আদৌ কী ভয়ংকর সুন্দর!

আয়নাবাজি’র পর অনেক আশা জেগেছিল যে হলে যেয়ে বাংলা মুভি দেখে ‘ভাল লাগার’ দিন হয়ত আসছে আবার। সেই আশা থেকেই প্রথম দিন হলে যেয়ে দেখে আসলাম অনিমেষ আইচের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘ভয়ংকর সুন্দর’। যদিও ওনার প্রথম কাজ (জিরো ডিগ্রী) তেমন পছন্দের ছিল না, কিন্তু সেটা আগ্রহের তেমন কমতি ঘটায় নি।

নাম: ভয়ংকর সুন্দর

পরিচালনা, প্রযোজনা, রচনা ও চিত্রনাট্য: অনিমেষ আইচ

অভিনয়: পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, আশনা হাবিব ভাবনা, সৈয়দ হাসান ইমাম

দৈর্ঘ্য: ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট

গল্প

সহজ-সরল, দুনিয়ার কুটিলতা সম্পর্কে অজ্ঞ নয়নতারা (আশনা হাবিব ভাবনা) রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে লঞ্চে করে ঢাকা চলে আসে। ঢাকা আসার পর থাকার জন্য উঠে একটা হোটেলে। সেখানের এক হোটেল বয় মুকু (পরমব্রত) এর সাথে তার পরিচয়, পরিচয় থেকে ভাল লাগা। অসম এ প্রেমের কাহিনীই মুভির প্রেক্ষাপট।

যা ভাল লেগেছে

১. সিনেম্যাটোগ্রাফি। ঢাকা শহরের পরিচিত অনেক রাস্তার সুন্দর সুন্দর শট ছিল।

২. পরমব্রত’র অভিনয়। (এটা নিয়ে পরে আরও কিছু বলছি)

যা বিশেষ ভালও লাগেনি, খারাপও লাগেনি

১. ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর।

২. গান।

যা ভাল লাগেনি

প্লট

এই মুভির সবচেয়ে দূর্বল পার্ট ছিল এর রাইটিং। প্লট হোল এ ভর্তি। সত্যি কথা বলতে প্রেক্ষাপটটা খুবই ক্লিশে (অসম প্রেম), সেটাকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, সেটাও নড়বড়ে। মুভির শুরুতে লজিকাল চিন্তা করতে থাকলেও পরে বুঝলাম এটা ব্রেইন বন্ধ করে দেখলেই ভাল হবে। মুভির দ্বিতীয়ার্ধে কাহিনী অন্যদিকে মোড় নিলেও সেটার এক্সিকিউশন আরও অগোছালো। কিছু সাসপেন্স তৈরি করতে পারলেও সন্তোষজনক কোন পরিণতি ছিল না। কিছু প্লট পয়েন্ট অমীমাংসিতই রয়ে গেল শেষ পর্যন্তও। ক্যারেক্টার গুলাকেও খুবই ওয়ান-ডাইমেনশনাল, বোরিং মনে হয়েছে।

অভিনয়

পরমব্রত কে আমার এমনিতে বেশ ভাল লাগে। কিন্তু এখানে তার অভিনয় ভাল লাগার কৃতিত্ব কতটা যে তার নিজের ভাল অভিনয়, আর কতটা যে তার আশেপাশের মানুষের খাপছাড়া, জড় অভিনয়, সেটা প্রশ্নের দাবিদার। নায়িকার অভিনয় একদমই পছন্দ হয়নি (যদিও কাহিনীর প্রয়োজনেই এমন করা হয়েছে, কিন্তু তবুও)। অন্যান্যদের অভিনয় “বিলো এভারেজ” বলা যায় সর্বোচ্চ।

গান

গানগুলো এমনি শুনতে গেলে মোটেও খারাপ না, ভালই বলা যায়। সমস্যা হয়েছে আমার এক্সপেক্টেশন ভিন্ন থাকার কারণে। সাইকোলজিকাল ড্রামা মুভিতে এরকম মেইনস্ট্রিম কমার্শিয়াল মুভি’র মত কাহিনী থামিয়ে এক্সোটিক লোকেশনে গান শুরু হয়ে যাবে, এটা আসলে আমার ধারণায় ছিল না।

রসবোধ

মুভি দেখার সময় মানুষজন প্রচুর হাসছিল। কিন্তু সমস্যা হল, জোক গুলা ভাল হওয়ার কারণে মানুষ যতটা না হেসেছে, তার চেয়ে বেশি হেসেছে দৃশ্যগুলো অ্যাবসার্ড হওয়ার কারণে।

শেষকথা

রিভিউ পড়ে যদি মনে হয়ে থাকে বস্তাপচা মুভি এটা, সেটা ভুল হবে। অনেকেরই মনে হতে পারে যে আমি অতিরিক্ত হার্শ ভাবে কমেন্ট করছি, নিটপিক করছি। এটার মূল কারণ হল প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, যে প্রত্যাশা দেশি মুভি দেখেই তৈরি হওয়া, বাইরের ইন্ডাস্ট্রির কিছুর সাথে তুলনা করে না।

আমার মতের সাথে কারও মত নাই মিলতে পারে, কিন্তু কেউ যদি আমার কাছে জিজ্ঞেস করেন, আমি এটা দেখতে রিকমেন্ড করব না। ভাল আরেকটা বাংলা মুভি দেখার অপেক্ষা এক বছর ধরে করছিলাম, মনে হচ্ছে আরও অনেকদিন ধরেই করা লাগবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।