আইন যেখানে যেমন

কথায় আছে – ‘যস্মিন দেশে যদাচার’। আর এই কথাটা আইনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। স্থান, কাল ভেদে আইনেরও রকমফের হয়। একটা দেশে যেটা খুব সাধারণ ব্যাপার, সীমানার কাটাতার অতিক্রম করলেই সেটা বেআইনী হয়ে যেতে পারে।

এমন কিছু অদ্ভুতুড়ে আইন নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।

সিঙ্গাপুরের চুইংগাম

সিঙ্গাপুর হল পৃথিবীর সবচেয়ে ‘দামী’ শহর। শহরটা খুবই পরিচ্ছন্ন, গোছানো। আর এই পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে স্থানীয় সরকার খুবই সিরিয়াস। প্রতিটি রাস্তাঘাটেই সেটা দেখভাল করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আর সেজন্যই দেশটিতে চুইংগাম বেচাকিনি নিষিদ্ধ। কেউ যদি আমদানী করতে গিয়ে ধরা পড়েন তাহলে তাকে বড় ধরণের জরিমানার মুখে পড়তে হবে। শুধুমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিছু চুইংগাম আইনগত ভাবে স্বীকৃত। তবে সেটাও পাওয়া যায় কেবল ফার্মাসিতে, কিনতে প্রয়োজন হয় ডাক্তারে নির্দেশনাপত্র বা প্রেসক্রিপশন।

জার্মানির অটোবান

জার্মানিতে অটোবান নামের বিশেষ এক রাজপথ আছে। মূলত এটা দূরপাল্লা ও দ্রুতগতির গাড়ী চলাচলের জন্য নির্মিত এক সড়কপথ। আর এই রাস্তা নিয়ে বেশ সতর্ক জার্মান সরকার। চাইলেই এই পথে চলাচলের সময় আপনার গ্যাস ফুরিয়ে যেতে পারে না,  কারণ চাইলেই এই রাস্তায় গাড়ী থামানো যায় না। কোনো কারণে থামতেই হলে তাই জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

আমেরিকার ক্যাকটাস

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার স্থানীয় কিছু উদ্ভিদ রাজ্য আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। চাইলেই তাদের কেটে ফেলা যায় না। আইনে সেটাকে ‘চুরি’ বলে গণ্য করা হয় এবং জেলে পাঠানো হয়। অ্যারিজোনার ক্যাকটাস আকারে অনেক বড় হয়, তবে সেটা হতে অনেক সময় লাগে। তাই এদের বিলীন হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেই এই আইন জারি করা হয়েছে।

বুরুন্ডিতে জগিং

পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডিতে দল বেঁধে জগিং করা নিষিদ্ধ। এটা নিয়ে দেশটির ভিতরেও অনেক তর্ক-বিতর্ক আছে। সরকার দল বেঁধে জগিং করাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি চাইলে জগিং করতে পারবে, তবে সেটা একা। তবে, একের অধিক হলেই তাদের জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

থাইল্যান্ডের রাজা

থাইল্যান্ডের রাজপরিবার নিয়ে অবমাননাকর কিছু করলে তার সাজা হয় ভয়াবহ। তাই, সেখানকার মানুষ রীতিমত রাজার উপাসনা করে। তবে, কি কি উপায়ে রাজার অবমাননা হতে পারে তার সংজ্ঞায়নটা পরিস্কার নয়। এমনকি হাত থেকে টাকা পড়ে গেলেও জেলে যাওয়া লাগতে পারে, কারণ টাকায় যে খোদ রাজার ছবি আছে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।