ইন দ্য এন্ড ইট ডাজ ম্যাটার চেস্টার!

তখন নব্বই দশক শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের স্কুল-কলেজগামীদের কাছে হঠাৎ করে জনপ্রিয় হয়ে উঠলো আমেরিকান একটা ব্যান্ড – লিনকিন পার্ক। ধীরে ধীরে নাম্ব, ব্রেকিং দ্য হ্যাবিট, ইন দ্য এন্ড গানগুলো মুখেমুখে ঘুরতে লাগলো।

সব কিছুর মূলে ছিলেন ব্যান্ডের ভোকালিস্ট চেস্টার বেনিংটন। ব্যান্ডের ছয়টি অ্যালবামেই ছিলেন তিনি। তবে, এর সবই এখন অতিত। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সকাল নয়টার কিছুক্ষণ আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাসা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

অথচ, বয়স হয়েছিল মাত্র ৪১ বছর। এই বয়সে এমন কী হতাশায় পেয়ে বসেছিল চেস্টারকে?

সেই ব্যাখ্যাটা আরো নয় বছর আগেই এক সাক্ষাৎকারে দিয়ে গিয়েছিলেন চেস্টার। বলেছিলেন, ‘ক্রিস খুব দারুণ একজন মানুষ। আমরা ভাল বন্ধু হয়ে উঠেছি। আমি ওর সাথে স্টেজে উঠি, হাঙ্গার স্ট্রাইক গানে পারফরম করি, ও আমার সাথে স্টেজে উঠে ‘ক্রলিং’ করে। দর্শকরা তখন আনন্দে পাগল হয়ে যায়। আমাদের বিষয়টা খুবই ম্যাজিকাল মনে হয়।’

ক্রিস কর্নেল – দীর্ঘদিন অডিওস্লেভের ভোকালিস্ট ছিলেন। চারটা জনপ্রিয় সলো অ্যালবামও ছিল তার। জেমস বন্ড সিরিজের ‘ক্যাসিনো রয়্যাল (২০০৬)’ সিনেমার আবহ সঙ্গীত ‘ইউ নো মাই নেম’ও তারই গাওয়া। হিট প্যারাডেরের বিবেচনায় বিশ্বের সেরা ১০০ হেভিমেটাল গায়কদের মধ্যে চার নম্বরে ছিরেন তিনি। রোলিং স্টোনের বিবেচনায় ছিলেন নয় নম্বরে। তার মত একজনের সাথে আরেক প্রতিভাবান চেস্টার বেনিংটনের শখ্যতা তো হওয়ারই ছিল।

প্রায় ১০ বছরের বন্ধুত্ব ছিল তাদের। একই ব্যান্ডে কখনো তারা ছিলেন না। তারপরও এক সাথে স্টেজ মাতাতেন। পারিবারিক ভাবেও ছিল ঘনিষ্টতা।

মাস দুয়েক আগে, মানে গত মে মাসে আত্মহত্যা করে ক্রিস কর্নেল। তারপর থেকে এক মুহূর্তের জন্য সে ঠিক হতে পারছে না বেনিংটন। বিষণ্ণতায় ডুবে গিয়েছিলেন সেই মানুষটি যার কণ্ঠ কোটি মানুষের বিষণ্ণতার সঙ্গী। লিনকিন পার্কের রিহার্সালে নাকি পাওয়াই যেত না। মাদকাসক্তিতে পেয়ে বসেছিল তাকে।

গতকাল ২০ জুলাই ছিল ক্রিস কর্নেলের জন্মদিন। বন্ধুকে এতটাই মিস করছিলে যে স্ত্রী আর ছয় সন্তানের মায়ার বাঁধনও তাকে আটকে রাখতে পারেনি। জন্মদিনের সারপ্রাইজ দিতে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন বন্ধুর কাছেই।

আর ভক্তদের দিয়ে গেলেন আরো বড় ‘সারপ্রাইজ’। মাথা ব্যাথা করলেই মাথা কেটে ফেলার কোনো যুক্তি নেই। জীবনের শান্তি খুঁজতে জীবনটাকে শেষ করে দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। আর যিনি অনেকের আইডল, তার কাছ থেকে এটা আরো কাম্য নয়। ইন দ্য এন্ড ইট ডাজ ম্যাটার চেস্টার!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।