অক্ষয় কুমার: ‘দ্য আউটসাইডার’ থেকে ‘দ্য বেস্ট’

বলিউডের প্রথম সারিতে আসতে তাঁর সাধনার সাথে অন্য কোনো কিছুর তুলনা চলে না। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, অক্ষয় কুমারকে বলিউড স্রেফ একজন আউটসাইডার হিসেবেই দেখতো। কোনো রকম প্রতিভার বালাই নেই, স্টার কিডও নন, থিয়েটার থেকেও আসেননি, খুব বেশি অভিনয়ও জানেন না – এমন একজনকে আর যাই হোক মূল ধারার প্রথম শ্রেণিতে এত সহজে স্থান দেওয়া যায় না।

কিন্তু, অক্ষযের জীবনের উত্থান পতনের কাছে বলিউডের এই লড়াই তো খুবই সামান্য। ১৯৬৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাবের অমৃতসর এলাকায় জন্ম নেন তিনি। জন্মের পর থেকে কি না করেছেন তিনি। কখনো দিল্লী, কখনো মুম্বাই, কখনো সিঙ্গাপুর। কখনো মেয়েদের পটানোর জন্য মার্শাল আর্ট শিখেছেন, পেট চালানোর জন্য মার্শাল আর্টের দীক্ষা দিয়েছেন।

কখনো বাবুর্চি হয়ে কাজ করেছেন ঢাকার পূর্বানী হোটেলে। কখনো বা টুকটাক মডেলিং করেছেন। আজ যিনি অর্থের সাগরে ভাসছেন এক সময় সেই অক্ষয় কুমারই সামান্য একটা পোর্ট ফোলিও বানানোর জন্য এক ফটোগ্রাফারে স্টুডিওতে ১৮ মাস বিনা বেতনে কাজ করেছেন।

সেখান থেকে মডেলিংয়ের দুনিয়ায় এসেছেন। ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হয়ে কাজ করেছেন বলিউডে। ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ সিনেমার জন্য অডিশন দিয়ে বাদ পড়েন। শুটিং ইউনিটের ছোট ছোট পদে কাজ করেছিলেন। পরিচালক-প্রযোজকদের দুয়ারে কড়া নেড়েছেন, কেউ কাজ দেননি।

অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর ১৯৮৭ সালে মহেশ ভাটের ‘আজ’ সিনেমায় ছোট্ট একটা রোল করেন। পুরোদস্তর নায়ক চরিত্র পেতে কেটে যায় আরো চারটি বছর। ১৯৯১ সালে মুক্তি পায় ‘সুগন্ধ’।

যদিও, অক্ষয়ের সাইন করা প্রথম সিনেমার নাম ছিল ‘দিদার’। এই সময় থেকে রাজিব ভাটিয়া নাম পরিবর্তন করে তিনি বনে যান ‘অক্ষয় কুমার’।

না, এরপরের রাস্তাটাও মসৃন ছিল না। খিলাড়ি সিরিজ আর মার্শাল আর্ট জানার সুবাদে ভারতের জ্যাকি চ্যান উপাধি পেলেও গাদাখানেক সিনেমা ফ্লপ হতে লাগলো নব্বই দশকে। সেই ফ্লপের মিছিল শেষ করতে করতে এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে যায়।

বলা যায়, ২০১২ সালে এসে তিনি চলে আসেন বলিউডের প্রথম কাতারে। সেসময় থেকে এখন অবধি অক্ষয় কুমার অভিনীত নয়টা সিনেমা শতকোটির ক্লাবে নাম লিখিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন ২৯ টি ক্লিন হিট।

আসছে সময়ে নি:সন্দেহে এই সংখ্যাটা বাড়বে। কারণ, মুক্তির অপেক্ষায় আছে তাঁর রোবট ২.০ কেসারি, হাউজফুল ৪ ও মগুল। হেরা ফেরি ৩-এর কাজও শুরু করবেন। এখনই তিনি খানদের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। সেদিন বুঝি খুব দূরে নয়, যেদিন খানদের ছাড়িয়ে যাবেন। ঢাকার পূর্বানী হোটেলের বাবুর্চিঘরে বসে কি আদৌ কোনো দিন এই দিনের স্বপ্ন দেখেছিলেন অক্ষয়?

শতকোটির ক্লাবে অক্ষয়

  • রাউডি রাঠোর (২০১২) -১৩৩.২৫ কোটি
  • হাউজফুল ২ (২০১২) – ১০৬ কোটি
  • হলিডে (২০১৪) – ১১২.৪৫ কোটি
  • এয়ারলিফট ( ২০১৬) – ১২৮.১০ কোটি।
  • হাউজফুল ৩ ( ২০১৬) – ১০৯.১৪ কোটি
  • রুস্তম (২০১৬) – ১২৭.৪৯ কোটি
  • জলি এলএলবি (২০১৭) – ১১৭ কোটি
  • টয়লেট ( ২০১৭) – ১৩৪.২২ কোটি
  • গোল্ড (২০১৮) – ১০১.৩১ কোটি

সম্প্রতি ফোর্বস ম্যাগাজিন বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া শীর্ষ ১০ অভিনেতার নাম প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আছেন কেবল দু’জন – অক্ষয় কুমার (সপ্তম) ও সালমান খান (নবম)। গেল বছর পারিশ্রমিক থেকে অক্ষয়ের মোট আয় সাড়ে ৪০ মিলিয়ন ডলার, আর সালমানের সাড়ে ৩৮ মিলিয়ন ডলার।

কনটেন্টবহুল সিনেমা তো বছরে একের পর এক মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেই, তার সাথে বিজ্ঞাপনেও কাজ করে যাচ্ছেন আক্কি। অভিনয় জানেন না, রোমান্টিক সিনেমায় তিনি চলেন না, কেবল অ্যাকশনটাই জানেন – এমন দুর্নাম একটা সময় ছিল তাঁর। সেসব কাটিয়ে উঠেছেন। এখন অক্ষয় মানেই কনটেন্টবহুল সিনেমা।

হ্যা, আজো তিনি অন্য যেকোনো শীর্ষ তারকাদের চেয়ে বেশি সিনেমা করেন। চাহিদা থাকলে করবেন নাই বা কেন! ইন্ডাস্ট্রিতে তিনিই তো এখন ‘দ্য বেস্ট’। দম ফেলার ফুরসৎ নেই বললেই চলে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।