আমরাও ফেলে দেওয়ার মত না: তাসকিন আহমেদ

দুয়ারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। নি:সন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এর আগে গণমাধ্যমের সামনে সেই চ্যালেঞ্জের সামনে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানালেন পেসার তাসকিন আহমেদ।

মুমিনুলে ফেরা কতটা ইতিবাচক?

মুমিনুল ভাইয়ের ফিরে আসাটা আনন্দের ব্যাপার। আবার মোসাদ্দেকের না থাকাটা দুঃখজনক। চোখের অসুস্থতার কারণে সে খেলতে পারলো না। অর্থাৎ আনন্দ যেমন হচ্ছে, আবার খারাপও লাগছে।

অস্ট্রেলিয়ান পেস আক্রমণ কী ভীতির কারণ?

ওদের পেসাররা অবশ্যই ভালো। তবে আমরাও ফেলে দেয়ার মত না। আমাদের পেসাররা অনেক বড় ম্যাচ জিতিয়েছে। আমরা এই সিরিজেও ভালো কিছু করতে পারি। সে রকম বিশ্বাস আমাদের আছে।

মুস্তাফিজকে তো এই টেস্টে সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন…

মুস্তাফিজের কাছে সব সময় আমাদের আশা বেশি থাকে। আল্লাহর রহমতে সে আশা পূরণও করে। হয়তো শেষ কয়েকটা ভালো হয়নি। এটা কিন্তু বিশ্বের সেরা বোলারদেরও দুই একটা ম্যাচ খারাপ হয়। এটা নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। আশা করি ও কামব্যাক করবে। আমাদেরও অনেক দায়িত্ব আছে অস্ট্রেলিয়ার বিক্ষে ভালো কিছু করার। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। ওদের চেয়ে আমরা উইকেট ভালো বুঝি। কারণ সব কিছু আমাদের চেনা আছে। আশা করছি সিরিজে আমরা ভালো কিছু করবে।

টেস্ট ফরম্যাট কি আমাদের জন্য কঠিন?

সত্যি কথা বলতে কি, আমি বেশি টেস্ট খেলিনি। চারটা ম্যাচ খেলে আমার মনে হয়েছে এই ফরম্যাট অনেক কঠিন। আগে তো শুধু্ ওয়ানডে – টি-টোয়েন্টি খেলতাম। এখন টেস্টও খেলছি। টেস্টে প্ল্যান অনুযায়ী খেলতে হয়। চেঞ্জ অব পেস দরকার আছে। আশা করি পরিস্থিতি অনুসারে আমরা খেলতে পারবো।

অস্ট্রেলিয়ার ‍তুলনায় কী আমরা পিছিয়ে থেকে শুরু করবো?

ওদের তুলনায় আমরা পিছিয়ে। তবে আমরা আগের চেয়ে ভালো। অনুশীলন করতে করতে আমরা আগের চেয়ে ভালো। রিভার্স সুইং বলেন বা সুইং বলেন, সব কিছু নিয়ে আমরা কাজ করছিলাম। আশা করছি আগে যা করতে পারিনি এখন আমরা তা পারবো।

টেস্ট স্কোয়াডে থাকতে পেরে কী নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়?

এখন আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ অনেক ভালো পারফর্মার আছে। কিন্তু টেস্টের স্কোয়াডে থাকার মতো ব্যাপারটা শান্তি পাওয়ার মতো। আমি নিজেকে ভাগ্যমান মনে করি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দলে থাকতে পেরে আনন্দিত এবং ভাগ্যমান মনে করছি নিজেকে। টেস্ট ক্রিকেটের প্রত্যেকটি উইকেটই কাউন্টেবল। তাদের টপঅর্ডারে যারা আছে, সবাই খুব ভালো ফর্মে আছি। অভিজ্ঞরা তো আছেই। নতুনরাও ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। আমার স্বপ্নের উইকেট ওয়ার্নার- স্মিথ আছে। নতুনরাও ভালো করছে। আমি সুযোগ পেলে একটা ম্যাচ উইনিং স্পেল করতে চাই।

প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলায় কী অস্ট্রেলিয়া একটু ব্যাকফুটে থাকবে?

আমি মনে করি না প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলায় ওদের কোনো অসুবিধা হবে। দুঃখজনকভাবে তারা খেলতে পারেনি, আবাহওয়ার কারণে। তারা বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটা তাদের সমস্যা হবে না। আর মুমিনুল ভাইকে স্কোয়াডে ফিরতে দেখে আগের মতোই লেগেছে। তিনি তো পরিবারেরই অংশ।

আপনার লক্ষ্য কী?

উইনিং স্পেল মানে পাঁচ-সাত উইকেট নেয়া নয়। বরং ভালো কিছু ওভার করা। দেখা গেলো স্পিনাররা পাঁচ-সাতটা উইকেট নিয়েছে। এর মাঝখানে দুইটা উইকেট নিয়ে নিলাম। যা দলকে উপকার করে দিবে। এমন কিছুই করতে চাই। পুরোনো বলে রিভার্স সুইংটা করতে চাই। এ সব নিয়ে কাজ করছি আশা করি ভবিষ্যতে অনেক কাজে দিবে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুপ্রেরণা…

সত্যি কথা বলতে গেলে, দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট, এটা আনন্দের ব্যাপার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে ম্যাচটা জিতেছি, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আত্মবিশ্বাসটা সেখান থেকে বেড়েছে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে তাদের হারিয়েছি। এ কারণেই বিশ্বাসটা বেশি। চার পাঁচ বছর আগে, যখন টিভিতে খেলা দেখতাম, তখনকার চেয়ে বিশ্বাসটা এখন অনেক বেশি। লড়াই করার এবং জেতার।

দেশের মাটিতে আপনার প্রথম টেস্ট…

আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার ফিটনসে আগে চেয়ে অনেক ভালো। শুকরিয়া আল্লাহর কাছে, দুই বছরে বড় কোনো ইনজুরি হয়নি। টেস্ট সেশন সেশন ভাগ তো, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে দেখা যায় একটা বা দু’টা স্পেলেই ম্যাচ শেষ। কিন্তু সাত আটটা স্পেল থাকে টেস্টে। জিনিসটা এতো সহজ নয়। নিউজিল্যান্ডে বোলিং করে যে আনন্দ পেয়েছি, তা শ্রীলঙ্কায় পাইনি। আর বাংলাদেশে আমি এখনো টেস্ট খেলিনি। আমার মনে হয় অনেক ধৈর্য ও দক্ষতার ব্যাপার। আশা করছি সামনে ভালো কিছু হবে – ইনশাল্লাহ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।