আমি তোমার জন্য এনে দেবো…

‘আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে, তুমি আনমনে বসে আছো, আকাশ পানে দৃষ্টি উদাস’ – ধূলো পড়া চিঠি অ্যালবামের ‘পরী’ শিরোনামের এই গানটি সঙ্গীতপিপাসুদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এছাড়া দিন বাড়ি যায়, তুমি আমার বায়ান্ন তাস, সূর্যস্নানে চল, জানালার গ্লাসসহ বহু জনপ্রিয় গান নিজের সমধুর কন্ঠে ধারণ করেছেন।

এমনকি ‘বনমালী তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা’ রাধারমনের এই বিখ্যাত গানটিও গেয়েছেন তিনি, অনেকের মতে তাঁর গাওয়া এই গানটি অন্যতম সেরা ভার্সন। শুধু গানে নয়, তিনি সুর সৃষ্টিতেও মুগ্ধতা ছড়ান। তিনি বাংলা সঙ্গীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক, সুরকার ও ব্যান্ড ‘দলছুট’ প্রধান বাপ্পা মজুমদার।

পুরো নাম শুভাশিস মজুমদার বাপ্পা, বাবা বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ ওস্থাদ বারীন মজুমদার, মা ইলা মজুমদার। বিখ্যাত মূকাভিনেতা পার্থ প্রতিম মজুমদার ও সম্পর্কে ভাই হন। ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন সঙ্গীত চর্চার মাধ্যমে, প্রথম একক অ্যালবাম বের হয় ১৯৯৫ সালে, নাম ‘তখন ভোর বেলা’। এরপর একে একে বের করেন কোথাও কেউ নেই, ধুলো পড়া চিঠি, দিন বাড়ি যায়, সূর্যস্নানে চল, জানি না কোন মন্তরে, বেঁচে থাক সবুজসহ বেশ কয়েকটি অ্যালবাম।

ফাহমিদা নবীর সঙ্গে বের করেন দ্বৈত অ্যালব্যাম ‘এক মুঠো গান’,যা বেশ জনপ্রিয়তা পায়। পরে দ্বিতীয় কিস্তিও বের হয়। এছাড়া অসংখ্য মিশ্র অ্যালবামেও গান গেয়েছেন। রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে বের করেছেন অ্যালবাম ‘আয় বেঁধেছি প্রান’, চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন ‘সুভা’ ছবিতে, সম্প্রতি গহীন বালুচর সিনেমার ‘ভালোবাসায় বুক ভাসাইয়া’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এইসবের বাইরে তাঁর আরেকটি পরিচয় হচ্ছে, তিনি অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘দলছুট’ এর প্রধান, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যান্ডে সান্নিধ্য পান প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরীর। এই ব্যান্ডের আহ, হৃদয়পুর, জোছনাবিহার অ্যালবামগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

শাহ আব্দুল করিমের জনপ্রিয় গান ‘গাড়ি চলে না’ নতুন ভাবে সাজিয়ে বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পান। সঞ্জীব চৌধুরীর মৃত্যুর পর ‘আয় আমন্ত্রণ’ নামে অ্যালবাম বের করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এর বাইরে ‘বাপ্পা মজুমদার অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন।

গায়কীর বাইরে সুরকার হিসেবেও তিনি বেশ দক্ষ, নিজের প্রায় সব গানেরই সুর তিনি দিয়েছেন, অন্যান্য শিল্পীদের গানেও তিনি সুরকার হিসেবে আবির্ভূত হন। চলচ্চিত্রে স্বপ্নডানায় পর ‘সত্ত্বা’র সঙ্গীত পরিচালনা করেন, এই ছবিতে গাওয়া জেমসের ‘তোর প্রেমেতে অন্ধ হলাম’ ও মমতাজের ‘না জানি কোন অপরাধে’ অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বাপ্পার জন্ম ১৯৭২ সালের পাঁচ ফেব্রুয়ারি। বিয়ে করেছিলেন জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অভিনয় শিল্পী চাঁদনীকে। সেই সম্পর্কে ইতিও ঘটেছে। ফলে, ব্যক্তিজীবনটা এখন তাঁর একরকম বিপর্যস্তই বলা যায়। অনেকদিন হল সঙ্গীতাঙ্গনেও তিনি নীরব। জীবন ও সঙ্গীত ভুবনে নিজেকে তিনি দ্রুতই ফিরে পাবেন, নতুন কোনো সুর গেয়ে আলোচনার ঝড় তুলবেন সেই প্রত্যাশা রইলো।

 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।