আমি চাপ অনুভব করি না: অক্ষয় কুমার

খান কিংবা কাপুরদের ছাপিয়ে বলিউডের সবচেয়ে ব্যস্ততম অভিনেতাদের একজন তিনি। আছে বিস্তর সাফল্য। এর মধ্যে আলাদা করে বলতে হয় গতবছরের কথা, যাই করেছেন তাতেই এসেছে অবারিত সাফল্য। বক্স অফিসে সাফল্যের সাথে এসেছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার – সময়টা দুর্দান্ত যাচ্ছে অক্ষয় কুমারের। শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছে তাঁর ‘প্যাডম্যান’।

তামিলনাড়ুর সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট অরুণাচলম মুরুগানন্থমের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত এই ছবির ব্যাপারে অক্ষয় এবার খোলাখুলি আলোচনা করলেন আনন্দবাজার পত্রিকার বিশেষ আয়োজন আনন্দ প্লাসে। সাথে তাঁর ক্যারিয়ারের অনেক খুটিনাটি বিষয়ও উঠে এলো।

গত বছরটা তো আপনার বেশ ভালই গেল। নতুন বছরের জন্য কোনও পরিকল্পনা করেছেন?

– না, এখনও পরিকল্পনা করিনি। তবে ভাবছি, এ বার থেকে বছরে চারটের বদলে তিনটে ছবিতে কাজ করব।

চাপ কমাতেই কি এই সিদ্ধান্ত?

– না। সেই অর্থে আমি চাপ অনুভব করি না। প্রায় তিরিশ বছর ধরে তো এই কাজটাই করে চলেছি। একটা ছবিতে খুব বেশি হলে ৪৫ দিন সময় লাগে। আমি তো বছরে পাঁচটা ছবিও করতে পারি। তার পর টেলিভিশন শো, এনডোর্সমেন্ট, শো রুমের ফিতে কাটা রয়েছে। আসলে আমি নিজেকে আরও একটু সময় দিতে চাইছি।

‘প্যাডম্যান’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে…

– ছবির ব্যবসা কেমন হবে, তা নিয়ে সত্যিই ভাবছি না। গুরুত্বপূর্ণ হল, সোশ্যাল নেটওয়র্কিং সাইটে পুরুষরা এখন মেনস্ট্রুয়েশন সাইকল নিয়ে আলোচনা করছেন। আগে পুরো বিষয়টাই গোপন ছিল। বলতে লজ্জা করছে, সারা দেশে ৮২ শতাংশ নারী পিরিয়ডের সময় ছাই-মাটি ব্যবহার করেন। ‘প্যাডম্যান’-এর সময় এই তথ্যটা জেনে আমি রীতি মতো স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। বিষয়টা নিয়ে এমনই ছুঁৎমার্গ রয়েছে যে, কোথাও কোথাও তো মেনস্ট্রুয়েশন সাইকল শুরু হলে কোড ল্যাঙ্গোয়েজে বলে, টেস্ট ম্যাচ শুরু হল। এর জন্য দায়ী নারীদের চারপাশের মানুষেরা। আমরা কোন দশকে পড়ে রয়েছি, কল্পনা করতে পারেন!

প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় তো এখনও অধিকাংশেরই স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনারও টাকা থাকে না…

– হ্যাঁ, ভাবুন বিষয়টা কতটা ভয়াবহ! আমার মনে হয়, প্রতিরক্ষার বরাদ্দ থেকে দুই শতাংশ অর্থ বাঁচিয়ে সামাজিক স্বাস্থ্য খাতে খরচ করা উচিত। তা হলে এই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। স্যানিটারি ন্যাপকিনকে জিএসটি মুক্ত করাও উচিত। কিন্তু এ সব কথা তো কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে বলা সম্ভব নয়। জোর করেও কাউকে দিয়ে কিছু করানো যায় না। বিষয়টা নিয়ে সততার সঙ্গে ছবি তৈরি করেছি। এটুকুই আশা, দর্শক দেখবেন, সমস্যাটা বুঝতে পারবেন।

একটা সময়ের পর আপনি কিন্তু ক্রমাগত নিজেকে পাল্টেছেন। আপনার কি মনে হয়, বদলের এই ধারাই বলিউডের অন্য তারকাদের থেকে আপনাকে স্বতন্ত্র জায়গা দিয়েছে?

– দেখুন, ইন্ডাস্ট্রিতে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই যে, এক ধরনেরই কাজ করতে হবে। প্রত্যেকের কাজের ধরন আলাদা। আমি চেষ্টা করছি, দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটা ছবিতেই বৈচিত্র বজায় রাখার। ‘প্যাডম্যান’-এর পরে তো ‘রোবট ২.০’ মুক্তি পাবে। সেখানে আমি নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করছি। অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে, কেন ভিলেনের চরিত্র করলাম? আমার উত্তর, কেন করব না? রজনীকান্তের বিপরীতে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয়টাও বড় ব্যাপার! এখনও পর্যন্ত ২১-২২জন নতুন পরিচালকের সঙ্গে এবং ১৭ জন নবাগত হিরোইনের সঙ্গে কাজ করেছি। আমি অনেকটা জলের মতো। আমার প্রসেসটাই হল, যে যেমন, তার সঙ্গে সেই ভাবে মিশে যেতে হবে।

‘টয়লেট’, ‘প্যাডম্যান’- এর পর অন্য কোনও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করার কথা ভেবেছেন?

– আমার এক নারী ভক্তও একই কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন। ওকে পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম, কোন বিষয় নিয়ে সিনেমা তৈরি করা উচিত? তিনি বলেন, পণপ্রথা নিয়ে ছবি করতে। এটুকু বলতে পারি, তাঁর কথা কিন্তু আমাকে বেশ ভাবিয়েছে।

পঞ্চাশের গণ্ডি পেরোনোর পরেও আপনি স্বমহিমায়। বছর সাতেক পরেও কি এই ধারাবাহীকতা বজায় থাকবে?

– ভবিষ্যতের কথা কে বলতে পারে! যখন অনুভব করব, স্লো হয়ে পড়ছি, কাজটা আর উপভোগ করছি না, তখনই অবসর নেব।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।