অভিনয় বৈচিত্রের সাত রং ধানুশ

সেটা ২০১২ সালের কথা। হঠাৎ করে জনপ্রিয় হয়ে উঠলো একটা গান – ‘হোয়াই দিস কোলাভেরি ডি’। ইউটিউবে ১০ কোটির ওপরে দর্শক পাওয়া সেটাই প্রথম গান। সেই সৌজন্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে গেল ধানুশের নাম।

তবে, গায়ক নয় ধানুশ যে এর অনেক আগে থেকেই বেশ প্রতিষ্ঠিত একজন নায়ক। শুধু নায়ক বললেও ভুল বলা হবে, ভারতের দক্ষিণী সিনেমাগুলোতে তিনি রীতিমত সুপারস্টার।

অথচ লিকলিকে শরীরের ধানুশকে দেখলে নায়ক বললে মনেই হবে না। তবে অ্যাকশন, কমেডি কিংবা রোমান্টিক – যেকোনো চরিত্রেই মানিয়ে যান দারুণ ভাবে। শ্বশুরমশাই রজনীকান্তের মত ‘অ্যাংরি হিরো’র চরিত্র হলে রীতিমত বাজিমাৎ করেন।

সেই ১৬ বছর বয়সে তিনি আসেন ইন্ডাস্ট্রিতে। সেটা ২০০৪ সাল। ভেঙ্কটেশ প্রভু কাস্তুরি রাজা থেকে তিনি বনে যান ‘ধানুশ’। চেহারায় ‘নায়ক’ ব্যাপারটা ঠিক না থাকলেও তামিল সিনেমায় তিনি সত্যিকারের অলরাউন্ডার। প্রতিভা তো আছেই, একই সাথে তিনি ‘গড গিফটেড’ অভিনয় দক্ষতার অধিকারী।

কাধাল কোনদেইন, পোল্লাধাবান, পাদিক্কাদাভান, ভেল্লাইয়ালাই পাত্থারিসহ অসংখ্য তামিল সিনেমায় তার নানামূখী চরিত্র পেয়েছে দর্শকদের প্রশংসা; আদায় করে নিয়েছে সমালোচকদের সমীহ। শুধু কী দক্ষিণী সিনেমা, হিন্দী ছবি যে ক’টা করেছেন তাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন নিজের সামর্থ্য।

২০১৩ সালে অভিষেক হয় হিন্দি চলচ্চিত্রে, মানে বলিউডে। রানঝানা সিনেমায় সোনাম কাপুরের সাথে সাবলীল অভিনয়ের সুবাদে ৩০ বছর বয়সে গিয়ে ফিল্মফেয়ারের বিবেচনায় সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কার জিতে নেন। অথচ, ততদিনে দক্ষিণী ছবিতে তিনি প্রায় বছর দশেক কাটিয়ে ফেলেছেন।

২০১৫ সালে তাকে দেখা গেছে আর.বাল্কির ‘শামিতাভ’-এ। সেখানে ‘বোবা ফিল্ম স্টার’-এর চরিত্রে কেবল বলিউডের মহারাজা অমিতাভ বচ্চনের সাথে তাল মিলিয়ে অভিনয়ই করেননি, অনেকক্ষেত্রে ছাড়িয়ে গেছেন বিগ বি-কেও।

ধানুশ নিজের বলয়টা কেবল দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। ফরাসী ছবি ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি জার্নি অব ফাকির’-এ তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। ছবিটা কয়েকটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সম্মানিতও হয়েছে।

ধানুশ শব্দের অর্থ রংধনু। রংধনুর সাত রং। রংধনুর রঙের মত ধানুশের অভিনয়ও বৈচিত্রময়। নামের সাথে কাজেও কী দারুণ মিল। তিনবার ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সাতবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়।

অভিনয় বাদে সিনেমার পরিচালক, প্রযোজক, গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার ও কোলা ভেরি ডি’র সৌজন্যে গায়কও হিসেবেও দেখা গেছে ধানুশকে। বাবা কাস্তুরি রাজা ছিলেন তামিল সিনেমার বড় একজন পরিচালক। ভাই সেলভারাঘবনও বড় পরিচালক।

তবে, সিনেমায় নামার একেবারেই আগ্রহ ছিল না। কিন্তু, পরিবারের চাপে বাধ্য হন। চাপে পড়ে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের সুবাদেই ভারত পেয়ে যায় নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভাল অভিনয় জানা ‘নায়ক’দের একজনকে।

শক্তিমান এই অভিনেতার জন্ম ১৯৮৩ সালের ২৮ জুলাই। সুপার স্টার রজনীকান্তের মেয়ে ঐশ্বরিয়াকে বিয়ে করেছিলেন ২০০৪ সালে। বয়স ২৩ হওয়ার আগেই তিনি সংসার জীবনে ঢুকে যান। দুই ছেলে ইয়াত্রা আর লিঙ্গাকে নিয়ে সুখের সংসার তাদের।

ধানুশ এখন খ্যাতির তুঙ্গে। সেই অর্থে নায়ক সুলভ কোনো চেহারা নেই, নেই সিক্স প্যাক। তবুও তিনিই সেরা। যদিও, মজার ব্যাপার হল, একটা সময় অভিনেতা হওয়ার কোনো বাসনাই তাঁর ছিল না।

বরং তিনি চাইতেন বড় শেফ হতে। হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনাও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, বড় ভাই সেলভারাঘাভানের ইচ্ছায় আসেন রুপালি জগতে। বাকিটা তো ইতিহাস!

 

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।