আলোচিত, বিতর্কিত অত:পর হারিয়ে যাওয়া…

দিপু ও বৃষ্টি দুজনকে ভালোবাসে ঠিকই, কিন্তু কেউ কাউকে প্রকাশ করে না সেই ভালোবাসার কথা। বৃষ্টির মা নেই,বাবার আদরে বড় হয়েছে বৃষ্টি। বৃষ্টিকে নিয়ে বাবা এসেছেন শহরে। দিপুর মা তাঁর দূর সম্পর্কের বোন। দিপুদের বাড়ি থেকে তিনি মেয়ের চিকিৎসা করাবেন। দিপু ডাক্তারী পড়ে,এই সময় বাড়ির সবাই জেনে যায় বৃষ্টির ক্যান্সার। শুধু বৃষ্টিই জানে না, দিপুকে ছেড়ে যত দূরেই যাক, কিন্তু সে চিরকাল থেকে যাবে দিপুর মনে।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম খণ্ডনাটক ‘যত দূরে যাই’। ইমদাদুল হক মিলনের অব্যক্ত প্রেমের এই উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকে বৃষ্টি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন,সেই থেকে যাত্রা,তারপর টিভি জগতে সফল পদচারনা। অভিনয় কিংবা সৌন্দর্যতায় তিনি ছিলেন অনন্য,প্রতিভাসম্পন্ন এই অভিনেত্রী নিজেকে নিয়ে গেছেন শীর্ষ স্থানে। তিনি বাংলাদেশের নাট্য জগতের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী শমী কায়সার।

বাবা শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার,মা লেখিকা পান্না কায়সার। ১৯৮৯ সালে আতিকুল হক চৌধুরীর নাটক ‘কে বা আপন কে পর’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক, এরপরই ‘যত দূরে যাই’ দিয়ে আলোচিত। বিটিভিতে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ধারাবাহিক নাটক হুমায়ূন আহমেদের ‘নক্ষত্রের রাত’, এই নাটকে প্রধান চরিত্র ‘মনিষা’ চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন, যা এখনো দর্শকদের হৃদয়ে সমুজ্জ্বল। এছাড়া নব্বই দশকে তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে স্পর্শ, যুবরাজ, ছোট ছোট ঢেউ, অরণ্য, ছায়া বৃক্ষ, নয়ন, দূরে কোথাও, স্বপ্ন, প্যাকেজ সংবাদ, কুসুম কুসুম ভালোবাসা, পুত্রদায় অন্যতম।

নব্বই দশকের বর্ণিল ক্যারিয়ারের পরের পরবর্তী দশকে সেভাবে নিয়মিত না থাকলেও বেশ কয়েকটি নাটক আলোচিত হয়েছিল, এর মধ্যে নীলাঞ্জনা ও নীতু তোমাকে ভালোবাসি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া অন্যান্য নাটকের মধ্যে আরিয়ানা, তোমাকে ছুঁয়ে, খোয়াব, কঙ্কাবতী, তোমায় দিলাম পৃথিবী, গাঙচিল ভালোবাসা অন্যতম।

এর মাঝে অবশ্য গত দশকের শুরুর দিকে বিটিভিতে নিষিদ্ধ ছিলেন প্রায় পাঁচ বছর। আলোচিত ক্যারিয়ারটা তখন ছিল বিতর্কে ঘেরা। অভিনয় জীবনের সাথে সাথে ব্যক্তিগত জীবনটাও তখন তাঁর জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। বেশ কয়েক বছর বিরতি দিয়ে সম্প্রতি আবার টিভি নাটকে আবার অভিনয় করছেন, এর মধ্যে শেষের পরে, প্যারালাল ভালোবাসা, অনুমতি প্রার্থনা অন্যতম। তবে আগের মত সমুজ্জ্বল হচ্ছেন না।

টিভি নাটকের পাশাপাশি মঞ্চ নাটকেও বেশ সফল তিনি। কাজ করেছেন হাত হোদাই, যৈবতী কন্যার মনের মত সফল নাটকে। বিজ্ঞাপন ও করেছিলেন কয়েকটি, এর মধ্যে অন্যতম লাক্সের বিজ্ঞাপন। নব্বই দশকে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের অফার পেয়েছিলেন, কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বন্ধু সালমান শাহ তাকে ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আবদার করেছিল, কিন্তু করেননি। আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বিহঙ্গ’ তে প্রথম অভিনয় করেন, এরপর হাছন রাজা ও লালন নামে দু’টি ছবিতে অভিনয় করেন। সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ‘যুদ্ধশিশু’ নামক একটি সিনেমায়।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সফল প্রযোজক। তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ধানসিঁড়ি’ থেকে বেশ কয়েকটি নাটক নির্মান করেছে। এর মধ্যে অন্তরে নিরন্তরে, স্বপ্ন ঠিকানা অন্যতম। এছাড়া বর্তমানে এফবিবিসিআইয়ের পরিচালক পদে দায়িত্বরত আছেন।

ব্যক্তিজীবনে প্রথমে বিয়ে করেন ভারতীয় নির্মাতা রিঙ্গোকে, তবে সেই সংসার বিচ্ছেদে রুপ নেয়। এরপর বিয়ে করেন মোহাম্মদ আরাফাতকে। শমী শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের কন্যা। ব্যক্তিজীবন ও চলচ্চিত্র জগতে নিজেকে আরো বর্ণিল করুক, এটাই প্রত্যাশা রইলো জীবনের ৪৯ টি বসন্ত কাটিয়ে ফেলা এই শিল্পীর প্রতি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।