ওদের অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজ, আমাদের মাহফুজ

ব্রিটিশ পত্র-পত্রিকা গুলো যেদিন মহা আনন্দে খবর প্রকাশ করেছে- ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি এবার ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং এ পুরো পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মাঝে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, সেই দিন আমরা বাংলাদেশিরা ব্যাস্ত ছিলাম টেলিভিশনে মাহফুজুর রহমানের গান নিয়ে!

আমি অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পর্যন্ত এই নিয়ে হাসাহাসি এবং সমালোচনা করছে!

তাদের এই হাসাহাসি কিংবা সমালোচনা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। তবে আপনাদের জানিয়ে রাখি, পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ওই র‌্যাংকিং এ বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে স্থান করে নিতে পারেনি।

গত কয়েক বছর ধরেই ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং কর্মকর্তারা ক্রমাগত নিজেদের সমালোচনা করে গেছেন। এর কারণ হচ্ছে অ্যামেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তাদের ছাপিয়ে প্রথম দ্বিতীয় স্থান করে নিচ্ছিলো। অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের নিয়ে সমালোচনা করার ফলাফল হচ্ছে- তারা এখন পৃথিবীর সেরাদের তালিকায় এক এবং দুই নম্বরে আছে।

আর আমাদের সেরা ইউনিভার্সিটি গুলোর শিক্ষক, কর্মকর্তা’রা কি করে?

তারা ব্যাস্ত কিভাবে নিজেদের জাহির করা যায় সেটা নিয়ে!- ‘আমি’ই সেরা, দেশের অন্য কোথাও আবার পড়াশুনা হয় নাকি!’; এই হচ্ছে আমাদের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মনোভাব! অথচ পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর র‌্যাংকিং-এ ১২ লাখ জনসংখ্যার এস্তনিয়ার দুটো বিশ্ববিদ্যালয় সেরা ৬০০ এর মাঝে স্থান পাচ্ছে (যার একটাতে আমি নিজেই এখন পড়াচ্ছি)।

শুধু তাই না, আফ্রিকার অতি দরিদ্র দেশ গুলোর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোও স্থান পায়। আর ১৬ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে সেখানে হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না!

তবে অন্যের সমালোচনা করতে আমাদের জুড়ি মেলা ভার! আমরা কবে বুঝতে শিখবো পৃথিবীর সভ্য এবং উন্নত দেশ গুলো সভ্য এবং উন্নত হয়েছে অন্যের সমাচলোনা করে নয়, বরং নিজেদের সমালোচনা করে।

– ফেসবুক থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।