অপেক্ষা || ছোটগল্প

– আপা উঠেন, নিয়া যাই।

– টাকা নেই।

– ভাড়া লাগবো না, তবুও উঠেন।

– একবার বললাম না, যাবো না।

– উঠেন তো,জায়গা মত নিয়া যাবো।

– জায়গামত নিবো মানে? থাপরায়ে দাঁত ফেলে দেয়া উচিৎ, ফাজিল জানো কোনখানকার.. বলেছি তো যাবো না, তারপরও কেন পিছু আসছো? সমস্যা কি তোমার?

– আপা আমি অয়ন…

– অয়ন হও আর নয়ন…

বলেই থমকে যায় পিয়া। মুচকি হেসে রিকশাওয়ালা ছেলেটি নকল মেক আপ তুলতেই দেখা পাওয়া যায় একটি পরিচিত মুখের। অয়ন আর পিয়ার পরিচয় ফেসবুকেই। তবে ভার্চুয়াল আর পাঁচটা গল্পের মত ওদের গল্পটা ফেক নয়… ওরা সত্যি দুজন দুজনকে ভালবাসে।

অয়ন একটু দুষ্টু প্রকৃতির, পিয়া লাজুক। অনেকদিন ধরে পিয়া দেখা করতে চাইলেও অয়নের মাথায় কোন দুষ্টুবুদ্ধি আসছিল না বলে তাল বাহানা করে পিছাচ্ছিল। কাল রাতে হঠাৎই রিকশাচালকের আইডিয়াটা মাথায় আসে। ছুটির টাইম তো জানাই ছিল, প্রিয়মুখ টা খুঁজে পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি অয়নের। তারপর থেকেই জ্বালিয়ে যাচ্ছে পিয়াকে। থমক এবার হালকা অভিমানে রুপ নেয় তার।

– এসব বাঁদরামোর মানে?

– তুমি জানো আমাদের প্রথম দেখা হওয়ার দিনটা সারা জীবন মনে রাখো।

– আমিতো কোন বাঁদরামো করিনি, তারমানে তুমি আমাদের প্রথম দেখা হওয়ার দিনটা ভুলে যাবে।

– তাই বললাম বুঝি?

– হ্যাঁ তাই… আর কোনদিন কথা বলবনা আমি তোমার সঙ্গে।

রাগ করে চলে যাচ্ছে পিয়া, পিছে অয়ন আর তার রিকশা। হঠাৎ ই কিছু বলার জন্য ঘুরে দাঁড়ায় সে, ভুলে যায় ব্যস্ত রাস্তার মাঝপথে ছিল যে। কিন্তু সে ভুলে গেলেও গাড়িগুলো ভুলে যায়নি থেমে যেতে, এমনকি তাকে ধাক্কা দিয়েও থামেনি গাড়িটা। তারপর থেকেই ঠাই হয় তার হাসপাতালের বেডে। সত্যি আর পিয়া কথা বলেনি অয়নের সঙ্গে।

কারন কোমায় যাবার পর সে কেবল শুনতে পায়, বলতে নয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।