আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়াদের গল্প

আজকের যুগে বিখ্যাত হয়ে যাওয়াটা খুব সহজ। ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ বলে কথা। নিজের অভিনব প্রতিভা কিংবা অনন্য বাহ্যিক দর্শনকে কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেটের সুবাদে অনেকেই রাতারাতি পেয়ে যান জগৎজোড়া খ্যাতি। তাঁদের গল্পটা অনেকটাই আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মত। তেমনই কয়েকজন খ্যাতিমানকে নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

নিকি লিবার্ট

লন্ডনের এক শিক্ষার্থী একবার টুইটারে একজন দিনমজুরের ছবি পোস্ট করলেন। তাঁদের দেখা হয় নেদারল্যান্ডসের অ্যামস্টারডামে। ছবিটা এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠলো যেতে ওই দিনমজুর পেয়ে যান এলিট মডেলিং এজেন্সির কনট্রাক্ট। তিনি হলেন নিকি লিবার্ট।

ব্যাডি উইঙ্কল

এই দাদী ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারীদের মন জয় করে ফেলেছেন। সব কিছুর সূত্রপাত হয় তখন যখন তার পৌপুত্রী যখন তাঁর ছবি পোস্ট করে ইন্সটাগ্রামে। ব্যাডি উইঙ্কলের ফলোয়ার সংখ্যাই এখন তিন মিলিয়ন।  তার অভিনব সব ছবি, লাইফ স্টাইল  আর নাচ দেখে মুগ্ধ হন ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারীরা।

ইম্যানুয়েল ফ্যাসানো

দেরী হওয়ায় ট্রেন ধরতে পারেননি। এটাই যেন শাপে বর হয়ে আসে ইমানুয়েল ফ্যাসানোর জীবনে।  কিছু করার না পেয়ে রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে পিয়ানো বাজানো শুরু করেন তিনি। তখন তাঁর ওপর নজর পড়ে এক সঙ্গীত প্রযোজকের, তিনি সুযোগ বুঝে ভিডিও রেকর্ডও করে ফেলেন। সেই ভিডিও’র সুবাদে প্রতিভাবান এই মিউজিশিয়ান স্যোশাল নেটওয়ার্কে জনপ্রিয়তা পানই, সাথে নামী দামী অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিও করে ফেলেন।

নুসরেত গোকসি

তুরস্কের এই শেফ বিখ্যাত হয়েছিলেন তাঁর একটি মাংস রান্না করার ভিডিও’র সুবাদে। এখন ইন্সটাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার নয় মিলিয়নেরও বেশি। এমনকি লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও’র মত তারকারাও তার রান্না দেখতে ও খেতে আসেন।

আরশাদ খান

ইসলামাবাদের বাজারে ১৮ বছর বয়সী এই চা-ওয়ালার ছবি তুলেছিলেন এক ফটোগ্রাফার। পোস্ট করেছিলেন ইন্সটাগ্রামে। হাজারের ওপর লাইক পেয়ে ছবিটির সাথে সাথে ছবির ব্যক্তি আরশাদও খ্যাতি পেয়ে যান। এখন তিনি রীতিমত মডেল, সিনেমা করার কথাও ভাবছেন তিনি।

ফিলিপ ডুমাস

অবসরে চলে যাওয়ার পর ফিলিপ ডুমাস রেডিট.কমে নিজের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন। সবাই মুগ্ধ হয়ে মন্তব্য করেন, এখনো তাঁর পক্ষে মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দেওয়া সম্ভব। আর অবশেষে ৬০ বছর বয়সে মডেলিংয়ের দুনিয়ায় পা রাখেন তিনি, পূরণ হয় তাঁর আজন্ম স্বপ্ন।

মাইক ভারশাভস্কি

নিউ জার্সির ড. মাইক তাঁর ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে ধন্যবাদ জানাতেই পারেন। কিছু না, স্রেফ দৈনন্দিন কাজের ছবি পোস্ট করতেন।  সেটাই তাকে পিপল ম্যাগাজিনের বিবেচনায় সবচেয়ে আবেদনময় ডাক্তারের খেতাব এনে দেয়। মডেলিংয়ের অনেক অফার থাকার পরও অবশ্য তিনি চিকিৎসকের পেশাটাই দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন।  তবে, তিনি এখন সেলিব্রিটি, স্বাস্থ্যকর জীবনের নানারকম প্রচারণামূলক কাজের সাথে জড়িত তিনি।

সিনডি কিম্বারলি

জাস্টিন বিয়েবার একবার এই মেয়েটির ছবি পোস্ট করে বলেন, ‘ওহ মাই গড! ইনি কে?’ তাঁর ভক্তরা মিলে মেয়েটিকে খুঁজে বের করে। মেয়েটি হল স্পেনের কস্টা ব্ল্যাঙ্কার ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সিনডি কিম্বারলি। এখন অবশ্য তিনি মডেলিংয়ের দুনিয়ায় আলোচিত নাম। তার ফটোশ্যুটের ছবি ছাপা হয় ফ্যাশন ম্যাগাজিনের চকমকে পাতায়।

সভেন ওটেন

ইউটিউবে নাচের ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেটা দেখে ফেললো গোটা বিশ্বের ৪৩ মিলিয়নের বেশি মানুষ।  জার্মানীর এই ড্যান্সারকে এখন নিয়মিত দেখা যায় বিজ্ঞাপনে। তাঁর নিজের একটা ড্যান্সিং অ্যাকাডেমিও আছে।

জেরেমি মিকস

অস্ত্র মামলায় ২০১৫ সালে দু’বছরের জেল হয়েছিল জেরেমি মিকসের। স্টোকটন পুলিশের ফেসবুক পেজে ছবি পোস্ট হওয়ার সাথে সাথে তিনি জনপ্রিয়তা পান। লোকে নাম দেয় – নৃশংস হ্যান্ডসাম।  জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি কিছু মডেলিংয়ের প্রস্তাব পান। এখন অপরাধ জগতে নয়, তাঁর সময় কাটে সেলিব্রিটিদের সাথে।

– ব্রাইডসাইড অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।