আমার আর অটোগ্রাফ নেওয়া হলো না হুমায়ূন আহমেদের: দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

দেবব্রত মুখোপাধ্যায় – যারা নিয়মিত খেলাধুলার খোঁজ খবর রাখেন তারা এই নামটির সাথে বেশ পরিচিত। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি পত্রিকায় ক্রীড়া সাংবাদিকতার বাইরে তিনি একজন গুনী লেখকও বটে। কিশোর সাহিত্য ও ছোটগল্পের পাশাপাশি খেলাধুলা নিয়ে লিখে তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার জীবনী অবলম্বনে লেখা ‘মাশরাফি’ বইটি বছর দুয়েক আগের বইমেলায় বের হওয়া সেরা বইগুলোর একটি ছিল।

এই বইমেলায় আসছে তাঁর নতুন বই ‘নায়ক’। এখানে থাকবে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সব ক্রিকেটারের গল্প। নতুন বই, নিজের লেখালিখি ও ক্রীড়া সাংবাদিকতা – এ সব কিছু নিয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছেন অলিগলি.কমের।

কেমন আছেন?

– আমি শারিরীকভাবে কখনো কখনো খারাপ থাকি। কিন্তু ‘কেমন আছেন’ এর উত্তরে সবাই বলে ভালো আছি, সেটা বলে মানসিক কারণে। আমি এটা বলব যে মানসিক কারণে খুবই ভালো আছি।

দীর্ঘদিন ধরে আপনি সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। একজন লেখক নাকি একজন সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন?

– সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ এটা তো আমার জীবিকা। আমি সবসময় এটার ভিতরেই বসবাস করি। ফলে আমাকে বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় দিতে হয় সাংবাদিক হিসেবে। হ্যাঁ, লেখক হিসেবে পরিচয় দিয়ে যদি আমি ওটাই সবসময় করে যেতে পারতাম মানে লেখক হিসেবে পরিচয় দিতে গেলে কী করতে হয়? সার্বক্ষণিক লেখক হতে হয়। আমি মনে করি লেখক হিসেবে পরিচয় সেটা, যেটা তার সার্বক্ষণিক কর্মকান্ড। সাংবাদিকতাও একধরণের লেখালেখি। কিন্তু লেখক বলতে আমরা যেটা বুঝি যে ক্রিয়েটিভ রাইটিং, সেই ক্রিয়েটিভ রাইটিং যদি আমরা সবসময় করতে পারতাম তাহলে লেখক হিসেবে পরিচয় দিতে আমি বেশি গর্ববোধ করতাম। এখন আমি যেহেতু সবসময় লেখালেখি করতে পারি না, সবসময় লেখালেখির মধ্যে বসবাস করি না, ফলে লেখক হিসেবে পরিচয় দেয়ার অধিকারটাই আমার নেই! ফলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার ব্যাপারটাও অনেক পরে আসে।

কোনটা বেশি চ্যালেঞ্জিং? সাংবাদিকতা না লেখালিখি?

– অবশ্যই সাংবাদিকতা বেশি চ্যালেঞ্জিং! আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু ভাবতে হবে, নতুন কিছু করতে হবে। যে তথ্য আবিষ্কার করলেন সেই তথ্য প্রমাণ করার জন্য আপনাকে নানারকম কর্মকাণ্ড করতে হবে। হ্যাঁ, যদি চ্যালেঞ্জিং না বলে আপনি বলতে চান যে কোনটা বেশি ডিমান্ডিং, তাহলে আমি লেখালেখি বলব। কারণ লেখালেখি যেমন শারীরিক এফোর্টের ব্যাপার আছে, তেমন চিন্তাগত জগতে একটা বিরাট এফোর্টের ব্যাপার আছে। সেটা আবার সাংবাদিকতার চেয়ে বেশি এফোর্টের ব্যাপার। কিন্তু চ্যালেঞ্জের জায়গাতে সাংবাদিকতা এগিয়ে।

ছোট গল্প কিংবা কিশোর সাহিত্যের চেয়েও আসলে খেলাধুলা বিষয়ক বই আপনাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে। হঠাৎ এই ভিন্ন একটি ধারায় আসার কারণ যদি বলতেন…

– আমি খেলাধুলা নিয়ে যেহেতু কাজ করি, ফলে খেলাধূলা নিয়ে লেখাটা আমার জন্য বেশি সহজ ছিল। এমন না যে আমি কিশোর সাহিত্য কিন্তু ছোটদের নিয়ে লেখা ছেড়ে দিয়ে কাজটা করছি। এটা ঠিক যে কিশোর সাহিত্যের কয়েক বছর হলো আমার কোনো বই প্রকাশ হচ্ছে না। ছোট গল্পেরও কোনো বই প্রকাশ হচ্ছে না। ফলে মনে হতে পারে যে ওই কাজগুলো একেবারে বন্ধ করে দিয়ে খেলাধুলার কাজ করছি। ব্যাপারটা কিন্তু তা না। ওই কাজগুলোও করছি, শুধু প্রকাশ হচ্ছে না। পার্থক্য শুধু ওইটুকু। কিন্তু খেলাধুলার বই লেখার সিদ্ধান্ত নিলাম দুটো কারণে। এক হচ্ছে খেলাধূলার উপর যে পরিমাণ বই থাকা উচিত একটা দেশে, আপনি যদি ক্রিকেটের কথা শুধু বিবেচনা করেন, ক্রিকেটে এখন আমরা পৃথিবীতে একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। আপনি যদি অনান্য যেসব দেশ ক্রিকেট খেলে সেসব দেশের দিকে তাকান সেসব দেশে ক্রিকেটের উপরে যে পরিমাণে বই বাজারে এক্সিস্ট করে, যে পরিমাণে লেখালেখি আপনি পাবেন, আমাদের দেশে সে তুলনায় ক্রিকেটের ওপর বই একেবারে হাতেগোনা। তো এটা একটা আমার জন্য হতাশার জায়গা ছিল। আমাদের এখানে ক্রিকেটের যেসব নায়কেরা ; আমার ক্রিকেট নিয়ে বই হচ্ছে দুটো, একটা হলো সাকিব আল হাসান আরেকটা মাশরাফি। তো আমি যেটা ভাবলাম আমাদের এখানে ক্রিকেটে যারা নায়ক হয়ে উঠছে তাদের সম্পর্কে সবাইকে জানানো দরকার। অনেকটা বলতে পারেন ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ারও আমার একটা লোভ ছিল। যে কেউ যেহেতু করছে না আমি করি। আমি যেহেতু এই ব্যাপারটার সাথে সবসময় জড়িত আছি, আমি এটা করতে পারব। তো সেই একটা আগ্রহের জায়গা ছিল। আর আরেকটা যে ব্যাপারটা সত্যি সেটা হলো এই হতাশাটা মেটানোর একটা জায়গা দরকার ছিল। আমাদের এখানে যেহেতু একেবারেই হচ্ছে না, যারা পাঠক তাদের তো একটা চাহিদা থাকেই। আমার মাশরাফি বইটা বেরোনোর পর দেখলাম যে কী বিপুল উৎসাহ নিয়ে লোকজন বইটাকে গ্রহণ করলেন। তো এই জায়গাটা অনুমান করতেই আসলে আমি খেলাধুলা নিয়ে লিখলাম।

আপনি একটু আগেই বললেন যে বাইরের প্রেক্ষিতে, আমাদের দেশে খেলাধুলা নিয়ে বই লেখালিখি হয়ই না বললেই চলে। এর কারণটা কি আসলে?

– না লেখালেখির কারণ হচ্ছে খেলাধুলা নিয়ে লেখালেখি করার প্রথম যে সমস্যা সেটা হচ্ছে আপনাকে প্রফেশনাল হতে হবে। বাই এনি মিন, আপনাকে খেলাধূলার সাথে জড়িত থাকতে হবে। তা না হলে তো আপনি লিখতে পারবেন না। হয় আপনাকে ক্রীড়া সাংবাদিক হতে হবে, না’হয় আপনাকে সাবেক খেলোয়ার হতে হবে। ধরেন একটা গল্পের বই চাইলে আপনি লিখতে পারেন। একটা উপন্যাসের বই যে কেউ লিখতে পারে। একটা ক্রিকেটের বই লিখতে হলে ওই লোকটাকে ক্রিকেটের সাথে জড়িত থাকা ডিমান্ড করে। এখন উন্নত দেশে এসব কাজ করেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। এখন বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা যে কারণেই হোক উৎসাহ পায় না খেলাধূলা নিয়ে লিখতে। এই উৎসাহ না পাওয়ার তাঁরা যে কারণটা বলে, এসব বই খুব একটা বিক্রি হয় না। পাঠক খুব একটা কেনেন না। অনেকে বিভিন্ন সময়ে টুকটাক যা লিখেছেন, লিখে পাঠকের কাছ থেকে খুব একটা রেসপন্স পান নি। তো এটা একটা পারস্পরিক অভিযোগ। পাঠক বলে বাজারে বই নেই, আর যারা সম্ভাব্য লেখক তারা বলে পাঠক নেই। কিন্তু আমার দুটো বই লেখার অভিজ্ঞতায় দেখলাম ওই যে আমাদের বাজারে বইয়ের শূন্যতা আছে, তার জন্য অবশ্যই লেখালেখি দরকার। অন্তত এ দুটো বই থেকে তথ্য জানার পর অন্তত খেলাধূলা নিয়ে লেখালেখি বাড়বে, বাজারে আরো বই বের হবে।

আপনার প্রকাশিত সমস্ত বইগুলোর মাঝে এখন পর্যন্ত ‘মাশরাফি’ বইটিই সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে সবার। বইয়ের কাজে বা ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে নিশ্চয়ই মাশরাফির সাথে লম্বা সময় কাটিয়েছেন। নিশ্চয়ই বেশ কিছু মজাদার ঘটনাও ঘটেছিল। একটি ঘটনার কথা যদি শেয়ার করতেন।

– মাশরাফির সাথে মজার ঘটনা বলতে গেলে তো আসলে কোনটা বলে ফেলেছি আর কোনটা বলি নি বলা মুশকিল। কারণ সবাই মজার ঘটনা জানতে চায়। মাশরাফির সাথে থাকাটাই আসলে একটা বিরাট মজার ঘটনা! যেকোন সময় মাশরাফির সাথে আড্ডাটাও একটা বিরাট মজার ঘটনা। তো আমার কাছে তো সঙ্গে থাকার প্রতিটা মুহূর্তকেই মজার মনে হয়। পাঠকের কাছে কোনটা মজার মনে হবে সেটা বলা মুশকিল। তারপরেও মজার অভিজ্ঞতার যদি বলতে হয়, মাশরাফির বইয়ের কাজে যখন আমরা নড়াইলে গেছি, তখন আমরা তো পৌঁছেছি সকালে। মাশরাফি পৌঁছেছে আমাদের পরে। তারপরে আমরা মাশরাফির বাবার বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। তো মাশরাফি এসে ওর মামার বাড়িতে থাকে। সন্ধ্যার দিকে উঠে আমরা ওর মামার বাড়িতে এসেছি। কাছেই, পাঁচ মিনিটে হাঁটা দূরত্ব। তো ওর মামার বাড়িতে যখন এসেছি, প্রচুর লোকজন। একের পর এক লোক আসছে। আমরা ওখানে বসে গল্প করছি। এর ভিতরে শুনি কী, কয়েকটা ট্রাক পরপর ওর বাড়ির সামনে থেমে গেল। সবাই তো অবাক! সব ট্রাক হচ্ছে লোকজনে ভরা। এত লোকজন নিয়ে ট্রাক কোথায় যায়? কোনো মারামারি আছে নাকি! তো মাশরাফি গিয়ে জিজ্ঞেস করলো কী কোনো ঝামেলা আছে কিনা। এই ট্রাকগুলো আসলে এসেছে যশোর থেকে। ট্রাকে করে এরা এসেছে মাশরাফিকে দেখবে বলে। তো আমি আপনাকে ঠিক বলে বোঝাতে পারছি না, পুরা ব্যাপারটা হচ্ছে আসলে এরকম যে ট্রাকে ট্রাকে মিছিল নিয়ে আসছে। এসেছে মাশরাফিকে দেখবে বলে! তারপর মাশরাফি সেই সবগুলো লোকের সঙ্গে এক এক করে হাত মিলালো, ছবি তুললো। কয়েকঘন্টা ধরে সে এদের সময় দিলো। তো এটা একটা বিচিত্র অভিজ্ঞতা। এটা কেবলমাত্র ওখানে গেলেই টের পাওয়া সম্ভব। শুধু তাকে দেখার জন্য প্রতিদিন লোকজন আসছে! শেষপর্যন্ত গতবছর সে নিয়ম করে দিয়েছে যে এতটা থেকে এতটা তাকে দেখা যাবে।

বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সব ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে আপনার নতুন বই ‘নায়ক’ প্রকাশিত হতে চলেছে এবারের বইমেলায়। ‘নায়ক’ বইটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কতখানি?

– ‘নায়ক’ বইটা আমার প্রত্যাশা ‘মাশরাফি’ বইটার মতো না। কারণ মাশরাফি যে জনপ্রিয়তায় পুরো বাংলাদেশ জুড়ে আছে, এটা অন্য কোনো ক্রিকেটের বই দিয়ে তাকে স্পর্শ করা সম্ভব না। অসম্ভব। কিন্তু আমার মনেহয় এই বইটা যেহেতু একটা কমপ্লিট কালেকশন, যেহেতু বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সকল ক্রিকেটার সম্পর্কে কম-বেশি জানা যাবে, সেহেতু আমার ধারণা পাঠক পাঠক যারা ক্রিকেট ফলো করেন, বিশেষ করে যারা একটু ক্রিকেট নিয়ে মনেপ্রাণে ভাবেন, ক্রিকেট নিয়ে একটু খোঁজ-খবর রাখতে চান, তাদের উচিত অতীত দিনে বাংলাদেশের হয়ে যারা ক্রিকেট খেলেছে তাদের অন্তত একটু নামটা জানা। সেই হানার আগ্রহ থেকে তারা এই বইটা হাতে নিতে পারেন। সেই রকম একটা প্রত্যাশা আছে তবে প্রত্যাশটা খুব বেশি না।

বলা যায়, আপনার সুবাদেই বাংলাদেশে খেলাধুলা নিয়ে বড় আঙ্গিকে লেখালিখির একটা কালচার সৃষ্টি হয়েছে। এটা কতটা ইতিবাচক….

– আমার সুবাদেই সৃষ্টি হয়েছে এই ব্যাপারে আমি পুরোপুরি একমত না। কারণ উৎপল শুভ্র, মোস্তফা মামুন, অগর মন্ডল ওনারা আমার অনেক আগে থেকেই খেলাধুলা নিয়ে লেখালেখি করেন। বলতে পারেন আমার একটা বই খুব বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। ফলে আমার হাত দিয়ে কালচার শুরু হয় নি, আমার হাত দিয়ে জনপ্রিয়তাটা এসেছে। আমি এটা ইতিবাচক মনে করি এই কারণে যে এটা বাকিদের একটা ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। এই ক্ষেত্রটা যদি আমরা সবাই মিলে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি যে এখান থেকে পাঠকের কাছে আরও ভালো ভালো বই যাওয়া সম্ভব। সেটা আমার থেকে না হলেও অন্য যারা লিখবেন বা লেখেন তাদের থেকে যাওয়া সম্ভব।

খেলাধুলার গণ্ডি পেরিয়ে পাঠকদের জন্য ফারুকীর অভিযান , হরিপদ টিম সিরিজের মতো কিছু সাহিত্য উপন্যাস লিখেছেন আপনি। ভবিষ্যতেও কি পাঠকদের জন্য এমন কিছু উপহার দেবার ইচ্ছে রয়েছে?

– না না, অবশ্যই ইচ্ছা আছে। আমি একটা উপন্যাস নিয়ে কাজ করছি প্রায় তিন বছর হলো। এই উপন্যাসটা নিয়ে নানা ফর্মে কাজ করছি। কোন ফর্মে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল হবে সেটা পরের ব্যাপার। কিন্তু আগামী বইমেলার আগে আশা করি কাজটা শেষ করব। এই উপন্যাসটা আগামী বইমেলায় পাঠক পাবেন। এছাড়া কিশোর উপন্যাসও আমি আমার মতো করে লিখছি। আমি মনে করি আগামী বইমেলায় আমার খেলাধুলার বাইরের কাজগুলো পাঠক টের পাবেন।

শেষ প্রশ্ন। বইমেলা চলছে। বইমেলা নিয়ে কোনো মজার অভিজ্ঞতা আছে যেটক শেয়ার করা যায়…

– বইমেলায় তো আমি সবসময় পাঠক হিসেবেই যাই, বই কিনতে যাই। একটা জিনিস যে আমি প্রচুর বই কিনি, প্রচুর বই পড়ি। ফলে পাঠক হিসেবে যাই। একটা অভিজ্ঞতা আছে হুমায়ূন আহমেদের সাথে। হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার কখনো সামনাসামনি কথা হয় নি। তার জীবদ্দশায় আমি অনেকবার পরিকল্পনা করেছি যে তাকে একটু দেখতে যাই। আমি যখন ঢাকায় প্রথম এসেছি, তখন হুমায়ূন আহমেদের অটোগ্রাফের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। তো আমার সামনের লোকজন সামনে যাচ্ছে, আমার সিরিয়াল আসবে। সিরিয়াল আসার পর পেছন থেকে আমাকে লোকজন খুব ধাক্কা দিচ্ছে। আমি হুমড়ি খেয়ে হুমায়ূন আহমেদের গায়ের উপর পড়ি। হুমায়ূন আহমেদ তো খুব খুব রাগী মানুষ ছিলেন। চোখ-টোখ বড় করে বললেন, ‘এই ছেলে তুমি কে? তুমি ঠেলাঠেলি করছো কেন?’ আমি বললাম স্যার আমি ঠেলাঠেলি করি নি। উনি বিশ্বাস করলেন না। উনি বললেন, ‘তুমি সরো।’ আমি চলে এসেছি। আমার আর অটোগ্রাফ নেওয়া হলো না হুমায়ূন আহমেদের।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।