আবুল হায়াত: একজন আলোচিত সব্যসাচী

অভিনেতা ও নাট্যকার আবুল হায়াত। ছোট পর্দায় এক হাজারের বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। মঞ্চ, রেডিও কিংবা চলচ্চিত্রও বাদ যায়নি। এর বাদে পরিচালনা করেছেন। পত্রপত্রিকায় টুকটাক লেখালিখি করেন। তার কয়েকটা উপন্যাসও বের হয়েছে। এর বাইরে পেশায় তিনি প্রকৌশলী। আবুল হায়াতকে তাই সত্যিকারের এক সব্যসাচীই বলা যায়।

১৯৪৪ সালের সাত সেপ্টেম্বর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে। প্রবীন এই অভিনেতা আজো সমান ভাবে ব্যস্ত, বাংলাদেশে পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে ব্যস্ততায় থাকাটাই তো বিরাট এক প্রাপ্তি।

মাত্র ১০ বছর বয়সে টিপু সুলতান নাটকের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে আবুল হায়াতের অভিনয় জীবন। বাবা আব্দুস সালাম ছিলেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে ওয়াজিউল্লাহ ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাবার কারণে নিয়মিত মঞ্চ নাটক দেখা হত।

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ম্যাট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ১৯৬২ সালে ভর্তি হন বুয়েটে, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে। ১৯৬৭ সালে পাশ করে পরের বছরেই ঢাকা ওয়াসায় প্রকৌশলীর পদে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে লিবিয়ায় তিন বছর চাকরী করেন। ১৯৮২ সালে সরকারী চাকরী থেকে ইস্থফা দেন।

১৯৬৯ সালে ইডিপাস নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন আবুল হায়াত। সেই শুরু, আবুল হায়াতের ট্রেন ছুটে চলছে আজো। ‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রিহী’, ‘অয়োময়’, ‘জোছনার ফুল’ ধারাবাহিক নাটকগুলোতে আবুল হায়াত মুগ্ধ করেছেন। দু’বার পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার।

১৯৭০ সালে আবুল হায়াতের সঙ্গে বিয়ে হয় মাহফুজা খাতুন শিরিনের। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জন্ম নেয় তাদের প্রথম সন্তান বিপাশা হায়াত, যিনি নিজেও ডাকসাইটে অভিনেত্রী। বিপাশার স্বামী হলেন অভিনেতা ও পরিচালক তৌকির আহমেদ।

বিপাশার ছয় বছর পর জন্ম নেন নাতাশা। তিনি অভিনয় করেছেন একসময়। নাতাশার স্বামী শাহেদ শরীফ খানও ছোট পর্দার নিয়মিত অভিনেতা।

আবুল হায়াত দাপট দেখিয়েছেন সিনেমাতেও। অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী সিনেমাটি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন এই অভিনেতা। তার অভিনিত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিতাস একটি নদীর নাম, শঙ্খনীল কারাগার, আগুনের পরশমণি, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার, জয়যাত্রা ও দারুচিনি দ্বীপ। দারুচিনি দ্বীপের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন ২০০৭ সালে।

লেখালিখিতেও দিব্যি মানিয়ে নিয়েছেন আবুল হায়াত। ১৯৯১ সালে তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। নাম ছিল ‘আপ্লুত মরু’। তার লেখা অন্যান্য বইয়ের মধ্যে নির্ঝর সন্নিকটে, এসো নীপবনে (তিন খন্ড), জীবন খাতার ফুটনোট (দুই পর্ব), অচেনা তারা, হাঁসুলি বেগমের উপকথা, মধ্যাহ্নভোজ কি হবে?, জিম্মি ইত্যাদি অন্যতম।

মানে, অসংখ্য রূপ তাঁর। এই প্রজন্ম অবশ্য বুঝে-না বুঝে আবুল হায়াতের ছবি কিংবা নাম অনেক ট্রল বা মিমে ব্যবহার করে। তাতে অবশ্য, গুণীর গুণের কোনো ঘাটতি হয় না!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।