অধিনায়ক কেন অভিমানী?

টেস্টের প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি রান তোলার নজীর দেখা গেছে সেই ১৯১০ সালে। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দিনে করেছিলেন ৪৯৪ রান। আর দক্ষিণ আফ্রিকা ব্লুমফন্টেইনে করেছে ৪২৮ রান।

শুরু থেকে শেষ অবধি রান রেট একটু একটু করে বেড়েছে। প্রথম ২৫ ওভার শেষে রানরেট ছিল ৪.১৫, ৫০ ওভার শেষে ৪.৫, ৭৫ ওভার শেষে ৪.৭৫, আর ৯০ ওভার শেষে ৪.৭৬। দিনে পড়েছে মাত্র তিন উইকেট। সকালে টস জিতে বোলিং নেওয়াও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

এত, কিছুর পরও যদি দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম মনে করেন সংবাদ মাধ্যম তাকে বাহবা দেবেন তাহলে সেটাকে বোকামী না মনে করার কোনো কারণ নেই।

‘আমার তো মনে হচ্ছে, টসে জেতাটাই ভুল হয়ে গেছে ভাই। শেষ দুইটা ম্যাচে যা হচ্ছে, জীবনে কখনও এমন হয়নি- মনে হচ্ছে টস হারলেই ভালো হয়।’ – এই কথাটায় অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকের কাণ্ডজ্ঞানহীতনা ও অসহায়ত্বের প্রমাণ হয়।

টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণ লেভেলেও মুশফিকের অবদান যে সামান্য সেটাও বোঝা গেল তার কথায়, ‘আমি একটা ব্যাপার পরিষ্কার করি, আমি ফিল্ডার হিসেবে খুব একটা ভালো না। আমার কোচরা চেয়েছে আমি যেন বাইরে বাইরে ফিল্ডিং করি। কারণ, আমি সামনে থাকলে আমার কাছ থেকে নাকি রান হয়ে যায়। বা আমার হাতে ক্যাচ-ট্যাচ আসলে নাকি ধরার চান্স থাকে না। টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা বলবে, সেটা তো আপনার করতে হবে। আমি চেষ্টা করেছি, বেশিরভাগ সময় বাইরে বাইরে থাকার।’

টিম ম্যানেজমেন্ট বলতে এখানে যে মুশফিক চান্দিকা হাতুরুসিংহেকে বুঝিয়েছেন সেটা বলে না দিলেও চলে। মুশফিকের এমন বক্তব্যের পর আবারো অনেকেই কোচের গুষ্টি উদ্ধার করছেন। কেউ কেউ পদত্যাগ দাবী করছেন। মুশফিকের অপমান হয়েছে, তাকে ছোট করা হয়েছে বলে দাবী করছেন।

আচ্ছা, সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক যা বললেন তাতে কী তার নিজেরই অপমান হল না। তিনি কী আরো একবার বুঝিয়ে দিলেন না যে, তার ব্যক্তিত্ব একেবারেই শুণ্যের কোঠায়। অধিনায়কত্বের ব্যক্তিত্ব না থাকলে তো তার ওপর কোচ নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবেনই। কই, ওয়ানডে দলে, যেখানে মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়ক, সেখানে তো এমন কিছু শোনা যায় না!

কোচের পুতুল হয়ে অধিনায়কত্ব করা যায় না। এই পুতুলের জাল ছেড়ার কাজটাও মুশফিকের। কোথায় মুশফিক সেটা করায় মনে দেবেন। না, তিনি তো সংবাদ মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করায় ব্যস্ত। বাকিদের ব্যর্থতার দায়ও এমনভাবে নিচ্ছেন যেন, অভিমান প্রকাশ করছেন।

অভিমান দিয়ে টেস্টের অধিনায়কত্ব করা যায় না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।