আমাদের পরাজয়ে ওদের মুখে হাসি কেন?

বাংলাদেশটা ছিল অন্যদিন থেলে আলাদা, দুর্দমনীয়। তুমি তো হারোনি বাংলাদেশ, জিতেছি আমরা, জিতেছিই তো, দেখোনি কথিত বোদ্ধা-মহাবোদ্ধারা কিভাবে হাসফাস করছিল তোমার উল্লাসে?

আতঙ্ক খুঁজে পেয়েছিলাম আমি তাদের চোখে, যদিও অদৃষ্টের নির্মম পরিহাসে তারা এখন ব্যঙ্গ করে চলেছে তোমাকে, কিন্তু এ কি বিজয়ের চেয়ে কম? ভালবাসি বাংলাদেশ, সবসময় ভালবাসি।

জ্ঞান হবার পর থেকেই তো তোমার সাথে পথচলা, হাসিকান্না সব তোমাকে ঘিরে। প্রতিটি জয়ে যতটা খুশি হয়েছি, এতটা খুশি আর কোন কিছুতে লাগেনা। আবার তুমি জয় না পেলে মনটা ভেঙে যায়, বিশ্বাস কর আমরা ছিঁচকাঁদুনে নই, কিন্তু তোমাদের মলিন মুখগুলো কেন যেন চোখের কোনে অজান্তেই নোনাপানি জমা করে ফেলে।

তোমার উপর হয়তো ক্ষোভ হয়েছে, রাগ হয়েছে। কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি, সবসময় বিশ্বাস করি,
একদিন তুমিই বিশ্বজয় করে এনে দেবে আমার হাতে। এই দিনটা শুধুই আমাদের হতে পারতো, কিন্তু কি হয়েছে বলো, আমরা যে জন্ম থেকেই কপালপোড়া, সেই শুরু থেকে যে হারানোর বেদনায় কেঁদেই যাচ্ছি, সেই কান্নাপর্ব শীঘ্রই খন্ডানোর ইচ্ছা বোধহয় বিধাতার নেই।

জানি, একদিন শেষ হাসিটা তুমিই এনে দেবে।  ভালবাসি বাংলাদেশ অনেক বেশি ভালবাসি তোমায়।

কিন্তু, আমাদের পরাজয়ে শ্রীলংকানদের কেন এই উচ্ছ্বাস? এত বেশি হাসির কারণ কি? আমাদের সাথে তো তাদের বোর্ডের সম্পর্ক ভাল। সাঙ্গাকারা, মাহেলাদের খেলা দেখে বাংলাদেশের একটি প্রজন্ম তাদের চরম ভক্ত।

২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল কিংবা ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে বাংলাদেশিদের অকুণ্ঠ সমর্থন তারা পেয়েছে এই ভারতের বিপক্ষেই। বিপিএলে বাংলাদেশী দর্শকরা শ্রীলঙ্কানদের চান, প্রচুর শ্রীলঙ্কান খেলেনও বিপিএলে, সেখানেও পান সমর্থন। তাহলে বাংলাদেশের সাথে কেন তাদের আচরণ এমন হবে?

সাকিব-পেরেরা যদি মাঠের সমস্যা মাঠেই রেখে আসতে পারেন, তবে দর্শকদের উচ্ছৃঙ্খলামূলক আচরণ কি যৌক্তিক?

ধন্যবাদ রাবণের দেশের মানুষেরা, তোমরা দেখলাম ভালই নাচতে জানো। নিজেদের জন্য না হলেও, অন্যদের জন্য তো বটেই।

অপেক্ষায় থাকব, ভারত-শ্রীলংকা খেলায় এই রোহিতদের হাতেই চরমভাবে নির্যাতিত হও, আজ থেকে আমিও বীন বাজাব তা দেখে দেখে।

দুঃখিত, প্রিয় সাঙ্গাকারা, মাহেলা। তোমাদের দেশের মানুষগুলো ঠিক তোমাদের মত না। এমন বৈরী আতিথেয়তা চাইনি আমরা!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।