আগের দিনের ১০ ভয়ংকর রীতি

বর্তমানকাল নিয়ে আমাদের মনোভাব হচ্ছে ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ টাইপের। আমরা ভাবি যে আগের আমলেই হয়তোবা সবকিছু ঠিকঠাক ছিল, এখনকার সবকিছুই বিশৃঙ্খল। তবে অতীত কিংবা বর্তমানের ভালো খারাপের বিশ্লেষণে আমরা যাবনা, আজ বরং আমাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষদের কিছু অদ্ভুত কাজের কথা নিয়ে আলোচনা করব।

দাঁতের ব্যাথায় কোকেনের ব্যাবহার

কোকেন এখন সবখানে নিষিদ্ধ ড্রাগ হিসেবে পরিচিত হলেও ১০০ বছর আগে এটি দাঁতের ব্যাথা সারানোর জন্য এবং কাশির চিকিৎসার কাজে বেশিরভাগ ব্যবহৃত হত।এছাড়া কোনো দুষ্ট বাচ্চা না ঘুমালে তাকে ঘুম পাড়ানোর জন্যও কোকেনের স্বল্পমাত্রায় ব্যাবহার প্রচলিত ছিল। বিভিন্ন ফার্মেসিতে এই ওষুধের বিজ্ঞাপন দেওয়া হত এবং কোনো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কোকেন কেনা যেত।

বাচ্চাদের ডাকযোগে পাঠানো

শুনতে অবাক লাগলেও বিশশতকে আমেরিকাতে বাচ্চাদেরকে পার্সেল বা মেইল করে পাঠানোর নিয়ম আদালত দ্বারা স্বীকৃত এবং এই কাজের খরচ ছিল সাধারণ পার্সেলের মতই ১৫ সেন্ট মাত্র। ধন্যি সেসব কিপটে বাবা মা, যারা এভাবে নিজেদের সন্তানকে পাঠানোর কথা চিন্তা করতেন।

গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ধূমপান করা

এখন চারিদিকে ধুমপানের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কুফল নিয়ে আমরা সবাই সচেতন হলেও আজ থেকে ৭০ বছর আগের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য ডাক্তাররাই বরং ধূমপান করার পরামর্শ দিতেন।

টাকার বিনিময়ে পাগল দর্শন

প্রাচীনকালে মানসিক রোগীদেরকে অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হত।ভয়ংকর ভয়ংকর সব চিকিৎসাপদ্ধতি তো ছিলই, রোগীদের অভিভাবকদের থেকে টাকা নেওয়ার পরেও মানসিক রোগীদের ঠিকভাবে খাবার না দেওয়া ছিল সেসব স্থান পরিচালকদের কাছে সাধারণ বিষয়। এত কিছুর পরেও তারা টাকা কামানোর জন্য আরেক ধান্দা বের করে, অর্থের বিনিময়ে পাগল দেখতে ইচ্ছুক এমন মানুষরা এখানে এসে পাগলামি দেখে যেত এমনকি লাঠি দিয়ে খোঁচাও মারতে পারত।

বাচ্চাদের জন্য ঘরের বাইরে বানানো খাঁচা

নিজেদেরকে সবসময় অন্য জাতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা ব্রিটিশদের দেশে এমন জিনিস একটু বেখাপ্পা লাগে। ১৯৩০ সালের দিকে সেখানে ছোট বাচ্চাদের জন্য এমন খাঁচার ব্যবহার ছিল, এবং সবাই এটাকে নিরাপদ বলে মনে করত। বাচ্চাদের খাঁচায় বসিয়ে খোলা হাওয়া খেতে দিয়ে মা’রা নিশ্চিন্তে ঘরের কাজ করে বেড়াতেন।

মানব চিড়িয়াখানা

শ্বেতাঙ্গদের নিজেদেরকে সেরা ভাবার আরেকটি বিকৃত উদাহরণ হলো এই মানব চিড়িয়াখানা। ডারউইনের মতবাদকে সত্য প্রমাণিত করার মহান উদ্দেশ্যে এশিয়া কিংবা আফ্রিকা থেকে মানুষ ধরে নিয়ে এসে ইউরোপের জনসাধারণকে টিকিটের বিনিময়ে দেখার সুযোগ করে দেওয়া হত। ছবিতে ১৯৫৮ সালে বেলজিয়ামের এক মানব চিড়িয়াখানায় বন্দি শিশুকে দেখা যাচ্ছে। তবে, এই কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে মতভেদ আছে।

মানুষের হাড় সংগ্রহ

এখনকার দিনে স্মারক হিসেবে হাড় সংগ্রহ করাকে পাগলামি বলে মনে করা হলেও আজ থেকে কয়েকদশক আগে এটাকে ‘শখ’ হিসেবে ধরা হত। অনেক ধনী লোকরা নিজেদের ব্যক্তিগত হাড়ের সংগ্রহশালায় হাড় জমা করতেন। এছাড়া নাবিক এবং যোদ্ধারাও নিজের হাতে মারা শত্রুর হাড় বা মাথা নিয়ে আসত স্মারক হিসেবে।

ছবিতে এক আমেরিকান নাবিককে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মৃত জাপানি সৈনিকের কংকালের সাথে তামাশা করতে দেখা যাচ্ছে।

আণবিক খেলনা

১৯৫০ সালের দিকে রেডিয়েশনকে ক্ষতিকর জিনিস হিসেবে পাত্তাই দেওয়া হতনা,তখন ‘আণবিক খেলনা’ ছিল সাধারণদের মাঝে অনেক জনপ্রিয়, এই খেলনার বাক্সে এমনকি সত্যিকারের পোলোনিয়াম এবং ইউরেনিয়ামও সামান্য পরিমাণে দেওয়া থাকত।

অদ্ভুত চিকিৎসাপদ্ধতি

চিকিৎসার অগ্রগতির ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়, কয়েক দশক আগেও চিকিৎসকরা জীবাণুমুক্তকরণ সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখতেন না এবং অদ্ভুত অদ্ভুত চিকিৎসা করতেন। ম্যালেরিয়া হলে রক্তনালী কেটে রক্ত বের করে দেওয়া, তোতলামির চিকিৎসায় জিহ্বা কেটে দেওয়া,কারেন্টের শক দেওয়া এসব ছিল তাদের চিকিৎসা।

এমনকি ছবিতে দেখানো তৎকালীন বিখ্যাত সার্জন লুইস সায়ারেও অদ্ভুত চিকিৎসার মাধ্যমে তার অনেক রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন।

ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।
Avatar

ঊর্মি তনচংগ্যা

The girl who fly with her own wings