ইমরান খান: একটি প্রতিভার আত্মহুতির আখ্যান

ইমরান খান সর্বশেষ কঙ্গনা রনৌতের সাথে ‘কাট্টি বাট্টি’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। সেটাও ২০১৫ সালের ঘটনা। সিনেমাটা খুব বাজে ভাবে ফ্লপ হয়েছিল।

নিখিল আদভানির মত পরিচালক থাকার পরও বক্স অফিসে পাত্তাই পায়নি কাট্টি বাট্টি। এরপর কী হল? কোথায ডুব দিলেন ইমরান? গত দু’বছর খুব কমই মিডিয়ায় খবর এসেছে তার। তাহলে কী ফুরিয়ে গেলেন বলিউডের নতুন খান? ক্যারিয়ারের শেষ চারটি সিনেমা চূড়ান্ত ফ্লপ হওয়ায় অভিনেতা হিসেবে আর উঠে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে।

অথচ, কি জৌলুসের সাথেই না বলিউডে হাজির হয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’ ও ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’-এ মামা আমির খানের ছেলেবেলার চরিত্রে ছিলেন। নায়ক হিসেবে ২০০৮ সালে রোমান্টিক কমেডি ‘জানে তু … ইয়া জানে না’ দিয়ে তার বলিউডে অভিষেক। অভিষেকেই বাজিমাৎ। বক্স অফিসে ব্যাপক হিট হওয়ার সাথে সাথে ইমরানের ‘চকলেট বয়’ ইমেজটাও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সেবার ফিল্ম ফেয়ারে সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন। এর সাথে যার মামা খোদ আমির খানের মত এক মহীরূহ, তার আর ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে হবে কেন।

এর পরের যাত্রাটাও ইমরানের জন্য স্বাচ্ছন্দদায়কই ছিল। রণবীর কাপুর না ইমরান খান? – আগামীতে বলিউডের নেতৃত্ব দেবেন কে? – সে নিয়ে তখন চলতো বিস্তর আলোচনা। অথচ, ইমরান এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছেন।

তার আই হেট লাভ স্টোরিজ (২০১০), দিল্লী বেলি (২০১১), মেরি ব্রাদার কি দুলহান (২০১১) ইত্যাদি সিনেমা মোটামুটি ব্যবসা সফলতা পেয়েছিল। তবে, এর আগের দু’টো সিনেমা লাক ও কিডন্যাপ ব্যবসা করতে পারেনি। ঝুটা হি সাহি, ব্রেক কে বাদও ব্যর্থ হয়।

২০১২ ও ২০১৩ এই সময়ের মধ্যে এক ম্যায় হু অর এক তু, মাত্রু কি বিজলি কা মান্ডোলা, বোম্বে টকিজ, ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন মুম্বাই দোবারা, গোরি তেরে পেয়ার মেয় মুক্তি। ক্যারিয়ার বাঁচানোর জন্য কোনো একটা ছবিতে ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ কিছু করার দরকার ছিল ইমরানের, কিন্তু তিনি সেটা পারেননি।

এক বছরের বিরতি দিয়েছিলেন সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে সময় দিতে। ২০১৫ সালে কাট্টি বাট্টিতে অবস্থা হল আরো সঙিণ। তখনই একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘কখনো মনে হয়নি যে বলিউড আমাকে আমার প্রাপ্যটা দিতে পারেনি। প্রায়ই মনে হয়, আমার ছবিগুলো ভালই ছিল। যেগুলো হিট হয়েছে সেগুলোর ক্রেডিটও অনেক সময় পরিচালক বা অন্য কাউকে দেওয়া হত।’

এরপর থেকে তিনি একরকম নির্বাসনেই আছেন। ২০১১ সালে ১০ বছরের প্রেমের পর বিয়ে করেছিলেন অবন্তিকা মালিককে। ইমারা নামের একটা কন্যা সন্তানও আছে তাঁদের।

শোনা যাচ্ছে, শিগগিরই নাকি বড় পর্দায় পরিচালক হিসেবে আবির্ভাব ঘটবে তার। এর আগেই অবশ্য ‘ধর্ম প্রোডাকশন’-এর ব্যানারে ‘মিশন মার্স: কিপ ওয়াকিং ইন্ডিয়া’ নামের এক শর্ট ফিল্ম পরিচালনা করলেন ইমরান। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই শর্ট ফিল্মটি বেশ আলোচিতও হয়েছে।

ক্যারিয়ারের সেকেন্ড ইনিংসে মানে নির্মানে কি জ্বলে উঠতে পারবেন ইমরান? নাকি ‘দারুণ প্রতিভা থাকার পরও ব্যর্থ’ – এই অপবাদ নিয়েই জীবন কাটিয়ে দেবেন? উত্তর পেতে সময়ের অপেক্ষা করতেই হচ্ছে! তবে, খবর আছে এবারো তাঁর ওপর থাকছে মামা আমির খানের হাত। কারণ, গুজব আছে ইমরানের নির্মানে একটি সিনেমায় প্রযোজনা করতে যাচ্ছেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট।

তো অভিনয় ছেড়ে কেন নির্মানে? ইমরানের জবাব, ‘পরিচালক হিসেবে সব কিছুই নিজের পছন্দে করার সুবিধা পাওয়া যায়। সেটা ভাল হোক, বা খারাপ হোক। অভিনেতা হিসেবে আপনাকে আরেকজনের দেখানো রাস্তায় হাঁটতে হতো, অথচ সেখানে কোনো ভুল হলে দায়ভারও অভিনেতারই। নিজের ভুলের মাশুল গুণতে আপত্তি নেই, কিন্তু অন্যের ভুলের জন্য কেন!’

তবে, এই কথার আড়ালে নি:সন্দেহে একটা আক্ষেপ আছে। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন মনে করা হত রণবীর কাপুর, রণবীর সিংদের সাথে একদিন এই ইমরান খানও রাজত্ব করবেন বলিউডে, তবে, সেদিন অনেক আগেই বাসি হয়ে গেছে। ইমরানও নিশ্চয়ই কখনো তাঁর অভিনয় জীবনটা মনে করতে চাইবেন না!

– ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস ও পিংক ভিলা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।