‘আরে ইয়ার, অনলি ওয়ান বল…’

রমন লাম্বা – ভারতীয় ক্রিকেটার। তবে, তিনি যতটা না ভারতীয় তারচেয়ে বেশি বাংলাদেশের কাছে পরিচিত ছিলেন। কারণ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে প্রায় ৭ বছর খেলেছেন তিনি। এবং তৎকালীন সময়ে খুবই ঢাকার ক্রিকেটে খুব জনপ্রিয় ছিলেন।

১৯৯১-৯২ মৌসুমে তখনকার সাড়া জাগানো দামাল স্মৃতি ক্রিকেটে আবাহনীর হয়ে ঢাকার মাঠে অভিষেক হয় রমন লাম্বার। ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যাটের দ্যুতি ছড়িয়ে আবাহনীকে চ্যাম্পিয়ন করানোর পথে নিজে বিবেচিত হন ম্যান অব দ্য সিরিজ।

পরবর্তীতে প্রিমিয়ার লিগেও লাম্বা হয়ে যান ধারাবাহিকতার প্রতিমূর্তি। পরের মৌসুমে তিনি খেলেন জিএমসিসি ক্লাবের হয়ে। মাঝখানে ব্রাদার্সের হয়ে খেলেছেন চট্টগ্রাম মহানগরীতে আয়োজিত স্টার সামার ক্রিকেটও। শেষে আবারও চলে আসেন আবাহনীর তাঁবুতে।

১৯৯৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বর্তমান বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে ফিল্ডিং করছিলেন রমন লাম্বা। প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান। মোহামেডানের হয়ে ব্যাট করছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন অপি।

হেলমেট ছাড়াই শর্টে ব্যাটসম্যানের খুব কাছাকাছি ফিল্ডিং করতে দাঁড়িয়েছিলেন লাম্বা। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো আবাহনীর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট হেলমেট পরার জন্য লাম্বাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। লাম্বা সে কথায় কান দেননি।

বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব সজোরে ব্যাট চালালে বল এসে আঘাত করে লাম্বার মাথায়। তখন নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বুলবুল রমন লাম্বাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি ঠিক আছ?’। রমন লাম্বা কৌতুক করে বলেন, ‘বুলি ম্যায় তো মার গ্যায়া ইয়ার’। সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ থেকে বেরিয়ে যান তিনি। ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান রমন লাম্বা। ৩৮ বছর বয়সেই জীবন নদীর ওপারে চলে যান তিনি।

আবাহনীর টিম ম্যানেজার শেখ মামুন সেদিনের স্মৃতিচারণা করে বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘শর্ট বলে মেহরাব হোসেন অপি পুল করলে বলটি রমন লাম্বার মাথায় লাগে আর ১০ গজ দুরে পাইলট সেই বলটি ক্যাচ ধরেন। মেহরাব হোসেন অপি আউট, ম্যাচ আমি জিতেছি, কিন্তু রমন লাম্বাকে আর পাইনি। তিনদিন অজ্ঞান থাকার পর সে হাসপাতালে মারা যায়। আমরা তাকে বলেছিলাম হেলমেট নিতে। কিন্তু সে বললো ‘আরে ইয়ার, অনলি ওয়ান বল’, কিন্তু সেই একটা বলই লাগলো তাঁর গায়ে।’

ভারতের হয়ে চারটি টেস্ট ও ৩২টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন অলরাউন্ডার রমন লাম্বা। ১৯৮৬ সালে কানপুরে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে টেস্টে অভিষেক হয় লাম্বার। এর আগে একই বছর জয়পুরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলেন প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ। শেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন ১৯৮৯ সালে লাহোরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

১৯৬০ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন এই ক্রিকেটার। বেঁচে থাকলে আজ বয়স হতো ৬৭ বছর। সেটা হয়নি। আর রমন লাম্বা তাই স্রেফ এক দু:সহ অতীতের নাম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।