অদ্ভুত তবে, বাস্তবধর্মী

আপনার বিয়ের কথাবার্তা পাকা, যে মেয়েটির সঙ্গে জীবনের গাঁটছাড়া বাঁধতে যাচ্ছেন, তাকে খুব পছন্দও করেন আপনি, সে’ও পছন্দ করে আপনাকে। আনুষ্ঠানিকতার আগে এই স্বল্প সময়টুকু চুটিয়ে প্রেম করে কাটাচ্ছেন দুজনে- ঠিক এই সময়েই যদি হুট করে আপনি জানতে পারেন ব্যক্তিগত দুর্বলতার কথা, যেটা আপনার বিবাহিত জীবনের জন্যে হুমকি হয়ে আসতে পারে, তখন কি করবেন আপনি?

এই অদ্ভুত, কিন্ত বাস্তব সমস্যা নিয়েই দক্ষিণী পরিচালক আর প্রসন্নে’র সিনেমা- ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’! ভিকি ডোনারের পর আয়ুশমান খুরানার আরেকটি ‘বিলো দ্য বেল্ট’ স্ক্রীপ্টের কাজ, দম লাগা’কে হাইশা’র দুই বছর বাদে সিলভার স্ক্রীনে আয়ুশমান-ভূমি জুটির কামব্যাক ফিল্ম এই শুভ মঙ্গল সাবধান!

এই একই গল্পে নির্মিত হয়েছিল তামিল সিনেমা ‘কল্যানা সামায়ল সাধাম’, সেটারই হিন্দি রিমেক শুভ মঙ্গল সাবধান। দু’টো সিনেমার পরিচালক একই। বলিউডের আর পাঁচটা সিনেমা থেকে একদম আলাদা একটা ঘরানার গল্প। আনন্দ এল রাই’য়ের প্রযোজনা, সিনেমার সেটের দিকে তাকালেই ওর ছাপটা বোঝা যায়। সিনেমা দেখার সময় ভাবছিলাম, এটার কাহিনীও কি জুহি চতুর্বেদী লিখেছেন নাকি! ভিকি ডোনার, পিকু- সব বিলো দ্য বেল্টের কাজকর্ম তো উনারই।

কাহিনীর দিকে যাবো না, অনেকেই জানেন, অনেকে জানেন না। যারা জানেন না, তাদের মজাটা নষ্ট করার মানে নেই কোন, হিন্টস তো সামান্য দেয়াই আছে। সুন্দর গল্পের ওপর পরিচ্ছন্ন নির্মাণ খুব বেশী দেখা যায় না, কোথাও না কোথাও ঝুলে যায়ই। শুভ মঙ্গল সাবধান সেসব থেকে মোটামুটি মুক্ত। এই সিনেমার সবচেয়ে বড় সম্পদ যেটা, অবশ্যই হাস্যরস। সোশ্যাল মেসেজ টেসেজ ভুলে যান, সেসব সিনেমা থেকে তেমন কেউ নেয় না।

অজস্র জায়গায় ছোটখাটো দৃশ্যে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা হবে, বাজী ধরে বলতে পারি এটা। পরিচালক সাইনিং ল্যাঙ্গুয়েজের সফল প্রয়োগ করেছেন বেশ কিছু জায়গায়, বিস্কিট ভেঙে পড়া কিংবা রকেট যাত্রার দৃশ্য- এই ব্যপারগুলো অন্যরকম লেগেছে দেখতে।

বলিউড ইদানিং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের দিকে খুব নজর দিচ্ছে দেখা যাচ্ছে, সিনেমার মিউজিক খুব আহামরি কিছু নয়, আমার তেমন ভালো লাগেনি, কিন্ত ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর মন ছুঁয়ে গেছে। আয়ুশমানের অভিনয় ভালোই, ভূমিরটা আরও ভালো- কিন্ত দুজনেই টাইপকাস্ট অ্যাক্টরে পরিণত হচ্ছেন কিনা, এই ভাবনাটা মাথায় চলে এলো। আয়ুশমান সেই ভদ্র ভব্যসভ্য আলাভোলা চরিত্রে কি মজা খুঁজে পান কে জানে!

চকলেট বয় টাইপের ইমেজটা ভাঙা উচিত ওর। দম লাগা’কে হাইশা’য় ভূমি অভিনয় কিংবা বডি ট্রান্সফরমেশনের যে চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলেন, সেটার দেখা মেলেনি পরের দুই সিনেমার কোনটাতেই। একঘেয়ে চরিত্রে ডুবে না যাওয়ার ব্যপারটা ওরও মাথায় রাখা উচিত। ভূমির মায়ের চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন উনার নাম সীমা ভার্গাভা বা এই টাইপের কিছু, এই মহিলা ফাটিয়ে অভিনয় করেছেন। একেকটা ডায়লগ বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা হয়েছে।

এরমাঝেও প্রেম আছে, আবেগ আছে, রাগ-অভিমান কিংবা খুনসুটিও আছে। সবকিছু মিলেই শুভ মঙ্গল সাবধান। শেষদিকে পরিচালকের তাড়াহুড়ো ভালো লাগেনি; যেভাবে হোক, সিনেমা শেষ করতে হবে এজন্যে একটা ক্লাইমেক্স বানিয়ে ফেললাম টাইপের একটা ব্যপার মনে হলো। আনন্দ এল রাইয়ের সিনেমায় জিমি শেরগিল থাকবেন না, সেটা অসম্ভব। ক্যামিও রোলে ঠিকই হাজির করা হয়েছে ওকে, কিন্ত কেন, কি প্রয়োজনে- কিছুই বোঝা যায়নি। শেষের দশ মিনিট বাদ দিলে বলিউডে ২০১৭ সালে আমার দেখা সেরা বিনোদনমূলক সিনেমা অবশ্যই শুভ মঙ্গল সাবধান।

ব্যক্তিগত কথন

দম লাগা’কে হাইশা’র সেই মোটাসোটা গোলগাল ভূমিকেই খুব ভালো লেগেছিল, এরপর থেকে টয়লেট: এক প্রেম কাথা কিংবা শুভ মঙ্গল সাবধান- এই মেয়ে যা করে তা’ই ভালো লাগে। রাগে মুখ ব্যাজার করে রাখলে ভালো লাগে, জিভ বের করে ভেঙচি দিলে ভালো লাগে, তাকে আনাড়ির মতো চুমু খেতে দেখলেও ভালো লাগে… ভূমি একটি ভালোবাসার নাম!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।