আপসেট না লিখে সারপ্রাইজ লিখলেই হত!

‘সাধারণ’ একটা টুইটই করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের জয়ে অভিনন্দন জানিয়ে ছোট্ট একটা টুইট। তাতেও যে এমন ফ্যাসাদে পরতে হবে, তা বোধহয় ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি শচীন রমেশ টেন্ডুলকার!

তা কি এমন লিখেছিলেন তিনি? বেশি কিছু না, আগের দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ডকে হারানোয় ও পরের দিন বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারানোয় দুইদিনে দুইটা ‘আপসেট’ হয়েছে বলে টুইটে লিখেছিলেন তিনি। ব্যস, বাংলাদেশে এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেল!

একপক্ষ নেমেছেন শচীনের কড়া সমালোচনায়। তাদের যুক্তি, টেস্ট ম্যাচ কখনো এক-দুই সেশনের কৃতিত্বে জেতা যায় না। টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে প্রতিটা সেশন ডমিনেট করতে হয়। তার চেয়েও বড় যুক্তি, এশিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক দৈন্যদশা। গত পাঁচ বছরে এশিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়া টেস্টই জিতেছে মোটে একটা, তাও এই বছরে ভারতের বিপক্ষে পুনেতে।

সময়টা বাড়িয়ে এই শতাব্দী করা হলেও তাদের রেকর্ডের ভগ্নদশা উন্নত হচ্ছে না। একবিংশ শতাব্দীতে এশিয়ায় এসে মোটে দুইটি টেস্ট জিতেছে অজিরা, আরেকটা ২০১১ তে শ্রীলঙ্কায়। লজ্জার ঘটনা আছে আরও। ২০১৩ তে ভারতে এসে ভারতের কাছে ধবলধোলাই, ২০১৪ তে আমিরাতে পাকিস্তানের কাছে ধবলধোলাই, ২০১৬ তে শ্রীলঙ্কার কাছে ধবলধোলাই।

উল্টো দিকে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে, বিদেশে গিয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে। গত  টেস্টে জিতেছে ৩ টি টেস্টেই। তার উপর খেলা হয়েছে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় বাংলাদেশই বরং ফেভারিট। অস্ট্রেলিয়া স্পিনের বিপক্ষে জবুথবু, আর বাংলাদেশের আছে একঝাঁক দুর্দান্ত স্পিনার। সেই হিসেবে বাংলাদেশের এই জয় কোনমতেই ‘আপসেট’ নয়।

শচীনের পক্ষেও ব্যাট ধরেছেন অনেকে। এই পক্ষের যুক্তি, শচীন আসলে আপসেট বলতে চমক বুঝিয়েছেন এখানে। র‍্যাঙ নয় নম্বর দল যখন চার নম্বর দলকে হারায়, তখন তাকে আপসেট বা চমক বলা যেতেই পারে।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ শক্তিশালী দলে পরিণত হলেও টেস্টে এখনো সেই পর্যায়ে যেতে পারেনি, সে কারণে একে ‘আপসেট’ বলা হলেও খুব বেশি দোষের কিছু নেই। পরের লাইনেই যে তিনি ‘ইন্সপায়ারিং পারফরম্যান্স বাই বিসিবি টাইগার্স’ লিখে বাংলাদেশকে আসলে মনখোলা অভিবাদনই জানিয়েছেন, সে কথাও বলছেন কেউ কেউ।

টেন্ডুলকার কি অর্থে আপসেট বুঝিয়েছেন তিনিই ভালো জানেন, কেবল আপসেটের জায়গায় সারপ্রাইজ লিখলেই বোধহয় এত তর্ক-বিতর্ক হত না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।