‘আমার চোখ সাকিবের দিকে যেতেই আর পারিনি’

সাকিব আল হাসান ফেসবুকে তাঁর সেলাই করা আঙুলের ছবি পোস্ট করেছেন। অধিকাংশই শুভকামনা জানিয়েছেন। এর মধ্যেও পাওয়া গেল শতাধিক ‘হা হা রিয়্যাক্ট’। হ্যা, আমাদের ক্রিকেট ভক্তদের মিছিলে এমন কিছু মানুষও আছেন।

সাকিব যখন ইনজুরিতে পড়লেন ক’দিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে, তারপরে নব্বই দশকের চলচ্চিত্র নায়ক রুবেল কোনো হুশ জ্ঞান হারিয়ে বলে ফেললেন, সাকিব নাকি ইচ্ছা করে মাঠ থেকে উঠে গেছেন। হ্যা, আমাদের সো কল্ড সেলিব্রিটি সমর্থকদের মধ্যে এমন মানুষও আছেন।

সাকিব ক্রিকেট ও জাতীয় দলের প্রতি কতটা নিষ্ঠাবান সেটা আসলে নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই। আসলে, সাকিবের মত বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের বিপক্ষেও যে এমন ভুতুড়ে সব অভিযোগ উঠতে পারে তা্ আসলে কল্পনাই করা যায় না। বাইরের মানুষের কথা আর বলে কি হবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভেতরেও এমন মন্তব্য করা লোকের সংখ্যা নেহায়েৎ কম নয়।

আসলে সাকিব কেমন? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাকিবকে নিয়ে ছোট্ট একটা লেখা লিখেছেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের বাল্য বন্ধু খান নয়ন। অলিগলি.কমের পাঠকদের জন্য লেখাটা হুবহু দেওয়া হল।

বাড়ি গিয়েছিলাম (মাগুরা)। শুক্রবার একই ফ্লাইটে ফিরছিলাম। পথে কথায় কথায় হঠাৎ বলল, কাল সেলাই কাটবে। ইনশাআল্লাহ মাঠে ফিরতে পারব। প্রথম টি-টোয়েন্টি না পারলেও দ্বিতীয়টা ঠিকই খেলব। চোখে মুখে ভীষণ আশার ছাপ। আমার মনটা ভীষণরকম আনন্দে নেচে উঠল!

পরদিন বিকালে একসাথে হসপিটালে গেলাম। ওয়েটিং রুমে আপেক্ষমান দুজন। ডাক্তারের সাক্ষাত পেতে ২০ মিনিট মত লাগবে। ওয়েটিং রুমের টিভিতে ব্রেকিং নিউজ: টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, দলে ফিরলেন সাকিব।

ওটি রুমে সেলাই খোলা হল। সাকিব বসে আছে ঠিক পাশে আমি দাঁড়ান। ডাক্তার অজিত আগারওয়াল সাকিবের আঙুল এবং হাতের বর্তমান পরিস্থিতি পুরোটা ব্যাখ্য করছেন। প্রথমে কিছুটা সময় মন দিয়ে শুনছিলাম। আমার চোখ সাকিবের দিকে যেতেই আর পারিনি।

আমি এক নতুন সাকিব দেখলাম। যাকে সেই ছেলে বেলা থেকে জেনেছি, চিনেছি, এক সাথে হাসতে খেলতে খেলতে বড় হয়েছি, আজ তাকে আবার নতুন করে দেখতে হচ্ছে!

এতদিন জানতাম, সাকিবের কাছে ‘শরীর-মন-পরিবার’ থেকে ক্রিকেট বড়। আজ জানলাম,  নিজের ‘জীবনের’ থেকেও ক্রিকেট বড়। তাইতো তুমি ‘বাংলাদেশের জান-প্রাণ’। তাইতো আজ ১৬ কোটির দুহাত তোমার সুস্থতার প্রার্থনায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।