ইচ্ছাশক্তি ও অনন্য প্রেমের গল্প

ম্যাডেলিনের পরিবারটিকে মোটেও একটি সাধারণ পরিবার বলা যাবে না।

যখন তার জন্ম হয়েছিল, তখন তার বাবা ও মা উভয়ে যৌবনের মধ্যগগনে পদার্পণ করেছেন। অল্প বয়সের কারণে, এ যুগলটিকে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো।

একটি কষ্টকর অতীত পার করে অাসার পর, পরিবারটি আজ নিজেদেরকে একটি ঈর্ষণীয় অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাডেলিনের পোস্ট থেকে তার নমুনা পাওয়া যায়।

এ বিষ্ময়কর পরিবর্তনটি ম্যাডেলিনের পিতামাতার গ্রাজুয়েশনের স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সময়কার ছবি এবং ম্যাডেলিনের নিজের স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সময়কার ছবি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

‘আমরা একসাথে মিলে আমাদের পরিবারকে সাজিয়েছি’, ম্যাডেলিন বলেন। ‘আমার মা পনেরো বছর বয়সেই গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তার যখন বয়স ষোলো, তখন আমি জন্মগ্রহণ করি। সেসময় আমার বাবার বয়স ছিল সতেরো. আর মূল ছবিটি ২০০০ সালের জুন মাসের।’

পুরো গল্পটা শুনুন ম্যাডেলিনের কাছ থেকেই, ‘আমার বাবা-মাকে এসময় অনেক সমালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু তারা পরস্পরের হাতে হাত ধরে থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। তারা উভয়েই নিজ নিজ বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করতেন, কিন্তু তারা একইসাথে আমাকে লালন-পালন করতে থাকেন। নিজের সন্তানের একটি সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। বাবা সারাদিন কনস্ট্রাকশনের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আর মা ছিলেন শৌখিন ফুটবল খেলোয়াড়।’

‘আজ আমাদের একটা সুন্দর বাড়ি আছে। বর্তমানে আমার মা একজন পুরোদস্তুর গৃহিণী। লংশোরম্যান হিসেবে বাবা তার ক্যারিয়ারে সফল। আমার দুটি ছোট বোন আছে যারা আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করছে।’

‘মূল ছবিটি সবসময়ই আমার কাছে একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে এসেছে। আমি অনেক আগে থেকেই এই ছবিটি পুনঃস্থাপন করতে চাইছিলাম, কিন্তু বিশেষ করে কলেজে ভর্তি হবার পর আরো আগ্রহী হয়ে উঠি।’

‘আমি ছবিটিকে আমার পরিবারের অগ্রযাত্রার একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখাতে চেয়েছি। বাবা-মা আমার সফলতার পেছনের কারিগর হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন’

‘ঈশ্বর আমাকে এমন একটি প্রেমময় ও বন্ধুবৎসল পরিবারে পাঠিয়েছেন, যার থেকে বেশি প্রত্যাশা করা আমার পক্ষে অসম্ভব।’ একটা সময় ছিলো, যখন এলাকার বেশিরভাগ লোকই আমার বাবা-মার সংসার নিয়ে সন্দিহান ছিলো। আর এখন সেই আমি কলেজে যাচ্ছি!’, যোগ করেন ম্যাডেলিন।

আমরা আশা করি, এই দম্পতির ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ়তা এবং প্রেমের এই দৃষ্টান্ত সকল পিতামাতার কাছে একটি চমৎকার বার্তা পৌছে দেবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।