অভিষিক্তদের ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’ যখন বাংলাদেশ

এইডেন মার্করামকে দুর্ভাগা বলতেই হয়। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতে সিনিয়র ওপেনার ডিন এলগারের সাথে ভুল বোঝাবুঝির খেসারত দিতে হল তাকে। এই হতাশা সঙ্গী না হলে হয়তো পচেফস্ট্রমে প্রথমবারের মত সাদা পোশাকে খেলতে নেমেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ফেলতে পারতেন তিনি।

সেটা হলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করাদের ছোট্ট একটা ‘এলিট লিস্টে’ চলে আসতো তার নাম। এই তালিকায় আগে থেকেই আছেন তিনজন। নামগুলো শুনলে বিস্মিতই হবেন!

জ্যাকস রুডলফ (দক্ষিণ আফ্রিকা)

সবার ওপরেও আছেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকান। তিনি হলেন জ্যাক রুডলফ, ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিটা তিনি পেয়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০০৩ সালে চট্টগ্রামের অভিষেকেই তিনি করেছিলেন ২২২ রান। সেই ম্যাচেই বোটা ডিপেনারের সাথে মিলে ৪২৯ রানের বিশ্বখ্যাত এক জুটি গড়েছিলেন তিনি।

ইয়াসির হামিদ (পাকিস্তান)

রুডলফের মত ইয়াসির হামিদের ডাবল সেঞ্চুরি না থাকলেও তার কীর্তিটাও কম ‘ঐতিহাসিক’ নয়। ২০০৩ সালে করাচি টেস্টে অভিষেকেই দুই ইনিংসেই করেছিলেন সেঞ্চুরি (১৭০ ও ১০৫)!  এরপর আরো ২৪ টি টেস্ট খেললেও আর কখনো সেঞ্চুরির দেখা পাননি। অভিষেকের দুই ইনিংসের সেঞ্চুরি করার রেকর্ড এর আগে ছিল কেবল একজনের। তিনি হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের লরেন্স রো। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে কিংস্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ২১৪ ও ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন দুই ইনিংসে।

তৌফিক ওমর (পাকিস্তান

২০০১ সালের মুলতান টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার অভিষেক। পাকিস্তানের রানবন্যার সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন পাঁচ ব্যাটসম্যান। ওপেনার তৌফিক ওমর করেছিলেন ১০৪ রান।

এই তিনজনের বাইরে, মার্করামকে বাদ দিলে আরো ছয়জন ক্রিকেটার অভিষেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে পেয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তারাও বিশ্বখ্যাত কোনো ক্রিকেটার নন।

নাভিদ নওয়াজ (শ্রীলঙ্কা)

না তিনি পাকিস্তানি ক্রিকেটার নন, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। ২০০২ সালে কলম্বোতে অভিষেক টেস্টেই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৭৮ রানের অপরাজিত এক ইনিংস। প্রথম ইনিংসেও ছিল ২১ রান। যদিও, সেটাই তার ক্যারিয়ারের একমাত্র টেস্ট হয়ে গেছে! ওয়ানডে ক্যারিয়ারটাও তার খুব বেশি লম্বা হয়নি। খেলেছিলেন মোটে তিনটি ওয়ানডে।

রবিন পিটারসেন (দক্ষিণ আফ্রিকা)

২০০৩ সালে সেবার বাংলাদেশ সফরে এসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ঢাকা টেস্টে লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে ৬১ রান করেন তিনি। ১৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে এরপর আর মাত্র দু’বারই হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন বাঁ-হাতি এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। এই ইনিংসটার ওপর ভর করেই একমাত্র ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল ৩৩০ রান। নিজেদের দুই ইনিংসে বাংলাদেশ করে ১০৮ ও ২১০ রান। হারে এক ইনিংস ও ১২ রানে!

কিথুরিয়ান ভিথানাগে (শ্রীলঙ্কা)

শ্রীলঙ্কান কিথুরিয়ান ভিথানাগের অভিষেক হয় ২০১৩ সালের বিখ্যাত সেই গল টেস্টে। রান বন্যার সেই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেন ৫৯ রান।

মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান)

এই তালিকায় তিনিই সবচেয়ে বিখ্যাত ক্রিকেটার। ২০০৩ সালে করাচি টেস্টে ইনিংসের সূচনা করতে নেমে ৫০ রান করেন তিনি।

ওমর ফিলিপস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ক্যারিয়ারে মাত্র দু’টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। দু’টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০০৯ সালে। বোর্ডের সাথে জটিলতায় সেবার মূল খেলোয়াড়রা কেউ ছিলেন না। আনকোরা এক দল নেমেছিল সাকিবদের বিপক্ষে। প্রথম ইনিংসে ওমর ফিলিপস ৯৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। যদিও, ৯৫ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। সেটাই মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে খেলা বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট।

লিওন জনসন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

২০১৪ সালে গ্রস আইলেটে ক্রিস গেইলের বিকল্প হিসেবে খেলতে নেমেছিলেন। ৬৬ রানের একটা ইনিংসও খেলেছিলেন। এরপর আরো আট টেস্ট খেলে আর মাত্র একবারই হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।