‘আমরা’ বলতে আমি বোঝাচ্ছি বাংলাদেশকে: হাতুরুসিংহে

সেই মিরপুরের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বসলেন। কথা বললেন সাংবাদিকদের সাথে। অথচ, চান্দিকা হাতুরুসিংহের শরীরে এখন শ্রীলঙ্কার জার্সি। পেশাদারিত্বের যুগে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তবে, একটু ব্যতিক্রমই বটে। কারণ, বাংলাদেশের ঠিক আগের আন্তর্জাতিক ম্যাচটাতেও তিনি কোচ ছিলেন। বাংলাদেশে ফিরে হাতুরুসিংহে কি বললেন? – চলুন জেনে নেওয়া যাক।

বাংলাদেশে ফেরার অনুভূতি কেমন?

বাংলাদেশে আর ফিরে আমি রোমাঞ্চিত। সিরিজটির দিকে তাকিয়ে আছি।

নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত। একই সঙ্গে নতুন দল ও এই দলের যা স্কিল আছে, সেসব নিয়েও আমি রোমাঞ্চিত। দেশে খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা আছে। সেটি নিয়েও আমি রোমাঞ্চিত।

সিরিজ কেমন হবে?

আমাদের জন্য সিরিজটি হবে চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশ দেশের মাটিতে দারুণ লড়াকু। আমাদের জন্য সিরিজটি হবে চ্যালেঞ্জিং।

বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে কেমন মনে হচ্ছে?

দেশের মাটিতে বাংলাদেশ খুব ভালো দল। গত আড়াই বছরে একটি ছাড়া আমরা আর সিরিজ হারিনি। ‘আমরা’ বলতে আমি বোঝাচ্ছি বাংলাদেশকে। ওরা ওয়ানডেতে খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। তারা নিজেদের ভূমিকা ও ম্যাচ পরিকল্পনা খুব ভালো করে জানে। সেদিক থেকে প্রতিপক্ষের জন্য এখানে খেলা অনেক চ্যালেঞ্জি।

বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে যাওয়া অযৌক্তিক ছিল কি?

আমি তা মনে করি না। নাহলে চলে যেতাম না।

সেই বাংলাদেশ থেকেই শুরু। একটু আবেগী কি ব্যাপারটা?

এখানে যে সাড়ে তিন বছর ছিলাম, সেখান থেকে নিশ্চই জানেন আমি আবেগী মানুষ নই। ইমোশন তাই খুব বেশি নেই। তবে আমি এখনও চাই বাংলাদেশ ভালো করুক। ক্রিকেটারদের শুভকামনা জানাই। ওদের সঙ্গে অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলাম, খুব ভালো জানাশোনা হয়ে গিয়েছিল। আমি চাই ওরা অনেক সাফল্য বয়ে আনুক। একই ভাবে চাই বাংলাদেশ আরও সফল হোক। একই সঙ্গে এখন আমার যা কাজ, আমি চাই শ্রীলঙ্কা ভালো করুক।

সিরিজের মাঝপথে পদত্যাগপত্র। পেশাদারিত্বের দিক থেকে কি ঠিক হয়েছে ব্যাপারটা?

দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমার পেশাদারী দায়িত্ব নিয়ে বা বিসিবির সঙ্গে কিভাবে ডিল করেছি, সেটির নিয়ে বিস্তারিত গভীরে যেতে চাই না। আগেও করিনি, এখনও করব না। এই প্রশ্নের উত্তর তাই দিতে পারছি না।

বাংলাদেশকে খুব ভালো ভাবে জানেন আপনি। নিশ্চয়ই এটা একটা প্লাসপয়েন্ট?

আমার তা মনে হয় না। এই যুগে তথ্য পাওয়া খুব কঠিন কিছু না। ঘরোয়া টি-টোয়েনিট লিগগুলো কাজ আরও সহজ করে দিয়েছে। অনেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারও এখানে খেলে। তারা সবাই পরস্পরকে খুব ভালোভাবে জানে। যথেষ্ট তথ্য সহজই পাওয়া যায়। বাড়তি সুবিধা তাই খুব বেশি নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও জানে আমি কিভাবে পরিকল্পনা করি, আমার ভাবনা কেমন। সেদিক থেকে খুব বেশি বাড়তি সুবিধা নেই।

সৌম্য-তাসকিন আপনার প্রিয় শীষ্য ছিলেন বলে শোনা যায়। এবার তারা নেই…

বাংলাদেশ দল মানে একজন-দুজন ক্রিকেটার নয়। আরও অনেক ভালো ক্রিকেটার আছে। ৫ জন ক্রিকেটার না থাকলেও তারা পারফর্ম করতে পারে। আমার প্রিয় বলে কেউ ছিল না। যখন কেউ পারফর্ম করে, তখনই সে আমার প্রিয়। এভাবেই দেখি। বাংলাদেশ তাই একজন-দুজন ক্রিকেটারের দল নয়। গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার আছে। তার মানে এই নয় যে একজন-দুজনের দল।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।