাদশে না থাকায় মাঠে নামার সুযোগ পাননি। একটা সময় এলো সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামলেন আশরাফুল। নেমেই বাউন্ডারি লাইনে অযথাই ছোটাছুটি করতে লাগলেন। তখন ব্যাট করছিলেন ইনজামাম উল হক।

আশরাফুলের এই অযথা ছোটাছুটি দেখে ইনজি উইকেটরক্ষক খালেদ মাসুদ পাইলটকে প্রশ্ন করলেন, ‘ইয়ে ছটু কৌন হ্যায়? খেলনে আয়া ইয়া ঘুমনে?’ যার অর্থ দাঁড়ায়, এই বাচ্চাটি কে? ও কি খেলতে এসেছে না ঘুরতে এসেছে?

তখন পাইলট ইনজামামকে বলেছিলেন, ‘ও আমাদের অনেক বড় ব্যাটসম্যান। ও খুব ভাল খেলে।’ ইনজামাম আর কিছু বলেন নি। মনোযোগ দেন খেলায়। তবে আশরাফুল কেমন বড় ব্যাটসম্যান তার উত্তর জানতে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি ইনজামামের।

পরের টেস্টেই শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় আশরাফুলের। আর অভিষেকেই গড়েন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড! সেই রেকর্ড এখনো রয়েছে আশরাফুলেরই দখলে।

দিনটা ছিল ৮ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ সেই কলম্বো টেস্টে তিন দিনে হারলেও হারেননি আশরাফুল। প্রথম ইনিংস ৫৩ বলে ২৭ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে টেস্ট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেব সেঞ্চুরি করার বিশ্বরেকর্ড গড়েন; ২১২ বলে ১১৬ রান! কিংবদন্তি স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্বাচিত হন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

১৭ বছর ৬৩ দিনে আশরাফুল ৪০ বছর পুরনো রেকর্ড ভেঙে ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম লেখান। এর আগে ১৭ বছর ৭৮ দিন বয়সে পাকিস্তানের বিখ্যাত হানিফ মোহাম্মদের মেজ ভাই মোস্তাক মোহাম্মদ ওই রেকর্ড গড়েন। ভারতের লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার অবশ্য তালিকায় তিন নম্বরে আছেন ১৭ বছর ১০৭ দিনে সেঞ্চুরি করে। তবে আশরাফুলেরটা ছিল ঐতিহাসিক ও স্পেশাল, কেননা সেটাই যে অভিষেক টেস্ট ছিল তাঁর!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।