অতি কাকতালীয় জমজ

সহোদরদের বেলায় আমরা দেখে এসেছি, আর কিছু না হোক অন্তত পারিবারিক পদবীটা এক হয়। জন্মের পরই আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে জিম স্প্রিঙ্গার ও জিম লুইসের সেই সুযোগটা ছিল না।

তবে, তাদের জীবনে যেসব মিল খুঁজে পাওয়া যাকে তাকে কাকতালীয় বললেও কম বলা হয়। পদবী না হলেও, তাদের মূল নাম একই। আবার পরবর্তী জীবনে মিনেসোটার এই দুই ভাই নিজেদের ছেলের নাম রেখেছেন জেমস।

জীবনের বড় একটা সময় তাদের জানানো হয়নি যে, তাদের একজন জমজ ভাই আছে। জন্মের চার সপ্তাহ পর তাদের ভিন্ন দু’টি আমেরিকান পরিবার দত্তক নেয়।

৩৯ বছর বয়সে তারা প্রথম সত্যটা জানতে পারেন। এর আগে স্প্রিঙ্গার আট বছর বয়সে জানতে পারেন তার জমজ ভাইয়ের কথা। তবে, তাকে বলা হয় জন্মের সময়ই ভাইটি মারা গেছে। আর লুইস জানতেন পাঁচ বছর বয়স থেকে, তবে কখনো তিনি ভাইয়ের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি।

১৯৭৭ সালে এসে সব বদলে যায়। ৩৭ বছর বয়সী লুইস ভাইয়ের খোঁজ করা শুরু করেন। অনেক জোল ঘোলার পর যেখানে স্প্রিঙ্গার থাকতেন, তার ঠিকানা খুঁজে পান। দুই ভাই ফোনে কথা বলেন।

কথা বলতে গিয়ে দু’জনেরই গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। প্রচণ্ড নার্ভাস হয়ে যাচ্ছিলেন। তবে, দু’জনেই দেখা করতে মুখিয়ে ছিলেন। ১৯৭৯ সালে অবশেষে জন্মের ৩৯ বছর পর প্রথমবারের মত দেখা হয় দুই ভাইয়ের – নি:সন্দেহে দিনটি ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলোর একটি।

তবে, এত আবেগের মধ্যে আবিষ্কৃত হয় এক গাদা কাকতালীয় ঘটনা। পুনর্মিলনীর সময় দু’জনের উচ্চতাই ছিল কাটায় কাটায় ৬ ফুট, ওজনও হুবহু এক – ১৮০ পাউন্ড।

আস্তে আস্তে বোঝা যায়, এখানেই শেষ নয় – আরো আছে।

স্প্রিঙ্গার ও লুইস দু’জনই থাকতেন ওহিওতে, দু’জনের মধ্যে দূরত্ব ছিল মোটে ৪৫ মাইলের। দু’জনেরই কুকুর পোষার শখ ছিল। দু’জনের কুকুরের নামই ‘টয়’।

এক ভাই দু’বার ও আরেকজন তিনবার করে বিয়ে করেন। দু’জনের প্রথম স্ত্রীর নাম লিন্ডা, দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম বেটি। দু’জনেরই ‘জেমস অ্যালেন’ নামের ছেলে সন্তান ছিল।

জিম ভাইয়েরা লাইট ব্লু শেভরোলেটস গাড়ী চালাতেন। ফ্লোরিডার প্যাস গ্রিল সমুদ্র সৈকতে পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে যেতেন। নিজেদের স্ত্রীদের দু’জনই প্রচণ্ড ভালবাসতেন। পুরো বাড়ি জুড়ে ‘লাভ নোট’ লিখে রাখতেন!

দুই ভাই-ই ওহিওর ভিন্ন দুটি জায়গায় শেরিফের চাকরী পান। দু’টো পদই ছিল খণ্ডকালীন। দুই ভাই ছিলেন চেইন স্মোকার। সালেম সিগারেট ফুকতেন, মিলার লাইটের বিয়ার পান করতেন। বিস্ময়কর ব্যাপার!

বদভ্যাসে আরো মিল ছিল দু’জনের মধ্যে। দু’ভাই-ই দাঁত দিয়ে নখ কামড়াতেন। দু’জনেরই মাইগ্রেনের ব্যাথা হত।

দু’জনের মধ্যে ভিন্নতাও আছে। দু’জন আলাদা ঢঙে চুল আচড়াতেন। একজনের সুন্দর বাচনভঙ্গী ছিল, আরেকজন ভাল লিখতে পারতেন।

বিহেভিওরাল সাইন্সে এই দুই ভাইকে রীতিমত রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. থমাস বুচার্ড এই দু’জনকে নিয়ে গবেষণাও করেছেন। ফলাফলগুলো এতটাই একই রকম ছিল যে মনে হচ্ছিল একই ব্যক্তিই আলাদা ভাবে দু’টো পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মেডিকেল হিস্টোরি ও ব্রেন-ওয়েভ টেস্টের ফলাফলও ছিল ‘আইডেন্টিকাল’। একেই হয়তো বলে টেলিপ্যাথির যোগাযোগ!

– ব্রাইট সাইড, হাউজ অব ওয়ার্ক ও আএফএল মাই লাইফ অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।