আর্জেন্টিনা কী পারবে?

১.

তাদের মধ্যকার হওয়া ৩৪ টি ম্যাচের মাঝে আর্জেন্টিনা জিতেছে ১৮ টি, ড্র ১১ টি আর ইকুয়েডর জিতেছে ৫ টি ম্যাচে। তবে সর্বশেষ ৯ টি ম্যাচে ইকুয়েডর জিতেছে ৩ টি ম্যাচে, আর্জেন্টিনা জিতেছে ২ টিতে আর ড্র হয়েছে ৪ টিতে।

সর্বশেষ ম্যাচটিতে ঘরের মাঠেই আর্জেন্টিনা হেরেছে। সবচেয়ে বড় কথা যে মাঠে খেলা হবে সেই ৯০০০ ফুট উচ্চতার মাঠে গত ১৬ বছরে ম্যাচ জিততে পারেনি।

এত সব দুঃসংবাদের মাঝে সুসংবাদ হচ্ছে খুব সম্ভবত ইকুয়েডরের নিয়মিত পাচজন খেলোয়াড় খেলছেন না।

তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এটাকে কোন সুসংবাদ মনে করি না। আর্জেন্টিনা আর ইকুয়েডরের মাঝে শক্তির যতটা পার্থক্য আছে তাতে আর্জেন্টিনা নিজেদের মতো খেলতে পারলে পূর্ণ শক্তির ইকুয়েডরেরও পারার কথা না।

মূল সমস্যা এটাই যে আর্জেন্টিনা তাদের মতো করে খেলতে পারছে না। ভাগ্যদেবীও কিছুটা বিরূপ মনে হচ্ছে।

গত ম্যাচেই একটু ভাগ্যের ছোয়া পেলে ম্যাচটা জেতা অসম্ভব ছিল না।

ফুটবল বহির্ভূত আরেকটা বিষয় আর্জেন্টিনার পক্ষে কাজ করতে পারে।

যতই নীতির কথা বলা হোক না কেন শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ একটা ব্যবসাই। এই ব্যবসায়িক পরিবেশে আর্জেন্টিনা অনেক বড় একটা পণ্য। আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের মতো দল যদি বিশ্বকাপে খেলতে না পারে তাহলে ফিফার লভ্যাংশের অন্তত ৩০% ক্ষতি হবে সেটা নিশ্চিত।

তবে এগুলো বাদ দিয়ে আপাতত কি করলে আর্জেন্টিনা খেলেই জিতবে সেটা নিয়েই ভাবা উচিত।

২.

আর্জেন্টিনার খেলার কৌশল কেমন হবে?

বুদ্ধিমান হলে আর্জেন্টিনা প্রথম হাফটাতে ছোট ছোট পাসে বল নিজেদের মাঝে রাখার চেষ্টা করবে। যতটা সম্ভব বল কম হারানোর চেষ্টা করতে হবে যাতে বলের পেছনে দৌড়িয়ে শক্তি খরচ না হয়।

অন্যদিকে ইকুয়েডর যদি জিততে চায় তাহলে তাদের লক্ষ্যই থাকবে শুরুতে আর্জেন্টিনাকে ক্লান্ত করে ফেলা। সেই উদ্দেশ্যে তাদের লক্ষ্য থাকবে লম্বা পাসে আর্জেন্টিনাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখা।

যদি প্রথম অর্ধেই আর্জেন্টিনাকে ক্লান্ত করে ফেলা যায় তাহলে দ্বিতীয় অর্ধে আর্জেন্টিনা কিছুই করতে পারবে না।

আর্জেন্টিনার মূল উদ্দেশ্যই থাকতে হবে যাতে ম্যাচের শেষ পর্যায় পর্যন্ত তারা খেলাটা চালিয়ে যেতে পারে।

ফ্রি কিক পেলে সেটা যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে হবে। ট্র্যাডিশনাল প্লে মেকিং এর মাধ্যমে চান্স ক্রিয়েট করে গোল করতে গেলে দুই তিনবার চেষ্টার পরেই দূর্বল হয়ে পড়ার কথা।

মনে রাখতে হবে কালকের রেসটা ১০০ মিটারের নয়, অনেকটা ম্যারাথনের মতো। শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত নিজেদের টিকিয়ে রাখতে হবে।

৩.

গুঞ্জন আছে যে আর্জেন্টিনাকে বিপদে ফেলার জন্য ব্রাজিল চিলিকে ম্যাচ ছেড়ে দিবে কিংবা ইকুয়েডরের কোচ আর্জেন্টিনার বলে ম্যাচটা হালকা ভাবে নিবে।

এত গুজবে কান না দিয়ে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের খেলাটাই ঠিক ভাবে খেলতে হবে।

এই কোয়ালিফাইং এ তাদের জন্য সবচেয়ে ক্রুশিয়াল ম্যাচ এটাই, যদি প্লে অফ খেলতে হয় সেটাও এতটা ক্রুশিয়াল হবে না।

যদি কোন অঘটন ঘটে যায় তাহলে আর্জেন্টিনার একটা সোনালি প্রজন্মের শেষটা হয়তো আগামী কালই হয়ে যাবে।

আর যদি আর্জেন্টিনা জিতে যায় তাহলে এই আর্জেন্টিনা কে নিয়ে বিশ্বকাপে বাজি ধরতেও আমি রাজি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।