ইংলিশ লিগের প্রথম ‘বাংলাদেশি’: গর্ব ও আক্ষেপের খবর

হামজা দেওয়ান চৌধুরী, উইকিপিডিয়ায় তার পেজ খুললেই লেখা আসে – ‘ইংলিশ অ্যান্ড বাংলাদেশি ফুটবলার।’ নতুন এক ইতিহাস গড়লেন তিনি। ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম জমজমাট আসর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লিস্টার সিটির মূল দলের হয়ে অভিষেক হয়ে গেল তার।

সেটা এই বুধবারের ঘটনা। লিভারপুলের বিপক্ষে লিগ কাপের ম্যাচ। লিস্টারের নিজেদের মাঠ কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৮৪ মিনিটে উইলফ্রেড এনদিদির বদলী হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ধারাভাষ্যকাদের কণ্ঠে তখন বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হয়। সৃষ্টি হয় নতুন এক ইতিহাসের।

অভিষেকটা রঙিণই হল হামজার। জয় দিয়েই শুরু করলেন তিনি। ম্যাচে লিস্টার সিটি ২-০ গোলে জিতে বিদায় করে দিয়েছে লিস্টার সিটিকে। ম্যাচ শেষে টুইটারে হামজা নিজে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন।

হামজার বাবা পুরোদস্তর বাংলাদেশি। মা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বাসিন্দা। শরীরে বাংলাদেশি রক্ত থাকলেও ইংলিশ জল-হাওয়ায় বড় হয়ে উঠেছেন হামজা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন লিস্টার সিটির একাডেমিতে।

তখন থেকেই এই মিডফিল্ডারের ওপর নজর বিশ্বের নামী-দামী ক্লাবগুলোর। এদের মধ্যে আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, বার্সেলোনা কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের মত ক্লাবগুলোর।

বয়স এখন মোটে ১৯, নি:সন্দেহে তার সামনে এখনো লম্বা ক্যারিয়ার আছে। মাঠের ক্ষিপ্রতা আর ঝাকড়া চুলের জন্য ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি।

যদিও, লিস্টার সিটির একাডেমি থেকে বার্টন অ্যালবিয়নে লোনে গিয়েছিলেন।  খেলেছেন ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপেও। সেখান থেকে এই মৌসুমেই ফিরেছেন নিজ শহরের ক্লাব লিস্টারে। আর ফিরেই অভিষেক হল আরো বড় মঞ্চে।

দেশের ফুটবল নিয়ে যখন আমরা হাহাকার করি, বোর্ড সভাপতি বিদায় পার্থনা করে হ্যাশট্যাগ চালু করি, তখন একজন হামজা খেলে ফেললেন ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে। ইংলিশ ফুটবলে তার সৌজন্য একটু হলেও পরিচয় পেল বাংলাদেশ। খবরটা গর্বের, আক্ষেপেরও।

আমাদের মাথা উঁচু হল, আক্ষেপে বুক ভারিও হল। এই হামজার ‘সার্ভিস’ তো বাংলাদেশ কখনো পাবে না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।