অথচ এই নাসির নাকি চলে না!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার যোগ্যতা নেই নাসির হোসেনের! মুমিনুল হককে দিয়ে টেস্টের বাইরে কিছু হবে না! এরকমটাই নাকি মনে করেন চান্দিকা হাতুরুসিংহে! দক্ষিণ আফ্রিকা সফর চলার সময়ই এই উপসংহারে পৌঁছে গেছেন বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কান কোচ! ক’দিন আগে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এমন খবর।

চান্দিকার দৃষ্টিতে ‘বাতিল’ সেই নাসির হোসেনই চমক দেখাচ্ছেন বিপিএলে! জানান দিচ্ছেন, সময়টা কিছু খারাপ গেলেও পুরোপুরি ফুরিয়ে যাননি। অসাধারণ অধিনায়কত্ব করে আন্ডারডগ সিলেটকে এনে দিয়েছেন টানা দুই জয়। তাও আবার টূর্ণামেন্টের হট ফেবারিট বর্তমান শিরোপাধারী ঢাকা ডায়নামাইটস ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে!

দুই ম্যাচেই বল হাতে ওপেনিং করে বিস্ময় জাগিয়েছেন নাসির। শুধু তাই নয়, অফস্পিনের ক্যারিশমা দেখিয়ে দলকে এনে দিয়েছেন প্রথম ব্রেক থ্রু! নাসিরের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ের কারনেই উভয় ম্যাচে সিলেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল নাগালের মধ্যে। ঢাকার সঙ্গে ৪ ওভারে সাকুল্যে ২১ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট। কুমিল্লার বিপক্ষে ১ উইকেট নিতে খরচ করেছেন মাত্র ১৮ রান। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে নামতে হয় নি। তবে কুমিল্লার বিপক্ষে ২০ বলে ১৮ রান করে দলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন নাসির।

প্রথম তিন বিপিএল আইকন হিসেবে খেললেও গতবার সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন নাসির। ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে শিরোপা জয়ের পথে ১৪ ম্যাচে করেছিলেন ১৯৫ রান ও নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। এমন সাদামাঠা পারফরম্যান্সের কারণে ঢাকা তাকে দলে ধরে রাখার প্রয়োজন মনে করেনি। এবার সিলেটের জার্সি গায়ে কীনা প্রথম ধাক্কাটা দিলেন সেই ঢাকাকেই! নাসিরের হাতে ধরাশায়ী হলেন সাকিব!

সবচেয়ে বড় কথা, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে নাসির যে দলকে উপর্যুপরি জয় এনে দিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন; সেই সিলেট সিক্সার্স আসর শুরুর পূর্বে শক্তিমত্তার সার্বিক বিবেচনায় শেষ দুটি দলের একটি হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছিলো!

চট্টগ্রাম বাদে অন্য দলগুলো যেমন আগেই অধিনায়ক নির্বাচিত করে দল সাজিয়েছে, সিলেট তেমনটা করে নি। বলতে গেলে অনেকটা বাধ্য হয়েই শেষ মুহুর্তে নেতৃত্বের ভার তুলে দিয়েছে নাসিরের হাতে। গত প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে গাজী গ্রুপকে শিরোপা এনে দেয়া নাসির এখন বিপিএলের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র!

জাতীয় দলে ২০১১ সালে অভিষেকের পর খুব তাড়াতাড়ি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক পারফরমার হয়ে উঠেছিলেন নাসির। শেষের দিকে নেমে দারুণসব কার্যকরী ইনিংস খেলার কারণে উপাধি পান ‘দ্য ফিনিশার’। কিন্তু হাতুরুসিংহে কোচ হয়ে আসার পর থেকেই কেন যেন তার ক্যারিয়ারে চলতে শুরু করে ভাটার টান!

দল থেকে বাদ পড়ে অনেকদিন পর যাওবা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দুটো ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেলেন, বলার মতো কিছু করতে পারেন নি নাসির। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটো টেস্টেও পুরোপুরি নিস্প্রভ ছিলেন। তাই বলে নাসিরের মতো একজন পরীক্ষিত তারকাকে এভাবে ‘বাতিল’ ঘোষণা করে দেয়াটা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত কোচের, সেই বিতর্কে নিশ্চিতভাবেই ঘি ঢালবে বিপিএলের পারফরম্যান্স!

এমন নয় যে, এখনই শিরোপা জিতে গেছে সিলেট; কিংবা নাসিরও অবিশ্বাস্য কোনো নৈপূণ্য দেখিয়েছেন! তবে তার অধিনায়কত্বের চতুরতা ও বিচক্ষণতা এবং বল হাতে কার্যকারিতার প্রশংসা না করে উপায় নেই। টানা দুই জয়ে হয়তো বিশাল কিছু করে ফেলেনি সিলেট, তবে সমর্থকদের স্বপ্নের পালে নিশ্চিতভাবেই লাগাতে পেরেছে দমকা হওয়া!

সব‌চে‌য়ে বড় কথা, দারুণ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে নাসিরকে। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে পুরনো দিনের আভাস! কে জানে, এই বিপিএল দিয়েই নাসিরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পায় কী না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।