আমার একান্ত নিশো’র গল্প

নিজের গল্প নিজে করাটা বাজে কাজ। এতে লোকে ভাবে ব্যাটার আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই নিজের সাফাই গাইতে এসেছে। কিন্তু উপায় কি! ভূমিকা টানতেও তো কিছু না কিছু বলতেই হয় তাই বলা।

আমি আফরান নিশো’র ভক্ত। অনেক আগে থেকেই ভক্ত। অ্যাকটেল-এর বিজ্ঞাপনটা যখন দেখতাম তখন থেকেই। কিউট অ্যান্ড স্মার্ট ছেলেটা ন্যাচারালি অভিনয় করে বিজ্ঞাপনটিকে জমিয়ে তোলে। তার লুকটা আমার কাছে আর দশটা ছেলের মতো হয় না। নায়ক না হয়েও তাকে নায়ক মনে হয়। বড়পর্দায় সে নায়ক না তবে ছোটপর্দায় বর্তমানে সে অবধারিত নায়ক। তার সাথে স্টাইলিশ বিষয়টা পুরোদমে খাপ খায়।

কতগুলো নাটক করলে খাঁটি অভিনেতা হওয়া যায়?

দশটা, বিশটা, পঞ্চাশটা, একশোটা?

আরে না, বস।

কাজের মতো কাজ হলে অল্প কাজই যথেষ্ট। হ্যাঁ, বলছি সেই নিশো-র কথা যে নিশো আমাকে তার প্রতি আকর্ষণ করাতে পেরেছিল তার ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ কাজ দিয়ে। যেমন ধরুন বলছি ‘যদি তুমি জানতে’ নাটকটি। এ নাটকটি আজও আমার প্রিয় নাটকের তালিকায় আছে, থাকবেও। সারিকার বিপরীতে নিশো নাটকটিতে ন্যাচারালি সুন্দর অভিনয় করেছিল। পিকেটিং, বোমাবাজি করে যে ছেলে জীবিকা চালাত সারিকাকে একটা সিডির দোকানে দেখে ভালোবেসে ফেলে। সারিকাও বুঝতে পারে নিশো তাকে ভালোবাসে।

এরপর সে সিডির মাঝে চিরকুট লিখে দিত যেখানে তারও মনের কথাটা বলা আছে। কিন্তু না, নিশো আর সেগুলো পড়ে না শুধু জমিয়ে রাখে। কারণ জমিয়ে রাখাটাই আনন্দের তার কাছে। এভাবে একদিন বোমাবাজি করতে গিয়ে নিশো জীবন দেয়। সারিকা তাকে খুঁজতে এসে বন্ধুর কাছে জানতে পারে নিশো আর নেই। সিডিগুলো বুকে জড়িয়ে তখন সে কাঁদতে থাকে। অসাধারণ ছিল। এই যে নাটকটির কথা বললাম এর মধ্যে কিন্তু তেমন বড় কোনো আয়োজন নেই তবে ন্যাচারালিটি আছে। মেসেজও আছে।

নিশো সারিকার জন্য ভালো ছেলে হতে চেয়েছিল। ভালো ছেলে হবার বিষয়টাও সমাজে একটা ভালো মেয়ের জীবনসঙ্গী হওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব খুব প্রিয় নাটক ‘এক হাজার টাকা’। নাটকে মীমের বিপরীতে নিশো একরাতের জানাশোনায় একটা এক হাজার টাকার নোটকে জীবনের দর্শনে নিয়ে যায়। পতিতা হবার আশায় যে মীম রাতের পথে বের হয়েছিল তাকে নিশো বদলে দেয়। তারপর তাকে দেখা যায় সেই চায়ের দোকানের পাশে যেখানে টাকাটা ফেরত দেবার কথা ছিল। ঘটনাক্রমে আসে মীম। আমড়া দিয়ে প্রপোজ করার ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটায় নিশো। ‘ডুবুরি’ নাটকটির কথা না বললেই নয়। মৌসুমী নাগের বিপরীতে নিশো কি অসাধারণ অভিনয় করেছে! ডুবুরির স্বপ্ন আর বাস্তবতার সাথে প্রচলিত সমাজের বাধাকে জয় করার একটা দুর্দান্ত গল্পে সো মাচ ন্যাচারাল ছিল তার অভিনয়।

মনে পড়ে – অপেক্ষার ফটোগ্রাফি, পেন্ডুলাম, দূরত্ব বজায় রাখুন, সিঁদুর, লেটস ফ্লাই, পারফিউম, চিলেকোঠার প্রেম, দ্য প্রেস, একটা ভুল কিংবা অজস্র পদ্মফুল, ট্রাম্প কার্ড, গুলবাহার, ব্রেক আপ স্টোরি, ভূতের ভ্যালেন্টাইন – এমন আরো কিছু নাটক/টেলিফিল্মের কথা। আজও সমানভাবে জনপ্রিয়তা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে নিশো। তার মতো ডেডিকেটেড অভিনেতার জন্যই ‘উচ্চতর হিশাববিজ্ঞান, তুমি না থাকলে, জীবনসঙ্গী, রাতুল বনাম রাতুল, ট্যাটু, যোগ-বিয়োগ’ এ ধরনের অভিনয়সমৃদ্ধ নাটক নির্মিত হচ্ছে।

নিশো’র অভিনয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ব্যক্তিত্ব। তার একটা নিজস্ব ব্যক্তিত্ব আছে। ভারিক্কি অভিনয়ই বলি আর ঠাণ্ডা মেজাজের অভিনয়ই বলি সে ঠিকঠাক করে দেখায়। চেহারার মধ্যে নায়কোচিত যে ইমেজটা আছে ওটা হচ্ছে তার আকর্ষণ করার বাড়তি ক্ষমতা।

নিশো আর কারো মতো না। নিশো শুধু নিশো’র মতো। তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আছে বলে মনে করি না। নিজেই সে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী। দেশের তরুণ প্রজন্ম যে অভিনয় আর ব্যক্তিত্ব দেখতে চায় টিভি নাটকে তার একটা ছাপ তারা নিশো-র মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। এই গুরুত্ব থেকেই নিশো এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে।

আমার একান্ত নিশো এভাবেই একটা চলমান গল্প হয়ে থাকুক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।