আগামীর নেতা, আগামীর কিংবদন্তি

অধিনায়কত্বের শুরুটা কতটা ভালো করতে পারতেন জো রুট? ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে ইংলিশ ক্রিকেটের নতুন একটা যুগের সূচনা হয়ে গেল, তার অধিনায়কত্বের মধ্যে দিয়ে। অভিষেক ম্যাচের টসটা জিতে নিয়েছিলেন শুরুতেই। ম্যাচটাও জিতে গিয়েছেন দারুণ ভাবে।

ইতিহাসও রুটের পক্ষেই ছিল; ২০১২ থেকে এর আগে লর্ডসে হওয়া নয় টেস্টে আগে ব্যাট করা দল জিতেছে সাতটিতে, ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচ। ইংল্যান্ডের সর্বশেষ তিন টেস্ট অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, কেভিন পিটারসন এবং অ্যালিস্টেয়ার কুক নিজেদের টেস্ট অধিনায়কত্বের সূচনা করেছিলেন সেঞ্চুরি দিয়ে। তাদের পথে হাঁটলেন জো রুটও, জানিয়ে দিলেন, অধিনায়কত্ব তাঁর কাছে চাপ নয়, বরং আরো ভালো খেলার মূলমন্ত্র!

মিডলসেক্সের বিপক্ষে কাউন্টিতে সর্বশেষ ম্যাচেই ১৯৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অ্যালিস্টার কুক। অধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন আগেই, তবে বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন, ফুরিয়ে যাননি তিনি। যদিও লর্ডসে দিনের শুরুতে সেটার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না তাঁর ব্যাটে। ফিল্যান্ডারের দারুণ একটা শর্ট লেন্থের বলে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দিলেন ডি ককের হাতে।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ইংল্যান্ডের নির্বাচকদের দুশ্চিন্তাটা দীর্ঘায়িত করলেন জেনিংস, গ্যারি ব্যালেন্সও ফিরলেন দ্রুত; দাঁড়াতে পারলেন না বেয়ারস্টো। ছিয়াত্তরে চার উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের তখন ত্রাহি দশা! মঞ্চে তখন কাণ্ডারী রুট, যদিও পায়ের নীচে মাটি কম্পমান!

মাটির কাঁপাকাঁপি থামলো এই ডানহাতির ব্যাটে, সঙ্গ দিলেন বেন স্টোকস- গত সফরে যার ব্যাট বলের তাণ্ডবে পুড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অবিচল ছিলেন রুট, ইয়র্কশায়ারের এই তরুণ খেলেছেন নিজের মতো। শাসন করেছেন ব্যাট হাতে, বোলারদের দিকে বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দেয়া উইকেটকে জয় করেছেন দারুণ দক্ষতায়। পরিচিত কণ্ডিশন, উইকেট, পরিবেশ- মানিয়ে নেয়ার বাড়তি পরিশ্রমটা করতে হয়নি।

মাথার ওপর সীমাহীন চাপ হয়ে ছিল অধিনায়কত্ব নামের শব্দটা, সেটাকে বলের সাথেই ছুঁড়ে ফেলেছেন বাউন্ডারির বাইরে। কোহলি-স্মিথ-উইলিয়ামসনের সঙ্গে সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম, সেটা নিছক ফ্লুকও নয়, গত আঠারো টেস্টে প্রায় ১৭০০ রান তাঁর, ইনিংসপ্রতি গড়টা ৫৫’র বেশী- এসব তো হাওয়ায় ভেসে আসা নয়! সময়ের সেরা চার তরুণ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একটা মিল হচ্ছে এরা সবাই ডানহাতি। আরেকটা দারুণ মিল- এরা চারজনই এখন নিজের দেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক! জো রুটকে দিয়ে চক্রপূরণ হল।

দক্ষিণ আফ্রিকা টের পেয়েছে তাঁর কবজির জোর, লর্ডস দেখেছে এক ক্ষুধার্ত, আগ্রাসী অধিনায়ক রুটকে! তাঁর সামনে রাবাদা-ফিল্যান্ডারদের মনে হয়েছে পাড়ার বোলার। অধিনায়ক হিসেবে কতটা ভালো করবেন সেটা জানা যাবে সময়ের সাথে সাথেই। বলা হয়, ব্যাট হাতে একদিন ইংল্যান্ডের সব ব্যাটিং রেকর্ড নিজের করে নেবেন তিনি। বয়সটা পক্ষে, কথা বলছে ফর্মও।

বুঝিয়ে দিয়েছেন, চাপে ভেঙে পড়ার মানুষ তিনি নন। নিজের সময়ের সেরা ব্যাটসম্যানের স্থানটা দখল করার সকল গুণাবলীই আছে রুটের মধ্যে। ‘ইয়ংস্টার অব ইয়র্কশায়ার’ তো সেই মিশনেই নেমেছেন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।