আমাদের ইংলিশানুভূতি

ডেভিড ওয়ার্নার তার ফেসবুক পেজে একটা ছবি পোস্ট করে লিখেছেন যে পরবর্তী গন্তব্য বাংলাদেশ, ভাল একটা সিরিজের প্রত্যাশা করছেন। সেখানে এক বাংলাদেশি লিখেছেন, ‘Thanx for coming Bangladesh. I hope will you enjoying journey by Bangladesh.’

বাংলা অনুবাদ করলে হয়, ‘বাংলাদেশে আসার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি আপনাদের বাংলাদেশ সফর উপভোগ্য হবে।’

ছেলেটা হয়তো ইংরেজি অতো ভাল জানে না। তার লেখায় ব্যাকরণগত ভুল আছে। কিন্তু সে যা বলতে চেয়েছে সেটা বুঝতে কিন্তু কোন সমস্যা হচ্ছে না।

অথচ সেই কমেন্টেই কিছু বাংলাদেশি তাকে অপমান করে নোংরা মন্তব্য করছে, উপহাস করছে! সেখানেই এক ভারতীয় ছেলেকে দেখলাম লিখেছে, ‘#respect at least he is trying to convey his meessage.’

ভিনদেশী একটা ভাষা, একটু ভুল ব্যাকরণে লেখায় বাংলাদেশিদের জাত চলে যাচ্ছে। অথচ এক পৃষ্ঠা বাংলা লিখতে দিলেই পাঁচটা বানান ভুল করতে অনেকেরই লজ্জা লাগবে না!

মাতৃভাষার প্রতি দরদ নেই, নিজের দেশের মানুষের জন্য ভালবাসা নেই, ইংরেজি ভুল লেখায় কষ্টে মরে যাচ্ছে!

ডেভিড ওয়ার্নার যদি লিখতেন, ‘আমি আসা হয় বাংলাদেশ। সিরিজ হবে খেলা ভাল!’ তখন কিন্তু সবাই আবেগে আপ্লুত হতো! ইশ! বাংলা বলার চেষ্টা তো করেছে! আমাদের সম্মান দিয়েছে!

একইভাবে আপনি যখন অন্য ভাষার মানুষকে তার ভাষায় কিছু বলার চেষ্টা করেন, সেটাও তাকে ও তার মাতৃভাষাকে সম্মান দেয়া হয়। সেখানে অনিচ্ছাকৃত কোন ভুল হলে সেটা নিয়ে তুলকালাম বাঁধানোর কিছু নেই।

আপনি যদি ইংরেজিতে খুব ভাল হন, সেটা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ভাল। কিন্তু তার মানে এই না যে ইংরেজি কম জানা কাউকে আপনি উপহাস করবেন।

একটা সময় আসবে, চাইনিজরা বলবে যে, তাদের সাথে বিজনেস করতে হলে তাদের ভাষা জানতে হবে। বাধ্য হয়ে সারা পৃথিবীর মানুষ চাইনিজ ভাষা শিখবে। কারণ, চাইনিজদের ছাড়া চলতে কষ্ট হবে!

শুধুমাত্র বলিউডের জোরে সারা পৃথিবীতে হিন্দি ভাষা ছড়িয়ে দিচ্ছে ভারত। আর আমরা ব্যস্ত আছি ইংলিশানুভূতি নিয়ে!

জাতি হিসেবে আমরা কিভাবে উন্নতি করবো?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।