অসম্ভবকে সম্ভব করা মানেই মাশরাফি

ওয়ানডে ক্রিকেটে ওনার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট প্রায় ৯০। ১৫০০+ রান। উনি যে ওয়ান ডাউনে নামবেন না, সেটা তো হতে পারেনা!

ইতিহাস কি বলে জানেন?

ওডিআই ক্রিকেটে টেলএন্ডে নামা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যে ১৪ জন ১০০০+ রান করছেন তার একজন উনি। ৫ এ তার নাম। এখনকার তামিম-মুশফিক ওয়ানডেতে ৫০+ ছক্কা মারার দুই বছর আগেই উনি ৫০+ ছক্কা মেরে বসে আছেন।

মাশরাফি তো এমনই!

গত ৪ দিন আগেও ৫ এ নেমে গিয়ে ১১ বলে ১৫ করলেন। তার আগেও ১৩, ১৭ রানের ইনিংস ছিল বিপিএলে। মাশরাফি নামের সঙ্গে এই নম্বরগুলো যেন চির চেনা।

মাশরাফি মানে দিনশেষে ছোট্ট একটা ব্যাটিং ঝড়, এটা সবাইই জানে। শুরু থেকেই তিনি এমন। এখনো নিজে নিজে নিজের ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করে উপরে ব্যাট করে নিজের জাত চেনাতে তিনি যেন পরিপক্ক।

২০০১ সালের অনূর্ধ্ব ১৭ এশিয়া কাপ।

কুয়েতের বিপক্ষে যখন সবাই বিকেএসপি তে ভিড় জমালো তার গতির ঝড় দেখার জন্য, তার আগেই তিনি ব্যাটিং ঝড় দেখালেন সবাইকে। করেছিলেন ১৭ বলে ৬০! মাত্র ১৬ মিনিটের একটা ইনিংস।  আট নম্বরে নেমেছিলেন, হাঁকিয়েছিলেন চারটি চার ও ছয়টি ছক্কা।

এতো বললাম বয়সভিত্তিক দলের কথা।

তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মস্তবড় বোলারদেরও ছাড় দেননি। ভারতকে পেলে তিনি একটু বেশিই তেড়ে যান। ২০০৪ এ টানা ৩১*(৩৯) ও ৩৯ (২০) রান ওই ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন। তাছাড়া ৪৪*(১৬) বিপক্ষ কেনিয়া, ৪৩ (৫৩) প্রতিপক্ষ কেনিয়া, ৩০ (২৪) প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা, ৫১*(২৭) প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড, ২৫*(১৭) প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ৪২(২২) প্রতিপক্ষ ভারত, ৩৪(২২) প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৮*(৬) উইন্ডিজ, ৩৯(২৫) জিম্বাবুয়ে, ৪৪(২৯) ইংল্যান্ড, ৩০*(২৫) প্রতিপক্ষ সেই ভারত।

দিনেশ মোঙ্গিয়াকে টানা ৪ ছক্কা মারার কথা ভোলার নয়। বিপিএলে কুমিল্লার হয়ে পাঁচে নেমে ৫৬* করার কথাও সবার জানা। এতো বললাম তার কিছু মাঝারি মানের ঝড়ের কথা। এর দু চার বলে দশ পনের করার কথা না ই বা বললাম।

তিনি যে পজিশনেই ব্যাট করতে মাঠে নামেন না কেন তখনই হাজারো দর্শকদের ভিতরে অন্যরকম একটা অনুভূতি ছুঁয়ে যায়। শরীরের লোম গুলো দাড়িয়ে যায় তাকে স্যালুট দেওয়ার জন্য। আর প্রথম দু এক বলে একটি বাউন্ডারি হলেই যেন গ্যালারিতে গর্জন শুরু হয় এ্যাটম বোম্ব বিস্ফোরণের মত। তিনি মাশারাফি। আজো খেললেন নিজের সেরা খেলাটা। দলকে জিতাতে তার ওই ব্যাটিং ঝড়ের কোনো বিকল্প ছিলনা।

কখনো মনে হয়নি তিনি টেইলে ব্যাট করেছেন কখনো। বরং মনে হয়েছে তিনিই যেন কোনো বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। এটা দরকার, একটু বেশিই দরকার।

মাশরাফি, আপনি আছেন বলেই টেলিভিশনের সামনে কিংবা মাঠে গিয়ে অনেকে খেলা দেখার আগ্রহ পায়। এভাবেই লড়ে চলো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, শুভকামনা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।